আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ ডেকে ইলন মাস্কের খোঁচা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমতি না পাওয়া নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ব্যঙ্গ করে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানিকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ সম্বোধন করেন তিনি। ভারতে একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ বজায় রাখার অভিযোগ তুলে স্টারলিংককে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন মাস্ক।

পোস্টে মাস্ক লেখেন, ‘প্রিয় প্রধানমন্ত্রী আম্বানি, আপনিই যে ভারতের প্রকৃত বস, তা বুঝতে না পারার জন্য আমার বিনীত ক্ষমা গ্রহণ করুন।’ এরপর তিনি প্রশ্ন করেন, আম্বানি কি ভারতের মানুষের ওপর একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ বজায় রাখতে চাইলেও স্টারলিংককে প্রতিযোগিতা করতে দেবেন?

মাস্কের দাবি, ভারতের অনেক এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ নেই। এতে শিশুরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে পণ্য বিক্রি করতে পারছে না। তাঁর মতে, স্টারলিংক চালু হলে এসব মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক ভারতে কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পেতে কাজ করছে পাঁচ বছর ধরে বলে দাবি করেছেন মাস্ক। তাঁর ভাষ্য, বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে সেবাটি চালুর অনুমতি রয়েছে। বৃহস্পতিবারও তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভারতের সব আইন ও শর্ত মেনে চলার পরও কেন স্টারলিংক লাইসেন্স পায়নি।

এর আগে বুধবার এক ব্যবহারকারীর পোস্টের জবাবে মাস্ক অভিযোগ করেন, ভারতের কয়েকজন ‘প্রভাবশালী ব্যবসায়ী’ একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে স্টারলিংকের কার্যক্রম আটকে দিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিকে তিনি ভারতের জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ বলে উল্লেখ করেন। তবে বৃহস্পতিবার ভারতের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করে। মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, স্যাটেলাইট যোগাযোগসহ সব টেলিযোগাযোগ সেবার জন্য সরকার ন্যায্য ও বৈষম্যহীন অনুমোদনব্যবস্থা বজায় রেখেছে।

ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স পেয়েছে আরও দুটি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো ভারতী গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট ইউটেলস্যাট ওয়ানওয়েব এবং জিও প্ল্যাটফর্মসের পুরো মালিকানাধীন জিও স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনস লিমিটেড। তবে কার্যক্রম শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণের প্রমাণ দিতে হবে। এ জন্য নিরাপত্তা যাচাই চলছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

শুক্রবারের পোস্টে মাস্ক আরও দাবি করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় প্রচলিত যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়লে মানুষের জীবন বাঁচাতে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভারতে সেবা চালুর অনুমতি পেলে দেশটির নারী, পুরুষ ও শিশুদের জীবন রক্ষায়ও প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement