গরম থেকে বাঁচতে পানিতে ডুবে ৪০ প্রাণহানি, উষ্ণতম রাতের সাক্ষীও হলো ফ্রান্স

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে প্যারিসের আইকনিক আইফেল টাওয়ারের সামনের ঝরনায় গা ভেজাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে প্যারিসের আইকনিক আইফেল টাওয়ারের সামনের ঝরনায় গা ভেজাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ জুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ইতিহাসের উষ্ণতম রাতের সাক্ষী হয়েছে ফ্রান্স। এদিকে তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে অননুমোদিত জলাশয়ে সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে দেশটিতে।

গার্ডিয়ান ও আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, গত বৃহস্পতিবার থেকেই ফ্রান্সে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে থাকে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) নাগাদ ৪০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অধিকাংশই তরুণ।

মঙ্গলবার ফ্রান্সের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়। এ দিন এক জরুরি বৈঠক শেষে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট সংকটে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারাচ্ছেন তরুণরা। তিনি এই ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক দুর্যোগ’ বলে উল্লেখ করেন।

ফ্রান্সের ক্রীড়ামন্ত্রী মারিনা ফেরারি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, তাপপ্রবাহের সময় অননুমোদিত স্থানে সাঁতার কাটাকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

ফরাসি আবহাওয়া সংস্থা মেতেও-ফ্রান্স এক বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, ফ্রান্স জুড়ে প্রখর রোদ অব্যাহত থাকতে পারে। শুধু তাই নয়, তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

রেকর্ড উষ্ণ রাত

মেতেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সময়টি ১৯৪৭ সালে রেকর্ড রাখা শুরু হওয়ার পর দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ রাত। এ রাতে দেশ জুড়ে ৩০টি আবহাওয়া কেন্দ্রের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০১৯ সালের আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।

তাপপ্রবাহে বোর্দো ও পোয়তিয়েরসহ বেশ কয়েকটি শহরে তাপমাত্রার নতুন রেকর্ড হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ও জনসেবাও চাপে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে ৫৪টি এলাকায় সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় অনেক স্কুল আগেভাগে ছুটি দেওয়া বা ক্লাসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছে।

চরম গরমের কারণে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কার্পঁত্রা শহরে একটি গাড়ির ভেতর অচেতন অবস্থায় পাওয়া দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুর মৃত্যুর পেছনেও তাপপ্রবাহকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। এ ছাড়া বোর্দো অঞ্চলে তাপজনিত স্বাস্থ্য জটিলতায় ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

গোটা ইউরোপই ‘হিট চেম্বার’

তাপে পুড়ছে যুক্তরাজ্যও। দেশটির আবহাওয়া দপ্তর সতর্ক করেছে, দেশটিতে চলমান চার দিনের তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা জুন মাসের আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। স্পেনের উত্তরাঞ্চলের শহর সান সেবাস্তিয়ানেও ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা ওঠার পূর্বাভাস রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, ‘ওমেগা ব্লক’ নামে পরিচিত একটি উচ্চচাপ বলয়ের কারণে সহারা মরুভূমি থেকে উত্তপ্ত বায়ু ইউরোপে আটকে পড়েছে। গবেষকদের সতর্কতা, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে, যার সঙ্গে বাড়ছে প্রাণহানি ও চরম আবহাওয়ার ঝুঁকিও।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement