
ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন, যা যুদ্ধ শুরুর মূল কারণগুলোর অনেকটাই অমীমাংসিত রেখে দেবে— এমন আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। দেশটির একাধিক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ বহাল রেখে যদি চুক্তি করা হয় এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মতো বিষয়গুলো আলোচনার বাইরে রাখা হয়, তাহলে ইসরায়েল এই যুদ্ধকে ‘অসম্পূর্ণ’ মনে করবে।
এক ইসরায়েলি সূত্রের ভাষ্য, ‘সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ট্রাম্প আলোচনায় ক্লান্ত হয়ে শেষ মুহূর্তে ছাড় দিয়ে যেকোনো ধরনের একটি চুক্তি করে ফেলতে পারেন।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর দিকে এক হাজারের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অসংখ্য ড্রোন হামলা চালায়। ইসরায়েলি ওই সূত্রের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে আলোচনার বাইরে রাখা ‘ঠিক হবে না’।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, আংশিক কোনো চুক্তি থেকে যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বাদ পড়ে এবং একই সঙ্গে এই চুক্তি যদি দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে দেয়, তাহলে তেহরানের সরকার আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং বিপুল অর্থ প্রবাহের সুযোগ পাবে।
সিএনএন বলছে, এ পরিস্থিতি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট করছে। ট্রাম্প যেখানে আবার যুদ্ধ শুরু করতে অনাগ্রহী বলে মনে হচ্ছে, সেখানে নেতানিয়াহু আশঙ্কা করছেন যুদ্ধটি প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই শেষ হয়ে যেতে পারে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ইরান ‘ভালোভাবেই জানে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নয়’ এবং আলোচনায় ‘সব কার্ডই ট্রাম্পের হাতে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলো প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে।
অলিভিয়া আরও দাবি করেন যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, উৎপাদন কেন্দ্র ভেঙে ফেলা হয়েছে, নৌবাহিনী অকার্যকর হয়েছে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ থামলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা এখনো নিশ্চিত নয়। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এদিকে ইসরায়েলও ফের এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়।
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি অকার্যকর করতে চায়, যাতে তেহরান কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে।
কিন্তু ১০ সপ্তাহ পর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইউরেনিয়াম— বিশেষ করে অস্ত্রমানের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
এই পরিবর্তন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জেরুজালেমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ‘গ্রহণযোগ্য’ চুক্তির জন্য পাঁচটি শর্ত দিয়েছিলেন। সেগুলো ছিল— সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুর সমাধান, আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং কঠোর পারমাণবিক পরিদর্শন ব্যবস্থা।
কিন্তু গত সপ্তাহে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি প্রায় সব শর্ত বাদ দিয়ে কেবল একটিতে গুরুত্ব দেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ইরান থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করা।’ এ সময় তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহ কিংবা গাজার হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সিএনএনকে সূত্র জানায়, ইসরায়েল বুঝতে পারছে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের বিষয়গুলো সম্ভবত আলোচনার বাইরে চলে গেছে। এজন্যই নেতানিয়াহু এখন ইউরেনিয়াম ইস্যুকেই সবচেয়ে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের ওপরও অনাস্থা
এক ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, নেতানিয়াহু সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের ওপরই বেশি নির্ভর করছেন। কারণ তিনি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না।
বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইটকফ ও কুশনার। পাশাপাশি পাকিস্তান, কাতার ও ইরান থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে নেতানিয়াহু আলাদা কূটনৈতিক যোগাযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাম্প যেন খারাপ কোনো চুক্তিতে না পৌঁছান, সে জন্য ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’ তবে তিনি ট্রাম্পকে ফের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন— এমন ধারণা তৈরি হোক, তা চান না নেতানিয়াহু। তাই তিনি কতটা চাপ প্রয়োগ করবেন, সে বিষয়েও সতর্ক।
‘চুক্তি না হলেও খুশি থাকবে’ ইসরায়েল
সিএনএনকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা ভেঙে গেলে কী হতে পারে, সে বিষয়ে ইসরায়েল এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো চুক্তি না হলেও আমরা খুশি থাকব। হরমুজে অবরোধ চলতে থাকলেও খুশি থাকব। আর ইরানে আরও কয়েকটি হামলা হলেও আমরা খুশি থাকব।’ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতেই থাকবে বলে স্বীকার করেন তিনি।
আরেক সূত্র জানায়, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো সমন্বয় করছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমথ সম্প্রতি এক গোপন ব্রিফিংয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘হয় আলোচনা, নয়তো বিস্ফোরণ’।
নতুন চুক্তিতেও পুরনো শঙ্কা
ইসরায়েলি এক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় তথাকথিত ‘সানসেট ক্লজ’ যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর কিছু নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং ইরান আবার কিছু পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। সানসেট ক্লজ হলো কোনো চুক্তি বা কর্মসূচির এমন একটি আইনি বিধান, যা একটি নির্দিষ্ট সময় বা শর্ত পূরণের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়।
২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে হওয়া ‘ইরান পারমাণবিক চুক্তি’তেও এমন ব্যবস্থা ছিল। জেসিপিওএ (Joint Comprehensive Plan of Action) নামে ওই চুক্তি নিয়ে এর আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দুজনই সমালোচনা করেছিলেন। ইসরায়েলের আশঙ্কা, বর্তমান আলোচনাতেও একই ধরনের উপাদান থাকতে পারে।
সূত্রটি জানায়, ইসরায়েল দুটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে— ‘সানসেট’ সময়ের পুরোটা জুড়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা এবং ইরানের ভূগর্ভস্থ ফোরদো ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত মাসে সতর্ক করে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া ছাড়া যুদ্ধ শেষ হলে সেটিকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখা হবে।
রাজনীতি/আইআর

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এমন কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেন, যা যুদ্ধ শুরুর মূল কারণগুলোর অনেকটাই অমীমাংসিত রেখে দেবে— এমন আশঙ্কা করছে ইসরায়েল। দেশটির একাধিক সূত্র মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির কিছু অংশ বহাল রেখে যদি চুক্তি করা হয় এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের মতো বিষয়গুলো আলোচনার বাইরে রাখা হয়, তাহলে ইসরায়েল এই যুদ্ধকে ‘অসম্পূর্ণ’ মনে করবে।
এক ইসরায়েলি সূত্রের ভাষ্য, ‘সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো ট্রাম্প আলোচনায় ক্লান্ত হয়ে শেষ মুহূর্তে ছাড় দিয়ে যেকোনো ধরনের একটি চুক্তি করে ফেলতে পারেন।’ তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা ইসরায়েলকে আশ্বস্ত করেছেন যে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের বিষয়টি আলোচনায় থাকবে।
যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলোর দিকে এক হাজারের বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং অসংখ্য ড্রোন হামলা চালায়। ইসরায়েলি ওই সূত্রের মতে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ইরানের আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ককে আলোচনার বাইরে রাখা ‘ঠিক হবে না’।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, আংশিক কোনো চুক্তি থেকে যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো বাদ পড়ে এবং একই সঙ্গে এই চুক্তি যদি দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে দেয়, তাহলে তেহরানের সরকার আরও স্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে এবং বিপুল অর্থ প্রবাহের সুযোগ পাবে।
সিএনএন বলছে, এ পরিস্থিতি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্যও স্পষ্ট করছে। ট্রাম্প যেখানে আবার যুদ্ধ শুরু করতে অনাগ্রহী বলে মনে হচ্ছে, সেখানে নেতানিয়াহু আশঙ্কা করছেন যুদ্ধটি প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই শেষ হয়ে যেতে পারে।
হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, ইরান ‘ভালোভাবেই জানে বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী নয়’ এবং আলোচনায় ‘সব কার্ডই ট্রাম্পের হাতে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবরোধের কারণে ইরানের বন্দরগুলো প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে।
অলিভিয়া আরও দাবি করেন যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে, উৎপাদন কেন্দ্র ভেঙে ফেলা হয়েছে, নৌবাহিনী অকার্যকর হয়েছে এবং তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোও দুর্বল হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধ থামলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা এখনো নিশ্চিত নয়। হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এদিকে ইসরায়েলও ফের এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথেই এগোতে চায়।
যুদ্ধের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পুরোপুরি অকার্যকর করতে চায়, যাতে তেহরান কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরি করতে না পারে।
কিন্তু ১০ সপ্তাহ পর আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইউরেনিয়াম— বিশেষ করে অস্ত্রমানের কাছাকাছি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া।
এই পরিবর্তন নেতানিয়াহুর বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে জেরুজালেমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ‘গ্রহণযোগ্য’ চুক্তির জন্য পাঁচটি শর্ত দিয়েছিলেন। সেগুলো ছিল— সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যুর সমাধান, আঞ্চলিক প্রক্সি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং কঠোর পারমাণবিক পরিদর্শন ব্যবস্থা।
