
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

শেষ হতে চলেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি। ভঙ্গুর সে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠক ঘিরে এখনো রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা, দুপক্ষই পালটাপালটি হুমকি অব্যাহত রেখেছে, সঙ্গে রয়েছে কৌশলগত চাপ। সব মিলিয়ে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, দুই দেশের মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে, প্রথম পর্বের মতো ইসলামাবাদে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনাতেও তাদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের শর্ত, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা অবস্থায় তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে না ফিরলে ইরান সমস্যার মুখে পড়তে পারে। চুক্তি করা ছাড়া ইরানের আর কোনো উপায় নেই। ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না।
কিন্তু ইসলামাবাদে যদি দুপক্ষকে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসানোও যায়ে, তাতেও কি ফল মিলবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে দুই দেশের মধ্যে এখনো বেশকিছু ইস্যু নিয়েই রয়ে গেছে তীব্র মতবিরোধ, যা সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করতে পারে। এমন বিষয়গুলোই নিচে তুলে ধরা হলো।
ইসলামাবাদে প্রথম পর্বের আলোচনায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ার পেছনে যে বিষয়গুলো প্রধান ভূমিকা রেখেছে, তার একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এমনকি ইরান যুদ্ধের পেছনেও এ অভিযোগকেই প্রধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সে কারণেই ইরানে ইউরেনিয়ামের কোনো মজুত তারা দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে এবং শান্তিপূর্ণ। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
আলোচনায় ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবে ইরান।
এর মধ্যে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, আগের দফার আলোচনায় যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই ২০ বছরের বিরতির বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পালটা প্রস্তাবে ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়। ২০ বছর আর পাঁচ বছরের এই ব্যবধানই দুপক্ষের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জ্বালানি পরিবহনে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌ পথ হরমুজ প্রণালি ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে সবচেয়ে আলোচিত নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিকভাবেই জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, দেশে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়। এ যুদ্ধ চলাকালেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রতি ব্যারেলের দাম ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৬৫ ডলার।
ওমান ও ইরানের মাঝে অবস্থিত এই প্রণালিটি উত্তরে পারস্য উপসাগরকে দক্ষিণে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের একভাগ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনো টোল ছাড়াই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হোক।
ইরান আগে প্রস্তাব দিয়েছিল, প্রণালি দিয়ে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজ থেকে টোল নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া ও প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনর্প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। দুপক্ষের আলোচনাতেও হরমুজের নিয়ন্ত্রণই হয়ে উঠতে পারে সমঝোতার অন্যতম নিয়ামক।
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে দুই দেশই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে। ইরান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা, অযৌক্তিক সামরিক হামলা ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান যেন ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করে এবং হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে।
লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও একটি বড় বিরোধের জায়গা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল সেখানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যা তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই করছে বলে দাবি করছে।
দীর্ঘ আলোচনা ও নানা তৎপরতার পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে ওই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রয়েছে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করতে হলে লেবাননের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকতে হবে, যেন ভবিষ্যতে ইসরায়েলের হামলা ঠেকানো যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, লেবানন-ইসরায়েলে বিরোধ একটি পৃথক ইস্যু। এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অংশ নয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও অবশ্য একই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা অন্য যেকোনো আলোচনার থেকে আলাদা।
ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধের কারণে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ইরানের আরেকটি প্রধান দাবি— যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে থাকা তাদের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না।
পরিস্থিতি বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই দেশের মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিত। পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক প্রভাব— প্রতিটি ইস্যুতেই দুই দেশের অবস্থান বিপরীতমুখী। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো জটিল এবং অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, গার্ডিয়ান, ডন

শেষ হতে চলেছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি। ভঙ্গুর সে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বৈঠক ঘিরে এখনো রয়ে গেছে অনিশ্চয়তা, দুপক্ষই পালটাপালটি হুমকি অব্যাহত রেখেছে, সঙ্গে রয়েছে কৌশলগত চাপ। সব মিলিয়ে ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, দুই দেশের মূল বিরোধগুলো এখনো অমীমাংসিতই রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে, প্রথম পর্বের মতো ইসলামাবাদে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনাতেও তাদের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাদের শর্ত, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকা অবস্থায় তারা কোনো আলোচনায় বসবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি অব্যাহত রেখেছেন। তিনি বলেন, আলোচনার টেবিলে না ফিরলে ইরান সমস্যার মুখে পড়তে পারে। চুক্তি করা ছাড়া ইরানের আর কোনো উপায় নেই। ইরানের জাতীয় সংসদের স্পিকার বাঘের গালিবাফও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তারা কোনো ধরনের হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না।
কিন্তু ইসলামাবাদে যদি দুপক্ষকে শেষ পর্যন্ত আলোচনায় বসানোও যায়ে, তাতেও কি ফল মিলবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃতপক্ষে দুই দেশের মধ্যে এখনো বেশকিছু ইস্যু নিয়েই রয়ে গেছে তীব্র মতবিরোধ, যা সমাধানে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে কাজ করতে পারে। এমন বিষয়গুলোই নিচে তুলে ধরা হলো।
ইসলামাবাদে প্রথম পর্বের আলোচনায় শেষ পর্যন্ত সমঝোতা না হওয়ার পেছনে যে বিষয়গুলো প্রধান ভূমিকা রেখেছে, তার একটি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ। দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। এমনকি ইরান যুদ্ধের পেছনেও এ অভিযোগকেই প্রধান হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সে কারণেই ইরানে ইউরেনিয়ামের কোনো মজুত তারা দেখতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র।
তেহরান অবশ্য বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে এবং শান্তিপূর্ণ। তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
আলোচনায় ইরানের প্রায় ৪৪০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করতে পারবে ইরান।
এর মধ্যে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানায়, আগের দফার আলোচনায় যুদ্ধ শেষ করার শর্ত হিসেবে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এই ২০ বছরের বিরতির বিনিময়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার কথাও বলা হয়েছিল।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, পালটা প্রস্তাবে ইরান তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত রাখতে সম্মত হয়। ২০ বছর আর পাঁচ বছরের এই ব্যবধানই দুপক্ষের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
জ্বালানি পরিবহনে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌ পথ হরমুজ প্রণালি ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে সবচেয়ে আলোচিত নাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দেয়। এতে বৈশ্বিকভাবেই জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, দেশে দেশে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দেয়। এ যুদ্ধ চলাকালেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ব্রেন্ট ক্রুড) প্রতি ব্যারেলের দাম ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ছিল ৬৫ ডলার।
ওমান ও ইরানের মাঝে অবস্থিত এই প্রণালিটি উত্তরে পারস্য উপসাগরকে দক্ষিণে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই জলপথটি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট। বিশ্বের প্রায় পাঁচ ভাগের একভাগ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ইরানের এই প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় কোনো টোল ছাড়াই প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হোক।
ইরান আগে প্রস্তাব দিয়েছিল, প্রণালি দিয়ে যাওয়া পণ্যবাহী জাহাজ থেকে টোল নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া ও প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পুনর্প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে। দুপক্ষের আলোচনাতেও হরমুজের নিয়ন্ত্রণই হয়ে উঠতে পারে সমঝোতার অন্যতম নিয়ামক।
স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে দুই দেশই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাইছে। ইরান চাইছে যুক্তরাষ্ট্র যেন ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পরিকল্পনা, অযৌক্তিক সামরিক হামলা ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা দেয়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান যেন ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করে এবং হিজবুল্লাহর মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে।
লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির বিষয়টিও একটি বড় বিরোধের জায়গা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল সেখানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, যা তারা হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করেই করছে বলে দাবি করছে।
দীর্ঘ আলোচনা ও নানা তৎপরতার পর লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে ওই যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ রয়েছে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত।
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো চুক্তি চূড়ান্ত করতে হলে লেবাননের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থাকতে হবে, যেন ভবিষ্যতে ইসরায়েলের হামলা ঠেকানো যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, লেবানন-ইসরায়েলে বিরোধ একটি পৃথক ইস্যু। এটি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অংশ নয়। লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনও অবশ্য একই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, লেবানন-ইসরায়েল আলোচনা অন্য যেকোনো আলোচনার থেকে আলাদা।
ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধের কারণে তাদের যে ক্ষতি হয়েছে তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনের তথ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পর থেকে ইরান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
ইরানের আরেকটি প্রধান দাবি— যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে থাকা তাদের জব্দ সম্পদ মুক্ত করা। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ না করা পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে না।
পরিস্থিতি বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকলেও দুই দেশের মূল বিরোধগুলো অমীমাংসিত। পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে আঞ্চলিক প্রভাব— প্রতিটি ইস্যুতেই দুই দেশের অবস্থান বিপরীতমুখী। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও স্থায়ী সমাধানের পথ এখনো জটিল এবং অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, গার্ডিয়ান, ডন

ইরান বলছে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনী যে অবরোধ দিয়ে রেখেছে, সে অবরোধ না তোলা পর্যন্ত তারা আলোচনায় যেতে রাজি না। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সামনে এখন চুক্তিতে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই।
১৭ ঘণ্টা আগে
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গোলাবারুদসহ সব ধরনের সরঞ্জাম রয়েছে... আমরা এই সময়টাকে রসদ মজুতের কাজে ব্যবহার করেছি। সম্ভবত তারাও (ইরান) কিছুটা প্রস্তুতি নিয়েছে।’
২০ ঘণ্টা আগে
মার্কিন নৌবাহিনীর একাধিক ‘হুমকি’ ও অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানি তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে দেশের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে প্রচারিত সেনাবাহিনীর জনসংযোগ দপ্তরের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
১ দিন আগে
ইরান থেকে ইউরেনিয়াম অপসারণ একটি দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন। খবর দ্য ডনের।
১ দিন আগে