মিয়ানমার জান্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি আলোচনা শুরু, বদলাচ্ছে ওয়াশিংটনের নীতি

মিয়ানমারের সামরিক সরকারের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির জান্তাকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার যে নীতি ওয়াশিংটন অনুসরণ করে আসছিল, এই উদ্যোগকে তার বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত সেপ্টেম্বরে নেপিডোতে যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল ভ্যান্স জান্তা নেতা ও বর্তমানে প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।
১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বরের ওই বৈঠক ছিল অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি যোগাযোগ। প্রথমে এর প্রধান লক্ষ্য ছিল মার্কিন ব্যবসায়ী অ্যাডাম কাস্তিয়োকে মুক্ত করা। তবে আলোচনাটি পরে মিয়ানমারের সঙ্গে আরও বিস্তৃত যোগাযোগের দরজা খুলে দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের অন্যতম প্রধান বিষয় হলো মিয়ানমারে সক্রিয় অনলাইন প্রতারণা বা স্ক্যাম সেন্টারগুলো বন্ধ করা। এসব কেন্দ্র থেকে রোমান্স স্ক্যামসহ নানা ধরনের প্রতারণা চালিয়ে মার্কিন নাগরিকদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এফবিআইয়ের সঙ্গেও মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে।
তবে এসব প্রতারণা বন্ধে জান্তা কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ অনেক স্ক্যাম সেন্টার এমন এলাকায় পরিচালিত হয়, যেগুলো বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে এবং কিছু ক্ষেত্রে এসব কর্মকাণ্ড থেকে সামরিক সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ মিয়ানমারের বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজের মজুত। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বায়ু বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ আধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে এসব খনিজ গুরুত্বপূর্ণ। চীন বর্তমানে মিয়ানমারের এই খনিজের প্রধান ক্রেতা। চীনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা বহুমুখী করতে চাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাই মিয়ানমার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে এসব খনির বড় অংশ এমন এলাকায়, যেখানে জান্তাবিরোধী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
এর মধ্যেই মিন অং হ্লাইংয়ের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। এপ্রিলে তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর চীন, ভারত, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া ও ভিয়েতনাম সফর করেছেন। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ায় তার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বৈঠকও হয়েছে। আনোয়ার বলেছেন, মিয়ানমারকে আবার আসিয়ানভুক্ত আঞ্চলিক সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে ফিরিয়ে আনতে মালয়েশিয়া কাজ করবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন যোগাযোগের সময়েও মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর জান্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে সহায়তার নীতি নিয়েছিল ওয়াশিংটন। এখন স্ক্যাম দমন, আমেরিকান নাগরিকদের স্বার্থ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের মতো সরাসরি মার্কিন স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সেই নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে মিয়ানমারে জান্তার দমন-পীড়ন ও চলমান গৃহযুদ্ধের বাস্তবতা বদলায়নি। ফলে ওয়াশিংটনের এই নতুন যোগাযোগ একদিকে মার্কিন স্বার্থ উদ্ধারের কৌশল, অন্যদিকে জান্তার আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হয়ে উঠছে।













-9f6e2c-256x144.webp)


