কাতারের গ্যাস স্থাপনায় ইরানি হামলা: সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ১৭: ৪৭
রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে কাতারএনার্জির তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকেন্দ্র (বাঁয়ে) ও ইরানের হামলায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

কাতারের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। কারণ, এসব দেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির ক্ষেত্রে কাতারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল এবং তাদের নিজস্ব মজুতও সীমিত।

সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্রে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি পরিচালিত রাস লাফানকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান এলএনজি কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। এখানে গ্যাস প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও রপ্তানির জন্য সমন্বিত অবকাঠামো রয়েছে। বিশ্বব্যাপী মোট এলএনজি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশই কাতার থেকে আসে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি। এর বেশিরভাগই এই কেন্দ্র থেকে সরবরাহ করা হয়।

এদিকে মার্চের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় এলএনজি ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের উৎপাদন স্থগিত রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি যুক্ত হওয়ায় কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার পাশাপাশি রাস লাফান থেকে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশেও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। ফলে সরবরাহে এই বিঘ্ন বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

এলএনজি ছাড়াও এই শিল্পাঞ্চলে ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদন করা হয়, যা কৃষিখাতের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি সালফার ও হিলিয়াম উৎপাদনও হয় এখানে। মাইক্রোচিপ তৈরিতে ব্যবহৃত হিলিয়ামের বিশ্ব উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশই আসে এই কেন্দ্র থেকে।

কাতারের উত্তর-পূর্ব উপকূলে, রাজধানী দোহা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি। এটি পারস্য উপসাগরের একটি বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করে, যা কাতার ও ইরানের মধ্যে ভাগাভাগি করা। কাতার এ ক্ষেত্রটিকে ‘নর্থ ডোম’ এবং ইরান ‘সাউথ পার্স’ নামে উল্লেখ করে।

ad
ad

বিশ্ব রাজনীতি থেকে আরও পড়ুন

ইরানকে সৌদি আরবের কড়া হুঁশিয়ারি

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ বলেছেন, তাদের ধৈর্যের সীমা আছে এবং ইরানকে অবিলম্বে তাদের আঞ্চলিক কৌশল পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সংঘাতের ফলে দুই দেশের মধ্যকার আস্থার দেয়াল পুরোপুরি ধসে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

৭ ঘণ্টা আগে

স্কুলে মোবাইল নিষিদ্ধ করছে পোল্যান্ড

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে পোল্যান্ড। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী বারবারা নোওয়াকা।

৮ ঘণ্টা আগে

কাতারের ফের হামলা হলে ইরানের পুরো গ্যাসক্ষেত্র ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি ট্রাম্পের

কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় ইরান যদি আর কোনো প্রতিশোধমূলক হামলা চালায়, তবে দেশটির পুরো ‘সাউথ পার্স’ গ্যাসক্ষেত্র ‘বিশাল বিস্ফোরণে উড়িয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

৮ ঘণ্টা আগে

ইরানে ইসরায়েলের হামলায় জ্বলছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র

‘সাউথ পারস’ বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত গ্যাসক্ষেত্র। ইরান ও কাতার যৌথভাবে এই গ্যাসক্ষেত্রের মালিকানা ধারণ করে। এর ইরানি মালিকানাধীন অংশের নাম ‘সাউথ পারস’, কাতারের মালিকানাধীন অংশের নাম ‘নর্থ ডোম’।

৮ ঘণ্টা আগে