যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে দিল্লি পুলিশের ‘না’, নতুন ৩ জায়গার নাম ঘোষণা

ভারতের দিল্লিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশের নির্ধারিত স্থানগুলোর তালিকা থেকে যন্তর মন্তরকে বাদ দিয়েছে পুলিশ। এর পরিবর্তে শহরের তিনটি জায়গাকে নতুন বিক্ষোভস্থল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লি পুলিশের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাগরিকদের বিক্ষোভ ও সমাবেশ করার অধিকার নিশ্চিত করতে বিদ্যমান স্থানগুলোর বিকল্প খুঁজতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের জন্য নতুন তিন স্থান
দিল্লি পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও শাহদরার সিবিডি গ্রাউন্ডে বিক্ষোভ ও সমাবেশ আয়োজন করা যাবে। এসব স্থানে কর্মসূচি পালনের নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তারিত ও সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পরে প্রকাশ করা হবে।
চলতি বছরের জুন থেকে অভিজিৎ দিপকের প্রতিষ্ঠিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে তরুণদের বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র ছিল যন্তর মন্তর। পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে ওই আন্দোলনের পরিণতিতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যন্তর মন্তরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিজিৎ দিপক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ভীরু স্বৈরাচার জায়গাটিকে আগেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছিল। এখন পুরো দেশই যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।
গত মাসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ঘিরে যন্তর মন্তর আবার আলোচনায় আসে। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার আড়ালে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনেও নতুন গতি আসে।
সপ্তাহান্তে দিল্লিতে ব্যাপক আটকের ঘটনার পরপরই যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত এল। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন সাবেক মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। দিল্লি পুলিশের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠন, বিশেষ করে সিজেপির বিক্ষোভের ডাককে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এসব প্রতিরোধমূলক আটক করা হয়েছিল।















