ইউরোপে একের পর এক দেশে ভাঙছে তাপমাত্রার রেকর্ড, জার্মানি-ইতালিতে চরম সতর্কতা

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
ইউরোপ জুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে গরম থেকে স্বস্তি পেতে জার্মানির রুগেন দ্বীপের সমুদ্রসৈকতে ভিড় করেছেন অবকাশযাপনকারীরা। ছবি: এপি
ইউরোপ জুড়ে চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে গরম থেকে স্বস্তি পেতে জার্মানির রুগেন দ্বীপের সমুদ্রসৈকতে ভিড় করেছেন অবকাশযাপনকারীরা। ছবি: এপি

ইউরোপ জুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ আরও বিস্তৃত হয়ে এবার জার্মানি ও ইতালিকে গ্রাস করেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। একই সঙ্গে ডেনমার্ক, স্লোভাকিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানিতে একের পর এক তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এমন চরম তাপপ্রবাহ কার্যত অসম্ভব ছিল।

প্রভাবশালী ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (২৭ জুন) জার্মানির প্রায় পুরো দেশেই চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ। দেশ জুড়ে গড়ে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং কোথাও কোথাও ৪২ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদ কারস্টেন ব্রান্ট বলেন, সপ্তাহান্তেই জার্মানির কিছু অঞ্চলে তাপপ্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির অনেক ওপরে যেতে পারে।

শুক্রবার ফ্রান্স সীমান্তসংলগ্ন সারব্রুকেনের কাছে ৪১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির নতুন রেকর্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ।

জনজীবন বিপর্যস্ত, অবকাঠামোতেও চাপে

তীব্র গরমে জার্মানির জাতীয় রেল অপারেটর ডয়েচে বান যাত্রীদের অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই দূরপাল্লার টিকিট বাতিলের সুযোগ দিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপ, বজ্রঝড় ও দাবানলের কারণে রেললাইন, সিগন্যাল এবং বৈদ্যুতিক তারের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে।

বার্লিনে একটি ফার্মেসির বাইরে থাকা থার্মোমিটারে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখছেন এক পথচারী। ছবি: এপি
বার্লিনে একটি ফার্মেসির বাইরে থাকা থার্মোমিটারে ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা দেখছেন এক পথচারী। ছবি: এপি

হামবুর্গের কাছে জার্মানির ব্যস্ততম মহাসড়ক এ৭-এর একটি অংশে প্রচণ্ড গরমে অ্যাসফল্ট ফেটে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ করে দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে পানি সাশ্রয়ের আহ্বান জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় সরকারগুলো।

ইতালিতে মিলান, রোম, তুরিন, ভেনিস, জেনোয়া, ফ্লোরেন্স ও বোলোনিয়াসহ ১৮টি শহরে সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। তীব্র গরম এড়াতে মিলানের প্রাইড শোভাযাত্রা বিলম্বিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ফ্রাঙ্কফুর্টে অনুষ্ঠিতব্য আয়রনম্যান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপের সাইক্লিং ও দৌড়ের দূরত্বও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফ্রান্সে এরই মধ্যে তাপপ্রবাহে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৪০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রায় ট্রেন চলাচল, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় জনসমক্ষে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন উন্মুক্ত অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। তাপপ্রবাহের কারণে দেশটিতে দাবানলের ঘটনাও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে।

ডেনমার্কে ১৮৭৪ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। স্লোভাকিয়াও ইতিহাসের উষ্ণতম রাত পার করেছে, যেখানে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও ২৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামেনি।

লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে একটি ফোয়ারার পানিতে খেলতে খেলতে গরম থেকে স্বস্তি নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: এপি
লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে একটি ফোয়ারার পানিতে খেলতে খেলতে গরম থেকে স্বস্তি নিচ্ছে এক শিশু। ছবি: এপি

বিজ্ঞানীদের মতে, 'ওমেগা ব্লক' নামে পরিচিত একটি আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উষ্ণ বায়ু দীর্ঘ সময় ধরে ইউরোপের ওপর আটকে রয়েছে। এতে তাপমাত্রা মৌসুমি স্বাভাবিকের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

গবেষকদের ভাষ্য, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। এর ফলে ইউরোপ জুড়ে বিদ্যুতের পাখা ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। তবে উত্তর ইউরোপের অধিকাংশ বাড়ি শীত প্রতিরোধের জন্য নির্মিত হওয়ায় এমন চরম গরম সামাল দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement