ফ্রান্সে ‘ইয়েলো ভেস্টে’র প্রস্তুতি, সহিংসতা-লুটপাট ঠেকাতে হুঁশিয়ারি ম্যাখোঁর

ফ্রান্সে বড় পরিসরে নতুন করে বিক্ষোভের প্রস্তুতি চলছে. যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন। সবচেয়ে বড় জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়েছে রাজধানী প্যারিসে। তবে গত সপ্তাহের মতো বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও লুটপাটের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার (২৪ অক্টোবর) ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে প্যারিসে বড় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। এ কর্মসূচির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাক্ট-২’।
এ প্রসঙ্গে কাতার সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, আগামী বিক্ষোভে যারা বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের থামানো হবে। গত সপ্তাহের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি কোনোভাবেই হতে দেওয়া হবে না।
গত শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও সরকারি সেবার অবস্থা নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। প্যারিস, মার্সেই, লিওঁ ও লিমোজসহ বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভে পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষও হয়।
আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে কয়েকটি শহরে রাতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সরকার শনিবারের সম্ভাব্য বিক্ষোভ সামনে রেখে প্যারিসে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটও প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
এর মধ্যেই ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন শনিবারের কর্মসূচিকে ‘অ্যাক্ট-২’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ২০১৮ সালে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা এই আন্দোলন কয়েক বছর নিষ্ক্রিয় থাকার পর সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মধ্যে আবার সক্রিয় হয়েছে।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু বুধবার শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো নতুন নীতিগত ঘোষণা আসেনি।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে ফ্রান্সের আর্থিক বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সরকারের ঋণের সুদহার বেড়েছে, যা দেশটির আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ম্যাখোঁর জন্য পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে, কারণ তার মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে এই বিক্ষোভ সরকারের ওপর নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত চাপ তৈরি করেছে। একই সময়ে দেশটির ডান ও বাম— উভয় রাজনৈতিক শিবিরই সরকারের বিক্ষোভ মোকাবিলার পদ্ধতি নিয়ে সমালোচনা করছে। ২৪ অক্টোবরের কর্মসূচি তাই এখন ফরাসি সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।


-10b8d5.jpg)






-10b8d5-256x144.webp)





