
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে চার দিনব্যাপী উদ্যাপনের সূচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতীয় উদ্যাপনের মঞ্চেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প। কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন হুমকি আখ্যা দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশকে ইঙ্গিত করে তিনি তীব্র আক্রমণ শানান। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং এ ধরনের মতাদর্শের সমর্থকরাই ‘১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের শত্রু’।
শনিবার (৫ জুলাই) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধে প্রায় আধা ঘণ্টার ভাষণ দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সফরের অংশ হিসেবে এটি ছিল তার সর্বশেষ কর্মসূচি।
‘ইউএসএ! ইউএসএ!’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়। একপর্যায়ে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নের কারণে ভাষণে সংক্ষিপ্ত বিরতি পড়ে। পরে তিনি মাউন্ট রাশমোরে খোদাই করা চার মার্কিন প্রেসিডেন্ট—জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট এবং আব্রাহাম লিংকনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ছিলেন কর্মের মানুষ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ, সাহসী মানুষ, নিয়তির মানুষ এবং সত্যিকার অর্থে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। সর্বোপরি, তারা ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।’ উল্লেখ্য, মাউন্ট রাশমোরে নিজের মুখাবয়ব যুক্ত করার ধারণা ট্রাম্প অতীতে কখনোই পুরোপুরি নাকচ করেননি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যতিক্রমী অবস্থানের ভিত্তি শুধু সংবিধান নয়, বরং দেশটির স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ও। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ‘আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার’ এবং ‘আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার’ চেষ্টা চলছে। মূলত শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে গঠিত শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের পরিচয় ফিরিয়ে আনব।’
‘কমিউনিস্ট হুমকি’ নিয়ে ট্রাম্পের আক্রমণ
এরপর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার মাস আগে দেওয়া এ ভাষণে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বারবার তুলে ধরা একটি বিষয় পুনরাবৃত্তি করেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ কমিউনিজমের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
ট্রাম্পের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অভিবাসনপন্থি একটি ভাষণ দেন। অনেকের মতে, তার ভাষণটি ট্রাম্প এবং তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের সমালোচনা ছিল। মামদানি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে তিনজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীসহ চারজন প্রগতিশীল প্রার্থী জয়ী হন। মঙ্গলবার কলোরাডোতেও প্রগতিশীল প্রার্থীরা জয় পান। এ ছাড়া কেনটাকি, নিউ জার্সি, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসেও তারা বিভিন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।
নিজের নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয় অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে কমিউনিজমবিরোধী বক্তব্যও যুক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এই মহৎ বার্ষিকী যত এগিয়ে আসছে, আমরা দেখছি আমাদের আমেরিকান পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে।’
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘শীতল যুদ্ধের সময় আমরা কমিউনিজমের হুমকির বিরুদ্ধে লড়েছি এবং জয়ী হয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের দেশেই আবার কমিউনিস্ট হুমকি ফিরে এসেছে। এমনকি নতুন আসা কিছু অভিবাসীও এমন সব ধারণা নিয়ে আসছে, যা আমাদের জীবনধারা ও সাফল্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।’
তিনি দাবি করেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার চেয়েও কমিউনিজম আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি। বলেন, ‘এটি সংবিধানের শত্রু। সর্বোপরি, এটি ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের শত্রু। কমিউনিজম জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখের অন্বেষণের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি মৃত্যু, স্বৈরতন্ত্র এবং অশুভের অনুসরণ।’
ট্রাম্পের দাবি, কমিউনিস্টরা ঈশ্বর বা ধর্মকে ভালোবাসে না এবং আইন, ন্যায়বিচার, নীতি, ঐতিহ্য কিংবা ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকারের প্রতি তাদের কোনো সম্মান নেই। তিনি বলেন, ‘আপনি হয় কার্ল মার্ক্সের প্রতি অনুগত থাকতে পারেন, নয়তো আমেরিকার প্রতি। আপনি হয় কমিউনিস্ট হতে পারেন, নয়তো দেশপ্রেমিক। দুটো এক সঙ্গে হওয়া সম্ভব নয়।’
ইতিহাস ও অভিবাসন ইস্যুতেও সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদ্যাপনকে ঘিরে ইতিহাসকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করার অভিযোগে ট্রাম্প এরই মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ওয়াশিংটন ও জেফারসনের মতো শ্বেতাঙ্গ খ্রিষ্টান পুরুষদের কেন্দ্র করে একটি জাতীয় বয়ান তুলে ধরছেন, অথচ তারা যে দাসপ্রথার মালিক ছিলেন, সেই বিষয়টি উপেক্ষা করছেন।
শুক্রবারের ভাষণেও তিনি ইতিহাস নিয়ে প্রগতিশীল ব্যাখ্যার সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যারা আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে মার্ক্সবাদী মিথ্যা ছড়ায়, আমাদের সন্তানদের বলে আমরা চুরি করা জমিতে বাস করি বা আমাদের বীররা নিপীড়ক ছিলেন, তারা শুধু অতীতকে অপমান করছে না। তারা আমাদের ভবিষ্যতের বিরুদ্ধেও আক্রমণ চালাচ্ছে। আমরা তা হতে দেবো না।’
তবে তিনি যে ব্ল্যাক হিলস এলাকায় ভাষণ দেন, সেটি ১৮৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সিউ জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে দখল করে নেয়। যদিও একটি চুক্তির মাধ্যমে ওই ভূমি তাদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছিল, পরে কংগ্রেস তাদের সেই জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।
এরপর ট্রাম্প কথিত কমিউনিস্ট হুমকিকে অভিবাসীদের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং ইঙ্গিত দেন, তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
‘কমিউনিজমকে দ্রুত পরাজিত’ করার এবং ‘তাদের নির্বাসনে পাঠানোর’ অঙ্গীকার করে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত তাদের বিদায় করব। এরপর আমাদের দেশকে আগের চেয়ে আরও বড়, আরও উন্নত ও আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলব। আমেরিকা কখনোই কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হবে না।’
ট্রাম্প কংগ্রেসের প্রতি ফিলিবাস্টার পদ্ধতি বাতিল করে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান। সমালোচকদের মতে, এ বিল ভোটাধিকার সীমিত করার একটি উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ‘এটা করতে পারলে আমরা একশ বছর কোনো নির্বাচন হারব না। কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়েছে অবৈধ অভিবাসী, অপরাধী এবং যারা কাজ করতে চায় না— এমন মানুষদের নিয়ে।’
এর আগে সন্ধ্যায় জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরা নীল কার্পেট বিছানো মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের বিখ্যাত কিছু বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে কান্ট্রি সংগীতশিল্পী চান্সি উইলিয়ামস গান পরিবেশন করেন।
সমবেত দর্শকদের মধ্যে এক শিশুকে হাতে লেখা একটি প্ল্যাকার্ড ধরে থাকতে দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘Trump the GOAT’।
শনিবার ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। পরে সেখানে বড় পরিসরের আতশবাজির আয়োজন করা হবে। তবে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা দিবসের উদ্যাপনে ইতোমধ্যে বিঘ্ন ঘটেছে। এদিকে সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থনের হারও ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে চার দিনব্যাপী উদ্যাপনের সূচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে জাতীয় উদ্যাপনের মঞ্চেও বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ অব্যাহত রাখেন ট্রাম্প। কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন হুমকি আখ্যা দিয়ে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশকে ইঙ্গিত করে তিনি তীব্র আক্রমণ শানান। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে ‘কমিউনিস্ট হুমকি’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং এ ধরনের মতাদর্শের সমর্থকরাই ‘১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের শত্রু’।
শনিবার (৫ জুলাই) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার রাতে দক্ষিণ ডাকোটার ঐতিহাসিক মাউন্ট রাশমোর স্মৃতিসৌধে প্রায় আধা ঘণ্টার ভাষণ দেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সফরের অংশ হিসেবে এটি ছিল তার সর্বশেষ কর্মসূচি।
‘ইউএসএ! ইউএসএ!’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানো হয়। একপর্যায়ে এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের উড্ডয়নের কারণে ভাষণে সংক্ষিপ্ত বিরতি পড়ে। পরে তিনি মাউন্ট রাশমোরে খোদাই করা চার মার্কিন প্রেসিডেন্ট—জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট এবং আব্রাহাম লিংকনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা ছিলেন কর্মের মানুষ, উচ্চাকাঙ্ক্ষী মানুষ, সাহসী মানুষ, নিয়তির মানুষ এবং সত্যিকার অর্থে অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী। সর্বোপরি, তারা ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন।’ উল্লেখ্য, মাউন্ট রাশমোরে নিজের মুখাবয়ব যুক্ত করার ধারণা ট্রাম্প অতীতে কখনোই পুরোপুরি নাকচ করেননি।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যতিক্রমী অবস্থানের ভিত্তি শুধু সংবিধান নয়, বরং দেশটির স্বতন্ত্র সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ও। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ‘আমেরিকান চেতনাকে দুর্বল করে দেওয়ার’ এবং ‘আমাদের ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন করার’ চেষ্টা চলছে। মূলত শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে গঠিত শ্রোতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের দেশের পরিচয় ফিরিয়ে আনব।’
‘কমিউনিস্ট হুমকি’ নিয়ে ট্রাম্পের আক্রমণ
এরপর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার প্রচলিত ধারা থেকে সরে আসেন ট্রাম্প। নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার চার মাস আগে দেওয়া এ ভাষণে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বারবার তুলে ধরা একটি বিষয় পুনরাবৃত্তি করেন। তার দাবি, ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশ কমিউনিজমের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
ট্রাম্পের ভাষণের কয়েক ঘণ্টা আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অভিবাসনপন্থি একটি ভাষণ দেন। অনেকের মতে, তার ভাষণটি ট্রাম্প এবং তার ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ আন্দোলনের সমালোচনা ছিল। মামদানি নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে তিনজন গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রীসহ চারজন প্রগতিশীল প্রার্থী জয়ী হন। মঙ্গলবার কলোরাডোতেও প্রগতিশীল প্রার্থীরা জয় পান। এ ছাড়া কেনটাকি, নিউ জার্সি, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসেও তারা বিভিন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন।
নিজের নির্বাচনি প্রচারণার অন্যতম প্রধান বিষয় অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের সঙ্গে কমিউনিজমবিরোধী বক্তব্যও যুক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এই মহৎ বার্ষিকী যত এগিয়ে আসছে, আমরা দেখছি আমাদের আমেরিকান পরিচয় আবারও আক্রমণের মুখে।’
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘শীতল যুদ্ধের সময় আমরা কমিউনিজমের হুমকির বিরুদ্ধে লড়েছি এবং জয়ী হয়েছি। কিন্তু এখন আমাদের দেশেই আবার কমিউনিস্ট হুমকি ফিরে এসেছে। এমনকি নতুন আসা কিছু অভিবাসীও এমন সব ধারণা নিয়ে আসছে, যা আমাদের জীবনধারা ও সাফল্যের সম্পূর্ণ বিপরীত।’
তিনি দাবি করেন, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার চেয়েও কমিউনিজম আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি। বলেন, ‘এটি সংবিধানের শত্রু। সর্বোপরি, এটি ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাইয়ের শত্রু। কমিউনিজম জীবন, স্বাধীনতা এবং সুখের অন্বেষণের সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি মৃত্যু, স্বৈরতন্ত্র এবং অশুভের অনুসরণ।’
ট্রাম্পের দাবি, কমিউনিস্টরা ঈশ্বর বা ধর্মকে ভালোবাসে না এবং আইন, ন্যায়বিচার, নীতি, ঐতিহ্য কিংবা ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকারের প্রতি তাদের কোনো সম্মান নেই। তিনি বলেন, ‘আপনি হয় কার্ল মার্ক্সের প্রতি অনুগত থাকতে পারেন, নয়তো আমেরিকার প্রতি। আপনি হয় কমিউনিস্ট হতে পারেন, নয়তো দেশপ্রেমিক। দুটো এক সঙ্গে হওয়া সম্ভব নয়।’
ইতিহাস ও অভিবাসন ইস্যুতেও সমালোচনা
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা উদ্যাপনকে ঘিরে ইতিহাসকে নতুনভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করার অভিযোগে ট্রাম্প এরই মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, তিনি ওয়াশিংটন ও জেফারসনের মতো শ্বেতাঙ্গ খ্রিষ্টান পুরুষদের কেন্দ্র করে একটি জাতীয় বয়ান তুলে ধরছেন, অথচ তারা যে দাসপ্রথার মালিক ছিলেন, সেই বিষয়টি উপেক্ষা করছেন।
শুক্রবারের ভাষণেও তিনি ইতিহাস নিয়ে প্রগতিশীল ব্যাখ্যার সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যারা আমাদের ঐতিহ্য নিয়ে মার্ক্সবাদী মিথ্যা ছড়ায়, আমাদের সন্তানদের বলে আমরা চুরি করা জমিতে বাস করি বা আমাদের বীররা নিপীড়ক ছিলেন, তারা শুধু অতীতকে অপমান করছে না। তারা আমাদের ভবিষ্যতের বিরুদ্ধেও আক্রমণ চালাচ্ছে। আমরা তা হতে দেবো না।’
তবে তিনি যে ব্ল্যাক হিলস এলাকায় ভাষণ দেন, সেটি ১৮৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সিউ জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে দখল করে নেয়। যদিও একটি চুক্তির মাধ্যমে ওই ভূমি তাদের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছিল, পরে কংগ্রেস তাদের সেই জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করে।
এরপর ট্রাম্প কথিত কমিউনিস্ট হুমকিকে অভিবাসীদের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং ইঙ্গিত দেন, তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে।
‘কমিউনিজমকে দ্রুত পরাজিত’ করার এবং ‘তাদের নির্বাসনে পাঠানোর’ অঙ্গীকার করে তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুত তাদের বিদায় করব। এরপর আমাদের দেশকে আগের চেয়ে আরও বড়, আরও উন্নত ও আরও শক্তিশালী করে গড়ে তুলব। আমেরিকা কখনোই কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হবে না।’
ট্রাম্প কংগ্রেসের প্রতি ফিলিবাস্টার পদ্ধতি বাতিল করে ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ পাস করার আহ্বান জানান। সমালোচকদের মতে, এ বিল ভোটাধিকার সীমিত করার একটি উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ‘এটা করতে পারলে আমরা একশ বছর কোনো নির্বাচন হারব না। কমিউনিস্ট পার্টি গঠিত হয়েছে অবৈধ অভিবাসী, অপরাধী এবং যারা কাজ করতে চায় না— এমন মানুষদের নিয়ে।’
এর আগে সন্ধ্যায় জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন, থিওডোর রুজভেল্ট ও আব্রাহাম লিংকনের চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরা নীল কার্পেট বিছানো মঞ্চে দাঁড়িয়ে তাদের বিখ্যাত কিছু বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে কান্ট্রি সংগীতশিল্পী চান্সি উইলিয়ামস গান পরিবেশন করেন।
সমবেত দর্শকদের মধ্যে এক শিশুকে হাতে লেখা একটি প্ল্যাকার্ড ধরে থাকতে দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল, ‘Trump the GOAT’।
শনিবার ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের। পরে সেখানে বড় পরিসরের আতশবাজির আয়োজন করা হবে। তবে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতা দিবসের উদ্যাপনে ইতোমধ্যে বিঘ্ন ঘটেছে। এদিকে সাম্প্রতিক জরিপে ট্রাম্পের জনসমর্থনের হারও ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

গত এপ্রিলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার সময় ইরানের পক্ষে প্রতিনিধিত্বারীদের হত্যার ‘ষড়যন্ত্র’ করেছিল ইসরায়েল। আর এ বিষয়ে ইরানকে সতর্ক করে দিয়েছিল খোদ যুক্তরাষ্ট্র। বলেছিল, তেহরান যেন এ পরিকল্পনার বিষয়ে সজাগ থাকে।
৮ ঘণ্টা আগে
যুদ্ধকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তার প্রকাশ্য জানাজা ও দাফন স্থগিত রাখা হয়েছিল বলে দাবি করেছে তেহরান। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছে দেশটি।
৮ ঘণ্টা আগে
এদিকে বিশ্বের প্রায় সব দেশ ইরানে তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে আলি খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। মুসলিম দেশগুলো থেকে শুরু রাশিয়াসহ ইউরোপ-আমেরিকার দেশ থেকেও সেখানে হাজির হয়েছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানে আলি খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
৯ ঘণ্টা আগে
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে টানা ৩৬ বছর দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এই আয়োজনকে শুধু একজন নেতার বিদায় নয়, বরং জাতীয় শক্তি, প্রতিরোধ এবং সামাজিক সংহতির প্রতীক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে ইরান।
২১ ঘণ্টা আগে