
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যখন ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেছিল, তখন এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালায়। ইরানের এ হামলার শিকার হয়েছিল সৌদি আরবও। পালটা জবাবে সৌদি আরব তখন ঘোষণা ছাড়াই ইরানে বেশ কয়েকবার ‘গোপনে’ বিমান হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং দুই ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার (১৩ মে) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এর আগে কখনো প্রকাশ্যে ইরানের মাটিতে সৌদি আরবের সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর তথ্য সামনে আসেনি। সৌদির এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষায় সৌদি আরব আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছিল।
পশ্চিমা দুই কর্মকর্তা বলেন, সৌদি বিমান বাহিনীর এসব হামলা মার্চের শেষ দিকে চালানো হয়। তাদের একজন বলেন, ‘সৌদি আরবে হামলার পালটা জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছিল।’ তবে হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
এ বিষয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থাটি। এ বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি কিছু বলতে চাননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির আগে টানা ১০ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধ সৌদি আরবকে এমন হামলার মুখে ফেলেছে, যা মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরেও আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি রাষ্ট্রেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরব ও আমিরাতের এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোও পালটা জবাব দিতে শুরু করেছিল।
তবে দুই দেশের কৌশলে পার্থক্য রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং তেহরানের সঙ্গে খুব সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে নিয়মিতভাবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও যোগাযোগ চলছিল বলে জানা গেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা প্রশমন, সংযম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’
ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার বিষয়টি সৌদি আরব আগে থেকেই ইরানকে জানিয়ে দেয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয় এবং সৌদি আরব আরও কঠোর জবাবের হুমকি দিলে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান-বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, পালটা হামলার পর উত্তেজনা কমিয়ে আনার পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ উপলব্ধি করেছে যে নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি পারস্পরিক আস্থার নয়; বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সংঘাতের সীমা নির্ধারণে দুই পক্ষের অভিন্ন স্বার্থের প্রতিফলন।’
এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আগের সপ্তাহে। ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, তেহরান ও রিয়াদ শত্রুতা বন্ধ, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সমঝোতায় পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া ও সুন্নি মুসলিম বিশ্বের দুই প্রধান শক্তি ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়। এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধবিরতিও কার্যকর রয়েছে।
লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সংঘাতের মধ্যেও সৌদি আরব তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছে। ফলে উপসাগরীয় অনেক দেশের তুলনায় তারা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সৌদি মালিকানাধীন আরব নিউজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাবেক সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল লিখেছেন, ‘ইরান ও অন্যরা যখন সৌদি আরবকে ধ্বংসের অগ্নিকুণ্ডে টেনে নিতে চেয়েছিল, তখন আমাদের নেতৃত্ব প্রতিবেশীর আঘাত সহ্য করেও নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার পথ বেছে নেয়।’
মার্চ জুড়ে উত্তেজনা বাড়ার পর ১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রয়েছে সৌদি আরবের। এর তিন দিন পর সৌদি আরব ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের আরও চার কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চের একেবারে শেষের দিকে এসে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসতে শুরু করে। দেশ দুটির মধ্যে একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়। এর পেছনে কাজ করেছিল পারস্পরিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং হামলা হলে কড়া পালটা জবাব দেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের হুমকি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। এপ্রিলের ১ থেকে ৬ তারিখে সংখ্যাটি নেমে দাঁড়ায় ২৫-এর কিছু বেশিতে।
এদিকে পশ্চিমা সূত্রগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুর দিকে ইরাকের ভূখণ্ড থেকেও সৌদি আরবে বেশ কিছু হামলা হয়েছিল। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশটির দিকে ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এরপর ১২ এপ্রিল ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছিল সৌদি আরব।
ওই পরিস্থিতিতে রিয়াদ আবারও ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে পালটা হামলার কথা ভাবতে শুরু করে। তখন কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় পাকিস্তান। সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে দেশটি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসে।
রাজনীতি/এসআর

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যখন ইরানে যৌথ হামলা শুরু করেছিল, তখন এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে পালটা হামলা চালায়। ইরানের এ হামলার শিকার হয়েছিল সৌদি আরবও। পালটা জবাবে সৌদি আরব তখন ঘোষণা ছাড়াই ইরানে বেশ কয়েকবার ‘গোপনে’ বিমান হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা এবং দুই ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার (১৩ মে) রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এর আগে কখনো প্রকাশ্যে ইরানের মাটিতে সৌদি আরবের সরাসরি সামরিক অভিযান চালানোর তথ্য সামনে আসেনি। সৌদির এই হামলা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের সুরক্ষায় সৌদি আরব আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছিল।
পশ্চিমা দুই কর্মকর্তা বলেন, সৌদি বিমান বাহিনীর এসব হামলা মার্চের শেষ দিকে চালানো হয়। তাদের একজন বলেন, ‘সৌদি আরবে হামলার পালটা জবাব হিসেবেই এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালানো হয়েছিল।’ তবে হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, তা নিশ্চিত করতে পারেনি রয়টার্স।
এ বিষয়ে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছিল বার্তা সংস্থাটি। এ বিষয়ে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সরাসরি কিছু বলতে চাননি। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তার জন্য মার্কিন সামরিক সুরক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু যুদ্ধবিরতির আগে টানা ১০ সপ্তাহ ধরে চলা ইরান যুদ্ধ সৌদি আরবকে এমন হামলার মুখে ফেলেছে, যা মার্কিন নিরাপত্তা বলয়ের ভেতরেও আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) ছয়টি রাষ্ট্রেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। শুধু মার্কিন সামরিক ঘাঁটিই নয়, বেসামরিক স্থাপনা, বিমানবন্দর ও তেল অবকাঠামোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে।
সোমবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরব ও আমিরাতের এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোও পালটা জবাব দিতে শুরু করেছিল।
তবে দুই দেশের কৌশলে পার্থক্য রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলনামূলক কঠোর অবস্থান নিয়ে ইরানের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছে এবং তেহরানের সঙ্গে খুব সীমিত কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখেছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়া ঠেকাতে নিয়মিতভাবে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে। রিয়াদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমেও যোগাযোগ চলছিল বলে জানা গেছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘সৌদি আরব সবসময় উত্তেজনা প্রশমন, সংযম এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।’
ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার বিষয়টি সৌদি আরব আগে থেকেই ইরানকে জানিয়ে দেয়। এরপর দুই দেশের মধ্যে নিবিড় কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয় এবং সৌদি আরব আরও কঠোর জবাবের হুমকি দিলে শেষ পর্যন্ত উত্তেজনা কমানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান-বিষয়ক প্রকল্প পরিচালক আলী ভায়েজ বলেন, পালটা হামলার পর উত্তেজনা কমিয়ে আনার পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ উপলব্ধি করেছে যে নিয়ন্ত্রণহীন সংঘাত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি পারস্পরিক আস্থার নয়; বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সংঘাতের সীমা নির্ধারণে দুই পক্ষের অভিন্ন স্বার্থের প্রতিফলন।’
এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা কার্যকর হয় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আগের সপ্তাহে। ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, তেহরান ও রিয়াদ শত্রুতা বন্ধ, পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা এবং উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই সমঝোতায় পৌঁছায়।
মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া ও সুন্নি মুসলিম বিশ্বের দুই প্রধান শক্তি ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংঘাতে বিপরীত পক্ষকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। তবে ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়। এর অংশ হিসেবে ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের যুদ্ধবিরতিও কার্যকর রয়েছে।
লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় সংঘাতের মধ্যেও সৌদি আরব তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখতে পেরেছে। ফলে উপসাগরীয় অনেক দেশের তুলনায় তারা তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতির মুখে পড়েছে।
সৌদি মালিকানাধীন আরব নিউজে প্রকাশিত এক নিবন্ধে সাবেক সৌদি গোয়েন্দাপ্রধান প্রিন্স তুর্কি আল-ফয়সাল লিখেছেন, ‘ইরান ও অন্যরা যখন সৌদি আরবকে ধ্বংসের অগ্নিকুণ্ডে টেনে নিতে চেয়েছিল, তখন আমাদের নেতৃত্ব প্রতিবেশীর আঘাত সহ্য করেও নাগরিকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষার পথ বেছে নেয়।’
মার্চ জুড়ে উত্তেজনা বাড়ার পর ১৯ মার্চ রিয়াদে এক সংবাদ সম্মেলনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রয়েছে সৌদি আরবের। এর তিন দিন পর সৌদি আরব ইরানের সামরিক অ্যাটাশে এবং দূতাবাসের আরও চার কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা বলছেন, মার্চের একেবারে শেষের দিকে এসে ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের উত্তেজনা অনেকটাই ফিকে হয়ে আসতে শুরু করে। দেশ দুটির মধ্যে একটি বোঝাপড়া তৈরি হয়। এর পেছনে কাজ করেছিল পারস্পরিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং হামলা হলে কড়া পালটা জবাব দেওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের হুমকি।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। এপ্রিলের ১ থেকে ৬ তারিখে সংখ্যাটি নেমে দাঁড়ায় ২৫-এর কিছু বেশিতে।
এদিকে পশ্চিমা সূত্রগুলোর মূল্যায়ন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুর দিকে ইরাকের ভূখণ্ড থেকেও সৌদি আরবে বেশ কিছু হামলা হয়েছিল। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৭ ও ৮ এপ্রিল দেশটির দিকে ৩১টি ড্রোন ও ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। এরপর ১২ এপ্রিল ইরাকের ভূখণ্ড থেকে হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে ইরাকি রাষ্ট্রদূতকে তলবও করেছিল সৌদি আরব।
ওই পরিস্থিতিতে রিয়াদ আবারও ইরান ও ইরাকের বিরুদ্ধে পালটা হামলার কথা ভাবতে শুরু করে। তখন কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ায় পাকিস্তান। সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে দেশটি। পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই উত্তেজনা অনেকটাই কমে আসে।
রাজনীতি/এসআর

পুলিশ জানায়, কিং ডেভিড জুনিয়র স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাসটি একটি শিক্ষা সফর শেষে ফিরছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামার সময় বাসটিতে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। ফলে চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণহীন বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে গিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বিশ
৯ ঘণ্টা আগে
গত মাসের যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আবারও প্রতিদিনের হামলা-পালটা হামলার পর্যায়ে পৌঁছেছে। সেই ধারাবাহিকতায় টানা ষষ্ঠ রাতের মতো ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে শুক্রবার উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানোর দাবি
১৩ ঘণ্টা আগে
হুতিদের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলে হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে গোষ্ঠীটি। ইয়েমেনের হোদেইদাহ ও এডেন উপসাগরের দিকে নজর রাখা পার্বত্য এলাকায় এবং লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশপাশে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোতায়েন করেছে। এখন শুধু হামলা শুরুর নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছে তা
১ দিন আগে
স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আর অনুমতি ছাড়া তাদের শিক্ষাগত লক্ষ্য পরিবর্তন করতে পারবেন না বা অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর হতে পারবেন না। এ ছাড়া ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য যে ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ ছিল, তা কমিয়ে ৩০ দিন করা হয়েছে।
১ দিন আগে