পঞ্চম দিনে গড়াল সিলেট টেস্ট, জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ উইকেট

ক্রীড়া ডেস্ক
সালমান আগাকে নিয়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান প্রতিরোধ গড়লেও তাইজুলের ঘূর্ণিতে সিলেট টেস্টের চতুর্থ দিনের শেষ সেশনে শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ। ছবি: বিসিবি

চা বিরতির পর বাংলাদেশি বোলারদের মুখে প্রতিরোধ গড়েছিলেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজনের জুটি জমেও উঠেছিল। দিন শেষ হওয়ার আগে বাংলাদেশ নতুন বল নিলে বদলে যায় দৃশ্যপট। না পেসার নয়, নতুন বল নেওয়ার পর দ্বিতীয় ওভারে তাইজুল ইসলাম অসাধারণ এক ডেলিভারিতে সালমানের রক্ষণ ভেঙে ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গলিয়ে বল আছড়ে ফেলেন স্টাম্পে। তাইজুলের পরের ওভারেই বড় টার্ন নেওয়া এক বলে স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন হাসান আলী।

শেষ দুই ওভার রিজওয়ান আর সাজিদ আলী নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিলে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন এখনো ১২১ রান। পাকিস্তানকে ব্যাক-টু-ব্যাক সিরিজে হোয়াইট ওয়াশ করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন আর ৩ উইকেট।

৪৩৭ রানের লক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। দুই ওপেনার আজান আওয়াইজ আর আব্দুল্লাহ ফজল বড় জুটি গড়তে পারেননি। নাহিদ রানার বলে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে চমৎকার এক ক্যাচে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ২৮ বলে ৬ রান করা ফজল। পরে মিরাজের বলে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন ৪৯ বলে ২১ রান করা আজান।

অধিনাক শান মাসুদ আর বাবর আজমের প্রতিরোধে ২ উইকেট হারিয়েই মধ্যাহ্নবিরতিতে যায় পাকিস্তান। বিরতির পরও দুজন প্রতিরোধ অব্যাহত রাখেন। প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল। বাবর লেগের দিকে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে ব্যাট চালালে বল তাতে আলতো স্পর্শ করে। উইকেটরক্ষক লিটন দাস বলের গতিবিধি বুঝে বাঁ দিকে সরে গিয়ে চমৎকার ক্যাচ নেন। ৫২ বলে ৪৭ রান করে ড্রেসিং রুমে ফেরেন বাবর, ভাঙে ৯২ রানের জুটি।

এরপর সাউদ শাকিল এসে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি। ২১ বলে ৬ রান করে নাহিদ রানার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর আবার তাইজুলের আঘাত। এবার তিনি ফেরান অধিনায়ক শান মাসুদকে। তাইজুলের লেগ স্টাম্পে থাকা একটি বল লেগের দিকে খেলার চেষ্টা করেন শান। শর্ট লেগে দাঁড়ানো মাহমুদুল হাসান জয় অসাধারণ ক্ষিপ্রতায় নিচু হয়ে আসা বলটিতে তালুবন্দি করলে পাকিস্তানি অধিনায়কের ১১৬ বলে ৭১ রানের প্রতিরোধ শেষ হয়।

চা বিরতি পর্যন্ত আর কোনো বিপদ হতে দেননি রিজওয়ান-সালমান। চা বিরতির পরও চমৎকার জুটি গড়ে পাকিস্তানকে রেকর্ড জয়ের পথে এগিয়ে নিতে থাকেন দুজন। ৫ উইকেটেই পাকিস্তান যখন দিন শেষ করবে মনে হচ্ছিল, সেই সময়ে তাইজুলের জোড়া আঘাত ফের পাকিস্তানকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। সালমানকে বোল্ড করে প্রথমে তিনি ভেঙেছেন ১৩৪ রানের জুটি, যা এই টেস্টে পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ। থিতু হতে দেননি হাসান আলীকেও।

দিনের খেলা যখন শেষ হয়, রিজওয়ান তখনো অপরাজিত ১৩৪ বলে ৭৫ রান করে। অপর প্রান্তে ৯ বলে ৮ রান করে অপরাজিত সাজিদ। ৩১ ওভারে ১১৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার তাইজুল। ১৪ ওভারে ৫৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন নাহিদ। বাকি একটি উইকেট নিয়েছেন মিরাজ।

পঞ্চম দিনে গড়ানো সিলেট টেস্টে এখন পাকিস্তানের জন্য প্রয়োজন আরও ১২১ রান। এই রান তাড়া করতে পাকিস্তানকে গড়তে হবে চতুর্থ ইনিংসে রান তাড়া করে টেস্ট জয়ের নতুন রেকর্ড। এদিকে বাংলাদেশ বাকি ৩ উইকেট তুলে নিতে পারলেই পাবে জয়, পাকিস্তান ব্যাক-টু-ব্যাক টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হবে বাংলাদেশের কাছে। কেবল বিশ্বরেকর্ডের জন্যই নয়, রিজওয়ান ছাড়া পাকিস্তানের আর কোনো স্বীকৃত ব্যাটার উইকেটে না থাকায় ম্যাচের পাল্লা বাংলাদেশের দিকেই ঝুঁকে রয়েছে।

ad
ad

খেলা থেকে আরও পড়ুন

পাকিস্তানের লক্ষ্য ৪৩৭ রান, জিততে হলে গড়তে হবে রেকর্ড

টেস্ট ক্রিকেটের দেড় শ বছরের ইতিহাসে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো রেকর্ড নেই। ফলে ঐতিহাসিক এক জয়ের হাতছানি নিয়ে আগামীকাল ম্যাচের চতুর্থ দিনে মাঠে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আজ তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় পাকিস্তান কেবল ২ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পায়।

১ দিন আগে

মুশফিকের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

সিলেট টেস্টে অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের রেকর্ড সেঞ্চুরিতে শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। তার ১৭৮ বলে গড়া শতকের ওপর ভর করে বড় সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে স্বাগতিকরা।

১ দিন আগে

৩৫৩ রানে এগিয়ে চা বিরতিতে, বড় লিডের পথে বাংলাদেশ

সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে রানের পাহাড় গড়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ। মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের জোড়া হাফ সেঞ্চুরি এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বড় লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের চা বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৭৮ রান।

১ দিন আগে

২৪৯ রানের লিড নিয়ে মধ্যাহ্নবিরতিতে মুশফিক-লিটন

মধ্যাহ্ন বিরতি যখন হয়েছে, তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৩ ওভারে ৪ উইকেটে ২০৩ রান। মুশফিক অপরাজিত রয়েছেন ৮০ বলে ৩৯ রানে। লিটনের সংগ্রহ ৬৬ বল থেকে ৪৮ রান। ২২ ওভার ২ বল থেকে দুজনের জুটিতে এসেছে এখন পর্যন্ত ৮৮ রান।

১ দিন আগে