সাদমানের সেঞ্চুরির অপেক্ষায় প্রথম দিন পার, ৪০০ রানে নজর বাংলাদেশের

আলোক স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত ৯০ ওভারের পরিবর্তে খেলা হলো ৭৪ ওভার। মাত্র ৯ রানেই উদ্বোধনী জুটি ভাঙলেও দিনের বাকি সময়টা ভালো-মন্দ মিলিয়েই গেল বাংলাদেশের জন্য। পতন ঘটল আরও ২ উইকেটের। ক্র্যাম্পের শিকার হয়ে তাওহীদ হৃদয়কে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো। এতকিছুর মধ্যে সবচেয়ে ইতিবাচক বিষয় হলো— দিনের খেলা শেষে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়লেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। তার নামের পাশে ৯৯ রান। অর্থাৎ শতকের অপেক্ষায় থেকেই দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করতে হবে এই ওপেনারকে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে মিরপুরে হোম অব ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে মাঠে নামে বাংলাদেশ। টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রানে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ৯৯ রানে অপরাজিত সাদমানের সঙ্গে ৭ রান করে উইকেটে ছিলেন লিটন দাস। দলের ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দিনে ৪০০ রানের বেশি সংগ্রহের লক্ষ্য দিয়েই নামবেন ব্যাটাররা।
দিনের শুরুতে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই পেসার জেডেন সিলস ও শামার জোসেফের গতির সামনে কিছুটা নড়বড়ে ছিল বাংলাদেশ। সাদমান এক পাশ থেকে সামলে গেলেও তানজিদ হাসান তামিম খুব একটা লড়াই করতে পারেননি। ৩২ বলে ৭ রান করে সিলসের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন।
দ্বিতীয় উইকেটে সাদমানের সঙ্গে যোগ দিয়ে মুমিনুল হক ইনিংসে স্থিতিশীলতা নিয়ে আসছিলেন। মোটামুটি শুরু পেয়েও মুমিনুল ধৈর্যের পরীক্ষায় উৎরাতে পারেননি। ৫১ বলে ২৮ রান করে আচমকা জোমেল ওয়ারিক্যানকে উইকেট ছেড়ে তেড়েফুড়ে এসে মারতে গিয়ে সহজ ক্যাচ তুলে দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন।

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর দশাও অনেকটা একই। ৪২ বলে ১৯ রান করে ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনিও শিকার হয়েছেন ওয়ারিক্যানের। প্যাডেল সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। বল আঘাত করে প্যাডে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে অধিনায়ক রোস্টন চেজ রিভিউ নেন। তাতেই কাটা পড়েন টাইগার অধিনায়ক।
১১০ রানে তৃতীয় উইকেট পতনের পর সাদমানের সঙ্গে যোগ দিয়ে ইনিংস অনেকটাই থিতু করে এনেছিলেন তাওহীদ হৃদয়। দুজনে মিলে ৮৮ রানের জুটি গড়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন দলকে। এমন সময় মিরপুরের তীব্র রোদের সঙ্গে উচ্চ আর্দ্রতায় ক্র্যাম্পের শিকার হন হৃদয়। ৮৪ বলে ৪২ রানে থাকা অবস্থায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাকে। সুস্থ হয়ে উঠলে প্রয়োজনে আবার হয়তো ব্যাটিংয়ে নামবেন তিনি।
কিছু সময় পরেই ছন্দপতন। আচমকা রোদ পড়ে গেলে আলোক স্বল্পতায় খেলায় বিঘ্ন ঘটে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্যাপ্টেনকে স্পিনারদের দিয়ে বল করাতে বলেন আম্পায়াররা। তাতে রাজি না হওয়ায় বিকেল ৩টা ১৬ মিনিটে খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা। ৪টা ৫ মিনিটে ফের শুরু হয় খেলা।
৪৯ মিনিট পর খেলা শুরু হলেও খুব একটা এগোনো যায়নি। ওভার পাঁচেক পরই ফের আলোক স্বল্পতার কারণে দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
এত কিছুর মধ্যেই উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে দাঁড়িয়েছিলেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। টেস্টকে যে ধৈর্যের খেলা বলা হয়, তারই প্রতিফলন দেখান তিনি। অন্য পাশ থেকে তানজিদ, মুমিনুল আর শান্ত আউট হয়ে এবং হৃদয় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফিরলেও সাদমান ছিলেন অটল। দিন শেষে ২১৯ বল খেলে ৯৯ রানে অপরাজিত তিনি। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরির জন্য প্রয়োজনীয় মাত্র ১ রানের জন্য এখন তাকে অপেক্ষা করতে হবে গোটা রাত।
দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, হাতে ৭ উইকেট আছে। আশা করব (প্রথম ইনিংসে আমরা) ৪০০+ রান করব। তাহলে আমরা ম্যাচে ভালো অবস্থায় থাকব।
এদিকে প্রথম দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সফলতম বোলার জোমেল ওয়ারিক্যান। ১৪ ওভার বল করে ৩৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন তিনি। শুরু থেকে দারুণ বল করা জেডেন সিলস ৮ ওভারে ১৪ রান দিয়ে আরেক উইকেট তুলে নিয়েছেন। আরও চার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান বোলার বল করলেও উইকেটের দেখা পাননি।












