নাঈমের স্পিনজাদুতে গুটিয়ে গেল উইন্ডিজ, প্রথম ইনিংসে ৪৫ রানের লিড বাংলাদেশের

৬ উইকেট হাতে রেখে দিন শুরু করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তেজনারায়ণ চন্দরপল আর জাস্টিন গ্রিভস ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। শরিফুল ইসলাম দুর্দান্ত এক বলে তেজনারায়ণকে স্লিপে ক্যাচ দিতে বাধ্য করে সে প্রতিরোধ ভাঙেন। এরপর রোস্টন চেজ যোগ দেন গ্রিভসের সঙ্গে, তিনিও ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান দেয়াল হয়ে। শেষ পর্যন্ত গ্রিভসকে আউট করে সে জুটি ভাঙেন নাঈম হাসান।
বাকি সময়টাতে নাঈমের স্পিনের জাদুতে দিশেহারা হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটারার। তার বলে একে একে চার ব্যাটার ফিরেছেন প্যাভিলিয়নে। তাতেই রীতিমতো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। শেষ ৩২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দলটি অলআউট হয়েছে ২৪৫ রানে। তাতে প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান করা বাংলাদেশ পেয়েছে মূল্যবান ২৭ রানের লিড।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে মিরপুরে শুরু হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা। আগের দিনের অপরাজিত চন্দরপল-গ্রিভস জুটি উইকেটে থিতু হয়ে এসেছিলেন। বরাবরের মতোই চন্দরপল ছিলেন ধীরস্থির। ১৬৪ বলে তুলে নেন অর্ধশত রান। শেষ পর্যন্ত ১৮৪ বলে ৫৬ রান করে শরীফুল ইসলামের বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ১৩৬ বলে ৬৫ রানের জুটি ছিল চন্দরপল-গ্রিভসের।
এরপর রোস্টন চেজের সঙ্গে জুটি গড়েন গ্রিভস। ৯৯ বলে ৫১ রানও আসে এ জুটি থেকে। মধ্যাহ্নবিরতির আগে আগে ক্যাচ দিয়েছিলেন চেজ। শর্ট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা মুমিনুল হাতে নিয়েও ধরে রাখতে পারেননি সে ক্যাচ। পরের ওভারেই মধ্যাহ্নবিরতিতে যাওয়ার ঠিক এক বল আগে গ্রিভসে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে ফেলেন নাঈম। ১০৩ বলে ৪৬ রান করে গ্রিভস আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মধ্যাহ্নবিরতিও ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
৬ উইকেট হারানো ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ব্যাটাররা দ্বিতীয় সেশনে উইকেটে ফিরে দ্রুত রান সংগ্রহে মনোযোগী হন। তবে বাংলাদেশি বোলাররাও ছেড়ে কথা বলছিলেন না। বিরতির পর তৃতীয় ওভারেই জশুয়া বিশপকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন দাস সে ক্যাচ নিতে ভুল করেননি।
রোস্টন চেজ তখন চালিয়ে খেলছিলেন। এক পাশ থেকে টানা বল করে যাওয়া নাঈম তখন চেপে ধরেন বাকি ব্যাটারদের। ৮১তম ওভারে জোড়া আঘাত হানেন তিনি। শর্ট বলে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন। একই ধরনের বলে এলবিডব্লিউ হন জোমেল ওয়ারিক্যান। পরের ওভারেই জেইডেন সিলসকেও মিরাজের হাতে ক্যাচ বানিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরান।
নাঈমের ৪ উইকেটেই শেষ পর্যন্ত ২৪৫ রানে থেমে যেতে হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। রোস্টন চেজ অপরাজিত ছিলেন ৬০ রানে ৪৩ রানে। প্রথম ইনিংসে নাঈমের ৪ উইকেটের সঙ্গে দুটি করে উইকেট রয়েছে মিরাজ ও তাইজুলের ঝুলিতে। দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও শরিফুল হাসান পেয়েছেন একটি করে উইকেট।
এদিকে জোসেফকে ফিরিয়ে টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন নাঈম। বলের হিসাবে বাংলাদেশের স্পিনারদের মধ্যে দ্রুততম ৫০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন তিনি।












