পাকিস্তানে ব্যাপক ধরপাকড়, ইমরানের দলের ২৭৮ নেতাকর্মী আটক

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি ও প্রাদেশিক সরকার স্থগিতের পর এখন পর্যন্ত দলটির অন্তত ২৭৮ জন নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আটক পিটিআই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন প্রদেশটির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও তার মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে সমাবেশ ও মিছিলের প্রস্তুতির মধ্যে এ অভিযান চালায় পুলিশ।
বার্তা সংস্থা এএফপিকে পুলিশের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রোববার জরুরি অবস্থা ঘোষণার পর থেকে প্রদেশটিতে পিটিআইয়ের ২৭৮ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সোমবারও পেশোয়ারসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও প্রবেশপথে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এর আগে পিটিআইয়ের ইসলামাবাদমুখী পদযাত্রা ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
রোববার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেন। একই সঙ্গে ইমরান খানের দল পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার স্থগিত করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, প্রদেশে জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় প্রাদেশিক প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) তৎপরতা মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগও তুলেছে ইসলামাবাদ। জরুরি ব্যবস্থার আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার প্রাদেশিক প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
তবে পিটিআই এ সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে। দলটির অভিযোগ, নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দমন করা হচ্ছে।
জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করার কথাও জানিয়েছে পিটিআই। পাশাপাশি আটক নেতাদের মুক্তি এবং সিদ্ধান্তের আইনি ভিত্তি প্রকাশের দাবি তুলেছে বিরোধীরা।
ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার দলের অভিযোগ, তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বন্দি রাখা হয়েছে। ইমরানের মুক্তি, উন্নত চিকিৎসা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে সম্প্রতি পিটিআইয়ের সমর্থকেরা আন্দোলন জোরদার করেন। সরকার ও দলটির মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ইসলামাবাদ অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি নেওয়া হয়।
এদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জঙ্গি সহিংসতা মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা প্রয়োজন। পিটিআই অবশ্য সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার যুক্তি এবং বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার— দুই প্রশ্নেই পাকিস্তানে নতুন করে সংঘাত তৈরি হয়েছে।


















