ফিলিস্তিনি বন্দিদের পলায়ন ঠেকাতে কারাগারে কুমির রাখবে ইসরায়েল

ফিলিস্তিনি বন্দিদের পালানো ঠেকাতে কারাগারের নিরাপত্তায় কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে আরেক ধাপ এগিয়েছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে সংরক্ষিত প্রাণীর তালিকা থেকে ‘নাইল কুমির’কে (নীল নদের কুমির) সরিয়ে নতুন আইনি শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে দেশটি।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাতে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, বুধবার পরিবেশমন্ত্রী ইদিত সিলমান এক আদেশে কুমিরকে ‘বিশেষ ব্যবস্থাপনায় থাকা বন্য প্রাণী’ হিসেবে পুনঃশ্রেণিবদ্ধ করেন। ফলে নির্দিষ্ট শর্তে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর জন্য কুমির ব্যবহারের আইনি বাধা দূর হলো।
এই পরিকল্পনার মূল উদ্যোক্তা জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দীদের জন্য এমন একটি কারাগারের প্রস্তাব দেন, যার চারপাশে থাকবে কুমির। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ‘অ্যালিগেটর আলকাট্রাজ’ নামের অভিবাসী আটককেন্দ্র থেকে তিনি এ ধারণা নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন।
পরিকল্পনা অনুমোদনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবি প্রকাশ করেন বেন-গভির। সেখানে একটি কুমিরের রশি হাতে তাকে দেখা যায়। ছবির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘পালানোর কথা ভাবছ? আরেকবার ভেবে দেখো।’
তবে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দীদের ওপর নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার জন্য কুমির ব্যবহারের পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলবে।
প্রাণী অধিকারকর্মীদের বক্তব্য, কুমিরকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ করা প্রাণী কল্যাণের নীতির পরিপন্থী। তাদের স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে নির্দিষ্ট পরিবেশ, পানি ও উপযুক্ত তাপমাত্রা প্রয়োজন। শীতকালে তাদের চলাচল ও খাদ্যগ্রহণও অনেক কমে যায়। ফলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে ইসরায়েলে নাইল কুমির সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। গত বছর দখলকৃত পশ্চিম তীরের একটি ইসরায়েলি বসতিতে থাকা কুমিরের খামারে ২৫০টির বেশি নাইল কুমির হত্যা করে দেশটির সেনাবাহিনী। ওই ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
রাজনীতি/আরআইআর

















