নির্বাচনে হস্তক্ষেপ নিয়ে ফের অভিযোগ ট্রাম্পের, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কে টানাপোড়েনের শঙ্কা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
চীনের বিরুদ্ধে ফের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্র্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে এবং কোটি কোটি মার্কিন ভোটারের তথ্য অবৈধভাবে সংগ্রহ করেছে বলে আবাও অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ অভিযোগে চীনের বিরুদ্ধে নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা না দিলেও সম্ভাব্য অনিয়মের তদন্তে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অভিযোগ এমন এক সময়ে এলো, যখন বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমিত করে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের এ বক্তব্য চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ওয়াশিংটন সফর ও দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা নাজুক সমঝোতাকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছেন। তিনি অভিযোগ করেন, চীন অবৈধভাবে মার্কিন ভোটারদের বিপুল পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করেছে, যা দেশের নির্বাচনি নিরাপত্তার জন্য ‘অভূতপূর্ব দুঃস্বপ্ন’ তৈরি করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘এই তথ্য ফাঁস নির্বাচনি নিরাপত্তার জন্য নজিরবিহীন সংকট তৈরি করেছে।’ সেই সঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

তবে বেইজিং এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ চ্যাং বলেন, ‘চীন কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।’

নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্পের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২০ সালের নির্বাচনে জো বাইডেনের কাছে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি দাবি করে আসছেন, ওই নির্বাচন তার বিরুদ্ধে ‘কারচুপি’ করা হয়েছিল। সেই অভিযোগের অংশ হিসেবেই তিনি চীনের বিরুদ্ধে বারবার নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।

প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারাও প্রকাশ্যে বলেছিলেন, চীনা হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করছে।

তবে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর যৌথ মূল্যায়নে বলা হয়, চীনসহ কোনো বিদেশি শক্তিই ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধন, ব্যালট, ভোট গণনা কিংবা ফলাফলের প্রযুক্তিগত কোনো অংশ পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে বা সফল হয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

সবশেষ ভাষণে ট্রাম্প নির্বাচনি নিরাপত্তা দুর্বল হওয়ার জন্য তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’ আমলাদেরও দায়ী করেন। তার অভিযোগ, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে এসব ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেনি।

বাণিজ্য সমঝোতায় নতুন চাপ

ট্রাম্পের বক্তব্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ কয়েক মাস ধরেই ওয়াশিংটন ও বেইজিং সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে চীনা পণ্যের ওপর শতভাগেরও বেশি শুল্ক আরোপ করে নতুন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। পরে বিরল খনিজ (রেয়ার আর্থ) রপ্তানিতে চীনের পালটা নিষেধাজ্ঞায় যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে গত অক্টোবরে তিনি সেই কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসেন।

এরপর মে মাসে চীনে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। ওই সফরে তাইওয়ানসহ কয়েকটি স্পর্শকাতর বিষয়ে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নেন তিনি এবং শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ বলেও উল্লেখ করেন।

জিনপিংকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন সফরের আমন্ত্রণও জানান ট্রাম্প। এ ছাড়া নভেম্বরে চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন বলেও জানান।

তবে চীন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফর নিশ্চিত করেনি। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, বেইজিং ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্প প্রশাসনকে জানিয়েছে— দুই নেতার ভবিষ্যৎ বৈঠক নির্ভর করবে দুই দেশের ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় থাকার ওপর।

কেমন হবে চীনের প্রতিক্রিয়া

রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা চীন-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের মতে, বেইজিং আপাতত ট্রাম্পের বক্তব্যকে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশ হিসেবেই দেখছে। কারণ, ট্রাম্পের পুরো ভাষণে চীনের বিরুদ্ধে কোনো নতুন অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা ছিল না। তাই তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানোর সম্ভাবনাও তুলনামূলক কম।

তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে গড়ে ওঠা আস্থার পরিবেশে নতুন চাপ তৈরি করবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক পূর্ব এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ পরিচালক মিরা র‌্যাপ-হুপার বলেন, ‘ট্রাম্প চীনের নির্বাচনি হস্তক্ষেপের ভিত্তিহীন অভিযোগ ব্যবহার করে ভোটাধিকার সীমিত করার আইন পাসে কংগ্রেসের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছেন।’

র‌্যাপ-হুপারের মতে, ট্রাম্প সম্ভবত বিশ্বাস করেন, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং সেপ্টেম্বরে জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ওয়াশিংটন সফর এ বক্তব্যের পরও টিকে থাকবে।

তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনি রাজনীতির স্বার্থে ট্রাম্পের এমন বক্তব্য সাময়িকভাবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সুবিধা এনে দিলেও তা বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে সদ্য গড়ে ওঠা সমঝোতাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিতে পারে।

Ad
Ad
ad
ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানের সঙ্গে বৈরিতার মধ্যেই ২ মুসলিম শক্তিধর দেশকে পাশে পেল সৌদি

চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর হামলাকে ‘তিন দেশের সবার ওপর হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তিন দেশের প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ‘যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা’ এবং ‘তিন দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব দিক আরও

১৯ ঘণ্টা আগে

হরমুজ নিয়ে ওমানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্তের পথে, তবে নৌপথ খুলছে না: ইরান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে সমঝোতাকে যুদ্ধ বন্ধে বৃহত্তর একটি চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর পর বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানি পথ হরমুজ প্রণালিতে ইরান কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।

২১ ঘণ্টা আগে

বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ, দীর্ঘ যানজট

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ চলে।

১ দিন আগে

শিক্ষার্থীর গুলিতে নিহত ৮: অস্ত্র আইন কঠোর হচ্ছে থাইল্যান্ডে

থাই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এমন আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন, যাতে জনসমক্ষে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে। নতুন আইনে শুধু দায়িত্ব পালনরত সরকারি কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

১ দিন আগে