বিক্ষোভস্থলেরে তালিকা থেকে বাদ যন্তর মন্তর

গোটা দেশই যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে: অভিজিৎ দীপকে

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। ফাইল ছবি
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। ফাইল ছবি

ভারতের দিল্লিতে যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তার অভিযোগ, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার সংকুচিত করা হচ্ছে। দলটির অন্য নেতারাও দিল্লি পুলিশের এ পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছেন।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দীপকে লেখেন, জন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য, জায়গাটি আগেই ‘কাপুরুষ স্বৈরশাসক’ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছেন। এখন গোটা দেশই জন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।

অন্য একটি পোস্টে এ সিদ্ধান্তকে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। দীপকে লেখেন, আজ নরেন্দ্র মোদি যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, কাল হয়তো গণতন্ত্রকেই তালিকা থেকে বাদ দেবেন। তার মতে, স্বৈরশাসকদের সমস্যা কখনো বিক্ষোভের নির্দিষ্ট স্থান নয়, বরং মানুষের প্রতিবাদ করার ধারণা।

সিজেপি নেতা সৌরভ দাসও সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। এক্সে তিনি প্রশ্ন তোলেন, নরেন্দ্র মোদি যন্তর মন্তরকে ভয় পান কেন। তার ভাষায়, যন্তর মন্তর ভারতের জনগণের জায়গা। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক, সংগঠন বা অন্য অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সৌরভের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি লেখেন, যন্তর মন্তরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরিণতিতে একসময় ভারত থেকেও গণতন্ত্রকে বাদ দেওয়া হতে পারে। আরেক পোস্টে তিনি বলেন, এবার গোটা দেশই যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে।

সিজেপির আরেক নেতা আশুতোষ রাঙ্কাও বিকল্প বিক্ষোভস্থল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ব্যঙ্গ করে তিনি জানতে চান, মাউন্ট এভারেস্টকে কেন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ঘোষণা করা হচ্ছে না।

সোমবার দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাদ দিয়ে বিকল্প তিনটি জায়গা ঘোষণা করে। সেগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ড।

দিল্লি পুলিশ কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাগরিকদের বিক্ষোভ ও সমাবেশের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ দিতে বিকল্প স্থান নির্ধারণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন তিন স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের নিয়মকানুন জানিয়ে সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) পরে প্রকাশ করা হবে। এ আদেশের মাধ্যমে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি করা আগের একটি স্থায়ী আদেশ আংশিক সংশোধন করা হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত এল।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement