
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

সময়টা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ। ইসরায়েলের ওপর হামাসের নজিরবিহীন হামলার তখনো প্রায় ১০ দিন বাকি। আবুধাবির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে ফোন গেল। ওপাশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
কথোপকথনটি নাকি চলে প্রায় ৪৫ মিনিট। আলোচনার বিষয়— হামাস।
নতুন এক বইয়ের দাবি, বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান প্রস্তুত করছেন। বিষয়টি শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে— এমন আশঙ্কাও জানিয়েছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু এরপর কী হয়েছিল?
হারেৎজের দুই সাংবাদিকের লেখা নতুন বই ‘হোস্টেজেস: ৮৪৩ ডেজ অব অ্যাবান্ডনমেন্ট’-এর দাবি অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া ছিল আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত। তিনি আতঙ্কিত হননি, এমনকি সতর্কবার্তাটি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবহিতও করেননি— এমন অভিযোগ উঠেছে।
এর মাত্র ১০ দিন পর, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ভোরে ইসরায়েলের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় হামাস।
এই দাবিই এখন নতুন করে ঝড় তুলেছে ইসরায়েলি রাজনীতিতে।
‘ভূমিকম্প অভিযানে’র প্রস্তুতি হামাসের, নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বইটির তথ্য অনুযায়ী, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ৭ অক্টোবরের আগে এক সাবেক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন, সংগঠনটি একটি ‘ভয়াবহ অভিযানে’র প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিনওয়ার ওই অভিযানের সম্ভাব্য প্রভাব বোঝাতে ‘ভূমিকম্প’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করেছেন বইটির দুই লেখক।
এই তথ্য কীভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে, এরপর বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। নিরাপদ যোগাযোগের জন্য একজন আমিরাতি কূটনীতিক নেতানিয়াহুকে একটি সুরক্ষিত ফোনও সরবরাহ করেছিলেন।
অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথটি ছিল সরাসরি ও নিরাপদ। সেই পথেই এসেছিল হামাসের সম্ভাব্য বড় অভিযানের সতর্কবার্তা— এমনটাই দাবি নতুন বইয়ে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটিও এখানেই। বইটির লেখকদের দাবি সত্য হলে নেতানিয়াহু হামাসের বড় অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক হয়েছিলেন। কিন্তু সে তথ্য ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল, আদৌ পৌঁছেছিল কি না— এখন সে প্রশ্নই উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর তুলনামূলক শান্ত প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত হয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা ইসরায়েলের রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
১০ দিন পর বদলে গেল ইসরায়েল
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর ভোরে হাজার হাজার হামাস যোদ্ধা গাজা সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে ঢুকে পড়ে। সীমান্তবর্তী সামরিক ঘাঁটি ও বসতিতে একযোগে হামলা চালানো হয়। রকেট হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল।
হামলায় ১২ শতাধিক বেশি ইসরায়েলি নিহত হন। হামাস ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই বিপর্যয়কে শুধু সামরিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও।
হামলার পর থেকেই ইসরায়েলে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সামরিক সংস্থার অভ্যন্তরীণ সতর্কতা, সীমান্তে অস্বাভাবিক তৎপরতা এবং হামাসের প্রস্তুতি সম্পর্কে আগাম তথ্য নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু নতুন বইয়ের দাবি সত্য হলে সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা— একটি মিত্র রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি সতর্কবার্তা।
নতুন তথ্য প্রকাশের পর নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আর সময় নষ্ট করেননি। বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতা যৌথ বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলেছেন— নেতানিয়াহু ঠিক কী জানতেন, কখন জানতেন এবং নাগরিকদের রক্ষায় তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
সাবেক সামরিক কমান্ডার ও নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট সরাসরি বলেছেন, ৭ অক্টোবরের আগে নেতানিয়াহুর কাছে একাধিক সতর্কবার্তা পৌঁছেছিল এবং তিনি সেগুলো উপেক্ষা করেছেন। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘অযোগ্য’।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, ৭ অক্টোবরের প্রাণহানির জন্য নেতানিয়াহু ‘ব্যক্তিগত ও সরাসরি দায়’ বহন করেন। তার দাবি, নেতানিয়াহুর আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও একই সুরে নেতানিয়াহুকে অভিযুক্ত করেছেন। তাদের বক্তব্যের মূল কথা একটাই— ‘কেউ আমাকে জানায়নি’ বা ‘আমি যথাসময়ে জানতাম না’— এই ব্যাখ্যা আর গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতানিয়াহু বলছেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’
তবে দুই সাংবাদিকের বইয়ে উঠে আসা অভিযোগ স্বীকার করেননি নেতানিয়াহু। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হারেৎজের প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নেতানিয়াহুর দাবি, ওই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার এমন কোনো কথোপকথনই হয়নি।
অর্থাৎ এখন পর্যন্ত ঘটনাটির দুই সম্পূর্ণ বিপরীত বর্ণনা সামনে রয়েছে। একদিকে হারেৎজের অনুসন্ধান ও নতুন বইয়ের দাবি— অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরাসরি অস্বীকার।
তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত: সত্যিই কি সেই সময় ফোনকলে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছিল নেতানিয়াহুর? হয়ে থাকলে, সেই ফোনকলে ঠিক কী বলা হয়েছিল?
স্বাধীন তদন্তের দাবি
৭ অক্টোবরের পর থেকেই হামাসের ওই হামলা ঘিরে ইসরায়েলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি ওঠে। বিরোধী দলগুলোর মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিটি স্তরের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের প্রস্তাবিত কমিশনের সদস্যরা সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন।
কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকার এখনো এমন কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা মনে করেন, স্বাধীন তদন্ত হলে শুধু গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা নয়, প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের সিদ্ধান্তও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। নতুন বইয়ের দাবি সেই প্রশ্নটিকেই আরও ধারালো করেছে।
নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ
বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইসরায়েলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ফলে ৭ অক্টোবরের আগের ঘটনাগুলো এখন শুধু ইতিহাসের হিসাব-নিকাশ নয়; সরাসরি নির্বাচনি রাজনীতির অস্ত্রও হয়ে উঠছে।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা বলছেন, তিনি যদি আগাম সতর্কতা পেয়েও থাকেন এবং তা যথাযথভাবে কাজে না লাগিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা।
নেতানিয়াহুর পক্ষ অবশ্য বলছে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণহীন। কিন্তু এখানেই নতুন বইটির দাবির গুরুত্ব। কারণ ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা নিয়ে এতদিন যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল— ‘ইসরায়েল কি কিছুই জানত না?’— নতুন বইয়ের দাবি সেটিকে বদলে দিচ্ছে।
প্রশ্নটা নতুন করে সরাসরি প্রশ্ন উঠেছে— ইসরায়েল কি জানত? নেতানিয়াহু কি জানতেন? জেনে থাকলে তিনি কাকে জানিয়েছিলেন? আর যদি কাউকে না জানিয়ে থাকেন, সেটাই বা কেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু উত্তর খোঁজার চাপ যে আবারও নেতানিয়াহুর ওপর গিয়ে পড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আর শেষ পর্যন্ত যদি স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ৭ অক্টোবরের মাত্র কয়েক দিন আগে একজন মিত্র রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে হামাসের বড় অভিযানের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন, তাহলে ৭ অক্টোবরের ইতিহাসে ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’র পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যর্থতার অধ্যায়টিও আরও বড় হয়ে উঠবে।
গার্ডিয়ান অবলম্বনে

সময়টা ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ ভাগ। ইসরায়েলের ওপর হামাসের নজিরবিহীন হামলার তখনো প্রায় ১০ দিন বাকি। আবুধাবির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কাছে ফোন গেল। ওপাশে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
কথোপকথনটি নাকি চলে প্রায় ৪৫ মিনিট। আলোচনার বিষয়— হামাস।
নতুন এক বইয়ের দাবি, বিন জায়েদ নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের একটি সামরিক অভিযান প্রস্তুত করছেন। বিষয়টি শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে— এমন আশঙ্কাও জানিয়েছিলেন আমিরাতের প্রেসিডেন্ট।
কিন্তু এরপর কী হয়েছিল?
হারেৎজের দুই সাংবাদিকের লেখা নতুন বই ‘হোস্টেজেস: ৮৪৩ ডেজ অব অ্যাবান্ডনমেন্ট’-এর দাবি অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া ছিল আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত। তিনি আতঙ্কিত হননি, এমনকি সতর্কবার্তাটি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবহিতও করেননি— এমন অভিযোগ উঠেছে।
এর মাত্র ১০ দিন পর, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ভোরে ইসরায়েলের ওপর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা চালায় হামাস।
এই দাবিই এখন নতুন করে ঝড় তুলেছে ইসরায়েলি রাজনীতিতে।
‘ভূমিকম্প অভিযানে’র প্রস্তুতি হামাসের, নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
বইটির তথ্য অনুযায়ী, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার ৭ অক্টোবরের আগে এক সাবেক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাকে জানিয়েছিলেন, সংগঠনটি একটি ‘ভয়াবহ অভিযানে’র প্রস্তুতি নিচ্ছে। সিনওয়ার ওই অভিযানের সম্ভাব্য প্রভাব বোঝাতে ‘ভূমিকম্প’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করেছেন বইটির দুই লেখক।
এই তথ্য কীভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। বলা হয়েছে, এরপর বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
হারেৎজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। নিরাপদ যোগাযোগের জন্য একজন আমিরাতি কূটনীতিক নেতানিয়াহুকে একটি সুরক্ষিত ফোনও সরবরাহ করেছিলেন।
অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগের পথটি ছিল সরাসরি ও নিরাপদ। সেই পথেই এসেছিল হামাসের সম্ভাব্য বড় অভিযানের সতর্কবার্তা— এমনটাই দাবি নতুন বইয়ে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটিও এখানেই। বইটির লেখকদের দাবি সত্য হলে নেতানিয়াহু হামাসের বড় অভিযানের সম্ভাবনা সম্পর্কে সতর্ক হয়েছিলেন। কিন্তু সে তথ্য ইসরায়েলের সামরিক ও গোয়েন্দা নেতৃত্বের কাছে কীভাবে পৌঁছেছিল, আদৌ পৌঁছেছিল কি না— এখন সে প্রশ্নই উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিন জায়েদ নেতানিয়াহুর তুলনামূলক শান্ত প্রতিক্রিয়ায় বিস্মিত হয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সক্ষমতা ইসরায়েলের রয়েছে। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ দেখিয়েছে, বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
১০ দিন পর বদলে গেল ইসরায়েল
৭ অক্টোবর ২০২৩-এর ভোরে হাজার হাজার হামাস যোদ্ধা গাজা সীমান্ত পেরিয়ে ইসরায়েলে ঢুকে পড়ে। সীমান্তবর্তী সামরিক ঘাঁটি ও বসতিতে একযোগে হামলা চালানো হয়। রকেট হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল।
হামলায় ১২ শতাধিক বেশি ইসরায়েলি নিহত হন। হামাস ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যায়।
ইসরায়েলি নিরাপত্তা ব্যবস্থার এই বিপর্যয়কে শুধু সামরিক ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও।
হামলার পর থেকেই ইসরায়েলে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সামরিক সংস্থার অভ্যন্তরীণ সতর্কতা, সীমান্তে অস্বাভাবিক তৎপরতা এবং হামাসের প্রস্তুতি সম্পর্কে আগাম তথ্য নিয়ে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
কিন্তু নতুন বইয়ের দাবি সত্য হলে সেই তালিকায় যোগ হচ্ছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা— একটি মিত্র রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরাসরি সতর্কবার্তা।
নতুন তথ্য প্রকাশের পর নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আর সময় নষ্ট করেননি। বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতা যৌথ বিবৃতিতে প্রশ্ন তুলেছেন— নেতানিয়াহু ঠিক কী জানতেন, কখন জানতেন এবং নাগরিকদের রক্ষায় তিনি কী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।
সাবেক সামরিক কমান্ডার ও নেতানিয়াহুর অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকট সরাসরি বলেছেন, ৭ অক্টোবরের আগে নেতানিয়াহুর কাছে একাধিক সতর্কবার্তা পৌঁছেছিল এবং তিনি সেগুলো উপেক্ষা করেছেন। তার ভাষায়, নেতানিয়াহু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ‘অযোগ্য’।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন, ৭ অক্টোবরের প্রাণহানির জন্য নেতানিয়াহু ‘ব্যক্তিগত ও সরাসরি দায়’ বহন করেন। তার দাবি, নেতানিয়াহুর আর এক মুহূর্তও ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
মধ্য-বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলানও একই সুরে নেতানিয়াহুকে অভিযুক্ত করেছেন। তাদের বক্তব্যের মূল কথা একটাই— ‘কেউ আমাকে জানায়নি’ বা ‘আমি যথাসময়ে জানতাম না’— এই ব্যাখ্যা আর গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতানিয়াহু বলছেন, ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’
তবে দুই সাংবাদিকের বইয়ে উঠে আসা অভিযোগ স্বীকার করেননি নেতানিয়াহু। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হারেৎজের প্রতিবেদনকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। নেতানিয়াহুর দাবি, ওই সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার এমন কোনো কথোপকথনই হয়নি।
অর্থাৎ এখন পর্যন্ত ঘটনাটির দুই সম্পূর্ণ বিপরীত বর্ণনা সামনে রয়েছে। একদিকে হারেৎজের অনুসন্ধান ও নতুন বইয়ের দাবি— অন্যদিকে নেতানিয়াহুর সরাসরি অস্বীকার।
তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত: সত্যিই কি সেই সময় ফোনকলে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা হয়েছিল নেতানিয়াহুর? হয়ে থাকলে, সেই ফোনকলে ঠিক কী বলা হয়েছিল?
স্বাধীন তদন্তের দাবি
৭ অক্টোবরের পর থেকেই হামাসের ওই হামলা ঘিরে ইসরায়েলে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি ওঠে। বিরোধী দলগুলোর মতে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিটি স্তরের সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের প্রস্তাবিত কমিশনের সদস্যরা সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন।
কিন্তু নেতানিয়াহুর সরকার এখনো এমন কমিশন গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা মনে করেন, স্বাধীন তদন্ত হলে শুধু গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতা নয়, প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের সিদ্ধান্তও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। নতুন বইয়ের দাবি সেই প্রশ্নটিকেই আরও ধারালো করেছে।
নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ
বিষয়টি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ইসরায়েলে নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। ফলে ৭ অক্টোবরের আগের ঘটনাগুলো এখন শুধু ইতিহাসের হিসাব-নিকাশ নয়; সরাসরি নির্বাচনি রাজনীতির অস্ত্রও হয়ে উঠছে।
নেতানিয়াহুর বিরোধীরা বলছেন, তিনি যদি আগাম সতর্কতা পেয়েও থাকেন এবং তা যথাযথভাবে কাজে না লাগিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়, এটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা।
নেতানিয়াহুর পক্ষ অবশ্য বলছে, এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণহীন। কিন্তু এখানেই নতুন বইটির দাবির গুরুত্ব। কারণ ৭ অক্টোবরের ব্যর্থতা নিয়ে এতদিন যে প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছিল— ‘ইসরায়েল কি কিছুই জানত না?’— নতুন বইয়ের দাবি সেটিকে বদলে দিচ্ছে।
প্রশ্নটা নতুন করে সরাসরি প্রশ্ন উঠেছে— ইসরায়েল কি জানত? নেতানিয়াহু কি জানতেন? জেনে থাকলে তিনি কাকে জানিয়েছিলেন? আর যদি কাউকে না জানিয়ে থাকেন, সেটাই বা কেন?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। কিন্তু উত্তর খোঁজার চাপ যে আবারও নেতানিয়াহুর ওপর গিয়ে পড়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
আর শেষ পর্যন্ত যদি স্বাধীন তদন্তে প্রমাণিত হয় যে ৭ অক্টোবরের মাত্র কয়েক দিন আগে একজন মিত্র রাষ্ট্রপ্রধান সরাসরি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে হামাসের বড় অভিযানের ব্যাপারে সতর্ক করেছিলেন, তাহলে ৭ অক্টোবরের ইতিহাসে ‘গোয়েন্দা ব্যর্থতা’র পাশাপাশি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যর্থতার অধ্যায়টিও আরও বড় হয়ে উঠবে।
গার্ডিয়ান অবলম্বনে

ইতালির ভেনিসে হামলা ও হেনস্তার অভিযোগে স্থানীয় থানায় মামলা করতে যাচ্ছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
২১ ঘণ্টা আগে
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুরকি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে জোট প্রয়োজনীয় সব ধরনের অভিযান পরিচালনার ব্যবস্থা নেবে এবং তাদের বৈরী কর্মকাণ্ডের দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করবে।’
১ দিন আগে
জার্মানির মতো ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতিতেও যদি মূলধারার একটি ঐতিহ্যবাহী দল মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে অর্ধেকের বেশি ভোট হারায় এবং কট্টর ডানপন্থি দল প্রায় অর্ধেক ভোট পায়, তাহলে ইউরোপের অন্যান্য সরকারের জন্য এর বার্তা স্পষ্ট।
১ দিন আগে
সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উঁচুতে অবস্থানকালে আকস্মিক এই তুষারধসের ঘটনাটি ঘটে।
১ দিন আগে