জরুরি অবস্থা জারির পর ‘কনটেইনারে’ অবরুদ্ধ পেশোয়ার

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কনটেইনার বসিয়ে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, বন্ধ রয়েছে বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) স্টেশনগুলোও। বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি গভর্নরের বাসভবন ও সরকারি স্থাপনাগুলোর আশপাশে কড়াকড়ি বাড়ানো হয়েছে।
শহরটির পরিস্থিতি ঘুরে দেখে এ চিত্র তুলে ধরেছে পাকিস্তানের ইংরেজি দৈনিক ডন।
কয়েক দশক ধরে সহিংসতার মধ্য দিয়ে গেলেও পেশোয়ার তুলনামূলকভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখেছিল। ইসলামাবাদের সঙ্গে প্রাদেশিক রাজধানীটির একধরনের বোঝাপড়া ছিল বলে ধারণা করা হতো। তবে রোববার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির পর সেই পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্রদেশটিতে ক্ষমতায় রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সরকার।
এর আগের রাতে পেশোয়ারে ভারী বৃষ্টিতে শহরের রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। পরদিন সকাল ছিল রৌদ্রোজ্জ্বল। কিন্তু দিন শুরু হতেই শহরজুড়ে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও চাপা আতঙ্কের আভাস পাওয়া যায়। মুঠোফোনে নেটওয়ার্ক না থাকায় আসন্ন পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। এর মাত্র কয়েক দিন আগেও পিটিআইয়ের লংমার্চ ঘিরে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেশোয়ারে মুঠোফোন সেবা বন্ধ ছিল।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিসহ বিভিন্ন দাবিতে গত ৪ অক্টোবর থেকে লংমার্চ শুরু করেছে পিটিআই। এর গন্তব্য ইসলামাবাদ হলেও বিক্ষোভকারীরা এখনো খাইবার পাখতুনখাওয়ার সীমানা অতিক্রম করেননি। এ অবস্থায় রোববার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার প্রদেশটিতে জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারির ঘোষণা দেয়। সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় নেওয়া এ পদক্ষেপের ফলে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে গেছে।
ডনের প্রতিনিধি শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন, ভোর থেকে চলাচল শুরু করার কথা থাকলেও বিআরটি স্টেশনগুলো বন্ধ। ফিরদৌস চকে কনটেইনার বসিয়ে জিটি রোড আটকে দেওয়া হয়েছে। সেখানে শুধু পথচারীদের চলাচলের অনুমতি ছিল। বন্ধ দোকানগুলোর সামনে বসে ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। বালা হিসার দুর্গের প্রবেশপথও বন্ধ দেখা যায়। দুর্গটির কাছেই ফ্রন্টিয়ার কোরস নর্থের সদর দপ্তর।
প্রাদেশিক পরিষদের কাছের সুরি চক ও খাইবার রোডের দিকেও কড়াকড়ি ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কনটেইনার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। সুরি পুল চত্বরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যকে টহল দিতে দেখা যায়। বিভিন্ন ধরনের বিক্ষোভকারীদের কাছে এলাকাটি পরিচিত সমাবেশস্থল।
কেন্দ্রীয় কারাগারের কাছে জাস্টিস রুস্তম কিয়ানি রোডের শেষ প্রান্তে একটি পুরোনো সাঁজোয়া যান রাখা ছিল। পুলিশ পথচারীদের সামনে এগোতে নিষেধ করছিল। ডনের প্রতিনিধি কয়েকজনের সঙ্গে এগিয়ে গেলে এমপিএ হোস্টেলের পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাঁদের ফিরে যেতে বলেন এবং শোবা বাজার হয়ে ঘুরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।
গভর্নরের বাসভবনের আশপাশেও ছিল কঠোর নিরাপত্তা। সাহিবজাদা আবদুল কাইয়ুম রোডে অবস্থিত বাসভবনের দিকে যাওয়া ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছিল। বাইরে বেশ কয়েকটি গাড়ি পার্ক করে রাখা ছিল। অন্যদিকে, শের শাহ সুরি রোড ও খাইবার বাজারের সংযোগস্থল জেল পুল বন্ধ ছিল। প্রাদেশিক সরকারের প্রশাসনিক কেন্দ্র সিভিল সেক্রেটারিয়েট ছিল প্রায় জনশূন্য। শুধু প্রধান সচিবের কার্যালয়ের বাইরে কয়েকটি গাড়ি দেখা যায়।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে একটি সাঁজোয়া যান, কারাগারের ভ্যান এবং দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ বহনকারী ট্রাক যেতে দেখা যায়। আর্মি স্টেডিয়ামের কাছে খাইবার রোডেও ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ইউনিভার্সিটি রোড ও এয়ারপোর্ট রোডের সংযোগস্থলের কাছে আমন চকে যানবাহন কম থাকলেও পুলিশ মোতায়েন ছিল। স্টেডিয়াম চকে কনটেইনার বসানোর কারণে দুই দিকের গাড়ি একটি লেন দিয়ে চলাচল করছিল। আরবাব রোডেও কনটেইনার দিয়ে চলাচল সীমিত করা হয়।
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অতীতে পেশোয়ার থেকে যাওয়া বিক্ষোভ মিছিল ঠেকাতে কনটেইনার দিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ করার নজির রয়েছে। তবে এবার ইসলামাবাদ থেকেই পেশোয়ারে কনটেইনার পাঠানো হয়েছে বলে ডনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অবরোধ কত দিন বহাল থাকবে, তা স্পষ্ট নয়। রোববার বিকেলে শহরে ইন্টারনেট সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়।


