কিন্তু গত সপ্তাহে ইসরায়েলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকের আগে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিনি প্রায় সব শর্ত বাদ দিয়ে কেবল একটিতে গুরুত্ব দেন। নেতানিয়াহু বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো ইরান থেকে সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং তাদের সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করা।’ এ সময় তিনি লেবাননের হিজবুল্লাহ কিংবা গাজার হামাসের মতো প্রক্সি গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সিএনএনকে সূত্র জানায়, ইসরায়েল বুঝতে পারছে ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রক্সি নেটওয়ার্কের বিষয়গুলো সম্ভবত আলোচনার বাইরে চলে গেছে। এজন্যই নেতানিয়াহু এখন ইউরেনিয়াম ইস্যুকেই সবচেয়ে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে দেখছেন।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের ওপরও অনাস্থা
এক ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, নেতানিয়াহু সরাসরি ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের ওপরই বেশি নির্ভর করছেন। কারণ তিনি ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না।
বর্তমানে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন উইটকফ ও কুশনার। পাশাপাশি পাকিস্তান, কাতার ও ইরান থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে নেতানিয়াহু আলাদা কূটনৈতিক যোগাযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন।
আরেক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, ‘ট্রাম্প যেন খারাপ কোনো চুক্তিতে না পৌঁছান, সে জন্য ইসরায়েল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’ তবে তিনি ট্রাম্পকে ফের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন— এমন ধারণা তৈরি হোক, তা চান না নেতানিয়াহু। তাই তিনি কতটা চাপ প্রয়োগ করবেন, সে বিষয়েও সতর্ক।
‘চুক্তি না হলেও খুশি থাকবে’ ইসরায়েল
সিএনএনকে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেন, আলোচনা ভেঙে গেলে কী হতে পারে, সে বিষয়ে ইসরায়েল এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কোনো চুক্তি না হলেও আমরা খুশি থাকব। হরমুজে অবরোধ চলতে থাকলেও খুশি থাকব। আর ইরানে আরও কয়েকটি হামলা হলেও আমরা খুশি থাকব।’ তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতেই থাকবে বলে স্বীকার করেন তিনি।
আরেক সূত্র জানায়, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের জ্বালানি স্থাপনা, অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য সামরিক পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখনো সমন্বয় করছে।
ইসরায়েলি পার্লামেন্টের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমথ সম্প্রতি এক গোপন ব্রিফিংয়ের পর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘হয় আলোচনা, নয়তো বিস্ফোরণ’।
নতুন চুক্তিতেও পুরনো শঙ্কা
ইসরায়েলি এক সূত্র জানিয়েছে, আলোচনায় তথাকথিত ‘সানসেট ক্লজ’ যুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় পর কিছু নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে এবং ইরান আবার কিছু পারমাণবিক কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। সানসেট ক্লজ হলো কোনো চুক্তি বা কর্মসূচির এমন একটি আইনি বিধান, যা একটি নির্দিষ্ট সময় বা শর্ত পূরণের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যায়।
২০১৫ সালে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে হওয়া ‘ইরান পারমাণবিক চুক্তি’তেও এমন ব্যবস্থা ছিল। জেসিপিওএ (Joint Comprehensive Plan of Action) নামে ওই চুক্তি নিয়ে এর আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু দুজনই সমালোচনা করেছিলেন। ইসরায়েলের আশঙ্কা, বর্তমান আলোচনাতেও একই ধরনের উপাদান থাকতে পারে।
সূত্রটি জানায়, ইসরায়েল দুটি শর্ত অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে— ‘সানসেট’ সময়ের পুরোটা জুড়ে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রাখা এবং ইরানের ভূগর্ভস্থ ফোরদো ও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলা।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গত মাসে সতর্ক করে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া ছাড়া যুদ্ধ শেষ হলে সেটিকে ‘ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখা হবে।
রাজনীতি/আইআর

রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই ক্ষেপণাস্ত্রকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন, এটি বর্তমান বিশ্বের যেকোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে গুঁড়িয়ে দিতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়ার এই শক্তি প্রদর্শন মধ্যপ্রাচ্য ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক
৫ ঘণ্টা আগে
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে রয়টার্স দেখেছে, ২৫ থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে দেশটির ভূখণ্ডে ১০৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছিল। এপ্রিলের ১ থেকে ৬ তারিখে সংখ্যাটি নেমে দাঁড়ায় ২৫-এর কিছু বেশিতে।
৫ ঘণ্টা আগে
সুরক্ষামন্ত্রী জেস ফিলিপস ও কমিউনিটিবিষয়ক মন্ত্রী মাইতা ফাহনবুল্লেহর পদত্যাগের মাধ্যমে ব্রিটেনের মন্ত্রিসভা কেঁপে ওঠে। এরপর বিচার মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় আন্ডার-সেক্রেটারি অ্যালেক্স ডেভিস-জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তার পদত্যাগপত্রের ছবি দেন। সেখানে স্টারমারকে দেশের স্বার্থে পদক্ষেপ নেওয়ার ও সরে
১৫ ঘণ্টা আগে
কাতার নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, কাতার ক্যালেন্ডার হাউজ এ সময়সূচি ঘোষণা করেছে। কাতারের শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠান দেশটির হিজরি বর্ষপঞ্জি প্রণয়ন করে থাকে।
১৬ ঘণ্টা আগে