
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবার শুধু সামরিক ঘাঁটি বা জ্বালানি অবকাঠামো নয়, রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের (Wildberries) গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং হাজারো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ওপর যুদ্ধের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই থেকে প্রায় প্রতি রাতেই রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে হামলা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি গুদাম লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ড, বিপুল পরিমাণ পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি এবং দেশটির বিস্তৃত সরবরাহ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্সের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোম্পানিটির অন্তত ১১ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটার গুদাম এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এটি ওয়াইল্ডবেরিজের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতার পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও বেশি। শুক্রবারও নতুন করে একটি গুদামে হামলার তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অংশীদার খুঁজছে তারা।
ব্যবসা-বাণিজ্যে যুদ্ধের প্রভাব আরও গভীর
রাশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রায় ৯৮ হাজার পিক-আপ পয়েন্টের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য সরবরাহ করে ওয়াইল্ডবেরিজ। এসব কেন্দ্রের একটি পরিচালনা করেন মস্কোর উদ্যোক্তা ভাসিলি ক্লিমভ।
তিনি জানান, হামলা শুরুর আগে প্রতিদিন তার কেন্দ্রে প্রায় ৪০০টি পার্সেল পৌঁছাত। এখন সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১৫০টিতে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার রয়টার্সের প্রতিনিধিরা তার দোকান পরিদর্শনে গেলে সেখানে একটি পার্সেলও পৌঁছায়নি।
ক্লিমভ বলেন, গত এক মাসে তার বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে এবং পুরো সময়টাই লোকসানে কেটেছে। পর্যাপ্ত আর্থিক সঞ্চয় না থাকায় তিনি ব্যবসাটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রেতা না পেয়ে একপর্যায়ে মজা করে এক রয়টার্স প্রতিবেদকের কাছেই মাত্র ১ রুবলে ব্যবসাটি বিক্রির প্রস্তাব দেন।
এদিকে অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যাভিটো-তে বুধবার পর্যন্ত সারা রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের তিন হাজার ১০০টিরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি পিক-আপ পয়েন্ট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।
ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধের মূল্য রাশিয়াকেও দিতে হবে
গুদামগুলোতে হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেন বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে না। বরং এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের প্রভাব সাধারণ রুশ নাগরিকের কাছেও পৌঁছে দেওয়া এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মূল্য মস্কোর জন্য আরও বাড়িয়ে তোলা।
কিয়েভের দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজ শুধু সাধারণ ভোগ্যপণ্যই নয়, নাইট ভিশন গগলস, গোলাবারুদের পাউচ, সামরিক হেলমেটসহ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সরঞ্জামও বিক্রি করে, যা রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়ক।
তবে ওয়াইল্ডবেরিজ ও ক্রেমলিন উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি রুশ সেনাবাহিনীকে কোনো ধরনের সরবরাহ দেয় না।
অন্যদিকে রাশিয়াও পালটা হামলা অব্যাহত রেখেছে। চলতি সপ্তাহে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক গুদামে রুশ হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। মস্কোর দাবি, ওই গুদামগুলোতে ড্রোনের যন্ত্রাংশ এবং সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত 'ডুয়াল-ইউজ' পণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
রাশিয়ার অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে
ওয়াইল্ডবেরিজসহ অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতির প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সমমূল্যের পণ্য ও সেবার লেনদেন হয়। ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এলভিরা নাবিউলিনা বলেছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় এই বিঘ্ন মূল্যস্ফীতি বাড়ায় কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস এবং কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ এলিনা রিবাকোভা বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি এ বছর প্রায় স্থবির অবস্থায় থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনও বেশি। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন ধাক্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে ধীর করে দিতে পারে, এমনকি তা স্থগিতও হতে পারে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক সবারব্যাংক জানিয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে অনলাইন বিক্রেতাদের ঋণের মান দুর্বল হওয়ায় তাদের ঋণঝুঁকির জন্য অতিরিক্ত সংরক্ষণ বাড়াতে হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করেছে।
ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাও এই হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে দেউলিয়ার ঢেউ তৈরি হতে পারে। বিক্রেতাদের সহায়তায় প্রয়োজন হবে শত শত বিলিয়ন রুবল, যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার ওয়াইল্ডবেরিজকে সহায়তার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ, কর ছাড় এবং ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
বিক্রেতাদের ক্ষতি বাড়ছেই
ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, তাদের ৯৫ শতাংশ অর্ডার পিক-আপ পয়েন্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত ছাড়, অর্থ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ হাজারের বেশি বিক্রেতাকে প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েছে।
তবুও অনেক ব্যবসা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড ফিন ফ্লেয়ার জানিয়েছে, জুলাইয়ে মস্কোর পূর্বাঞ্চলের ইলেকট্রোস্তাল গুদামে ড্রোন হামলার আগুনে তাদের ১০ কোটিরও বেশি রুবল মূল্যের পণ্য পুড়ে গেছে। ফলে মজুত কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াইল্ডবেরিজের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করছে।
তবে সবাই এতটা আশাবাদী নন। হাতে তৈরি টফি প্রস্তুতকারক আন্না স্তারোস্তিনা বলেন, ১৮ জুলাইয়ের প্রথম দিকের এক হামলায় তার ১৭০ বাক্স মিষ্টি নষ্ট হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘আমি ক্ষতিপূরণের ওপর নির্ভর করছি না। পরে হতাশ হতে চাই না।’
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান হামলা-পালটা হামলার মধ্যে এবার বেসামরিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোও সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রে চলে এসেছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই দুই পক্ষ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করার কৌশলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে। এবার শুধু সামরিক ঘাঁটি বা জ্বালানি অবকাঠামো নয়, রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের (Wildberries) গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন। এতে রাশিয়ার ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহ ব্যবস্থা এবং হাজারো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ওপর যুদ্ধের প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই থেকে প্রায় প্রতি রাতেই রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামগুলোতে হামলা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ২০টি গুদাম লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এসব হামলায় বড় অগ্নিকাণ্ড, বিপুল পরিমাণ পণ্যের ক্ষয়ক্ষতি এবং দেশটির বিস্তৃত সরবরাহ নেটওয়ার্কে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
রয়টার্সের স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কোম্পানিটির অন্তত ১১ লাখ ৮০ হাজার বর্গমিটার গুদাম এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এটি ওয়াইল্ডবেরিজের মোট সংরক্ষণ সক্ষমতার পাঁচ ভাগের এক ভাগেরও বেশি। শুক্রবারও নতুন করে একটি গুদামে হামলার তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন সংরক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য অংশীদার খুঁজছে তারা।
ব্যবসা-বাণিজ্যে যুদ্ধের প্রভাব আরও গভীর
রাশিয়া ও প্রতিবেশী দেশগুলোতে প্রায় ৯৮ হাজার পিক-আপ পয়েন্টের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার করা পণ্য সরবরাহ করে ওয়াইল্ডবেরিজ। এসব কেন্দ্রের একটি পরিচালনা করেন মস্কোর উদ্যোক্তা ভাসিলি ক্লিমভ।
তিনি জানান, হামলা শুরুর আগে প্রতিদিন তার কেন্দ্রে প্রায় ৪০০টি পার্সেল পৌঁছাত। এখন সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১৫০টিতে নেমে এসেছে। মঙ্গলবার রয়টার্সের প্রতিনিধিরা তার দোকান পরিদর্শনে গেলে সেখানে একটি পার্সেলও পৌঁছায়নি।
ক্লিমভ বলেন, গত এক মাসে তার বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে এবং পুরো সময়টাই লোকসানে কেটেছে। পর্যাপ্ত আর্থিক সঞ্চয় না থাকায় তিনি ব্যবসাটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্রেতা না পেয়ে একপর্যায়ে মজা করে এক রয়টার্স প্রতিবেদকের কাছেই মাত্র ১ রুবলে ব্যবসাটি বিক্রির প্রস্তাব দেন।
এদিকে অনলাইন মার্কেটপ্লেস অ্যাভিটো-তে বুধবার পর্যন্ত সারা রাশিয়ায় ওয়াইল্ডবেরিজের তিন হাজার ১০০টিরও বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি পিক-আপ পয়েন্ট বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা গেছে।
ইউক্রেনের দাবি, যুদ্ধের মূল্য রাশিয়াকেও দিতে হবে
গুদামগুলোতে হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেন বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে না। বরং এসব হামলার উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধের প্রভাব সাধারণ রুশ নাগরিকের কাছেও পৌঁছে দেওয়া এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মূল্য মস্কোর জন্য আরও বাড়িয়ে তোলা।
কিয়েভের দাবি, ওয়াইল্ডবেরিজ শুধু সাধারণ ভোগ্যপণ্যই নয়, নাইট ভিশন গগলস, গোলাবারুদের পাউচ, সামরিক হেলমেটসহ যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য বিভিন্ন সরঞ্জামও বিক্রি করে, যা রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়ক।
তবে ওয়াইল্ডবেরিজ ও ক্রেমলিন উভয়ই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি রুশ সেনাবাহিনীকে কোনো ধরনের সরবরাহ দেয় না।
অন্যদিকে রাশিয়াও পালটা হামলা অব্যাহত রেখেছে। চলতি সপ্তাহে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় বাণিজ্যিক গুদামে রুশ হামলায় অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন। মস্কোর দাবি, ওই গুদামগুলোতে ড্রোনের যন্ত্রাংশ এবং সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত 'ডুয়াল-ইউজ' পণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
রাশিয়ার অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে
ওয়াইল্ডবেরিজসহ অন্যান্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে রাশিয়ার অর্থনীতির প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ সমমূল্যের পণ্য ও সেবার লেনদেন হয়। ফলে এই প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর এলভিরা নাবিউলিনা বলেছেন, সরবরাহ ব্যবস্থায় এই বিঘ্ন মূল্যস্ফীতি বাড়ায় কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের পিটারসন ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিকস এবং কিয়েভ স্কুল অব ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ এলিনা রিবাকোভা বলেন, রাশিয়ার অর্থনীতি এ বছর প্রায় স্থবির অবস্থায় থাকলেও মূল্যস্ফীতি এখনও বেশি। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় এমন ধাক্কা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার কমানোর পরিকল্পনাকে ধীর করে দিতে পারে, এমনকি তা স্থগিতও হতে পারে।
জুলাইয়ের শেষ দিকে রাশিয়ার বৃহত্তম ব্যাংক সবারব্যাংক জানিয়েছে, ড্রোন হামলার কারণে অনলাইন বিক্রেতাদের ঋণের মান দুর্বল হওয়ায় তাদের ঋণঝুঁকির জন্য অতিরিক্ত সংরক্ষণ বাড়াতে হতে পারে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ প্রতিষ্ঠান ঋণ পুনর্গঠনের আবেদন করেছে।
ক্রেমলিন-ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকা হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাও এই হামলার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে দেউলিয়ার ঢেউ তৈরি হতে পারে। বিক্রেতাদের সহায়তায় প্রয়োজন হবে শত শত বিলিয়ন রুবল, যা অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করবে।
এ পরিস্থিতিতে সরকার ওয়াইল্ডবেরিজকে সহায়তার বিভিন্ন উপায় নিয়ে আলোচনা করেছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। সম্ভাব্য সহায়তার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ঋণ, কর ছাড় এবং ভর্তুকি দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
বিক্রেতাদের ক্ষতি বাড়ছেই
ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, তাদের ৯৫ শতাংশ অর্ডার পিক-আপ পয়েন্টের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিক্রেতাদের জন্য অতিরিক্ত ছাড়, অর্থ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি এবং ক্ষতিগ্রস্ত ৯৭ হাজারের বেশি বিক্রেতাকে প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া শুরু হয়েছে।
তবুও অনেক ব্যবসা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ফ্যাশন ব্র্যান্ড ফিন ফ্লেয়ার জানিয়েছে, জুলাইয়ে মস্কোর পূর্বাঞ্চলের ইলেকট্রোস্তাল গুদামে ড্রোন হামলার আগুনে তাদের ১০ কোটিরও বেশি রুবল মূল্যের পণ্য পুড়ে গেছে। ফলে মজুত কমে যাওয়ায় বিক্রিও কমেছে। প্রতিষ্ঠানটি ওয়াইল্ডবেরিজের সঙ্গে ক্ষতিপূরণ নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা করছে।
তবে সবাই এতটা আশাবাদী নন। হাতে তৈরি টফি প্রস্তুতকারক আন্না স্তারোস্তিনা বলেন, ১৮ জুলাইয়ের প্রথম দিকের এক হামলায় তার ১৭০ বাক্স মিষ্টি নষ্ট হয়েছে।
তার ভাষায়, ‘আমি ক্ষতিপূরণের ওপর নির্ভর করছি না। পরে হতাশ হতে চাই না।’
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান হামলা-পালটা হামলার মধ্যে এবার বেসামরিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক অবকাঠামোও সরাসরি সংঘাতের কেন্দ্রে চলে এসেছে। যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ততই দুই পক্ষ সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি প্রতিপক্ষের অর্থনৈতিক সক্ষমতাকে দুর্বল করার কৌশলে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্রিপাক্ষিক এই জোট আঞ্চলিক নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা এবং ইরানের পাল্টা হামলার জেরে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জা
৭ ঘণ্টা আগে
কর্তৃপক্ষ বলছে, স্কুলে যাওয়ার আগে সে তার দাদা-দাদিকে হত্যা করে। এরপর ননথাবুরির ডেবসিরিন স্কুলে গিয়ে পাঁচ শিক্ষককে গুলি করে। পরে সে নিজেকেও গুলি করে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়।
৮ ঘণ্টা আগে
সেউতার মেয়র জুয়ান জেসুস ভিভাস লারা এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, সংকট এখনও কাটেনি। অন্তত ৮০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর একটি বড় অংশ ফেরত গেলেও এখনও ৩ থেকে ৫ হাজার মানুষ শহরের ভেতরে অবস্থান করছেন।
৯ ঘণ্টা আগে