‘আল-কুদস’ দিবস: ফিলিস্তিন মুক্তির অঙ্গীকার

এম গোলাম মোস্তফা ভুইয়া
আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৬, ১৩: ১৭
আল-আকসা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত

‘আল-কুদস’ দিবস। বিশ্ব মুসলিমের জাগরণের দিন, ফিলিস্তিন মুক্তির অঙ্গীকার। এ দিনে বিশ্ব জুড়ে জনগণের এই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি ফিলিস্তিনিদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে জাগ্রত রাখা এবং ইসরায়েলের প্রতি বিশ্ব মুসলমানের ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ইহুদি শাসন, শোষণ, নিপীড়ন ও তাদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটানো এবং বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি জাতির নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বিশ্বের সব মুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এ দিবসটি।

আল-কুদস দিবস বা আন্তর্জাতিক আল-কুদস দিবস (ফার্সি ভাষায়—روز جهانی قدس) প্রতি বছর রমজান মাসের শেষ শুক্রবার পালিত হয়ে থাকে, যা ১৯৭৯ সালে ইরানে শুরু হয়েছিল। এই দিবস পালনের উদ্দেশ্য ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ, জায়নবাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ও ইসরায়েল কর্তৃক জেরুজালেম দখলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। আরবি ভাষায় জেরুজালেম শহরের আরেক নাম ‘কুদস’ বা ‘আল-কুদস’।

ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইবরাহিম ইয়াজদি সর্বপ্রথম আল-কুদস দিবস র‍্যালি আয়োজনের ধারণা দেন। তারপর আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ১৯৭৯ সালে ইরানে এর প্রবর্তন করেন। এরপর থেকে ইরান সরকার প্রতি বছর আল-কুদস দিবসে প্যারেড আয়োজন করে আসছে।

বছর ঘুরে প্রতি বছরই আমাদের কাছে চলে আসে পবিত্র মাহে রমজান— সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য এক কঠোর প্রশিক্ষণের মাস। দৈহিক ও আত্মিক সংযমের মধ্য দিয়ে আত্মশুদ্ধির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল জাগতিক ও আধ্যাত্মিক যাবতীয় কল্যাণকর্মে সাফল্যের সোপানে সহজে আরোহণ করা সম্ভব।

ফিলিস্তিন ও পবিত্র বায়তুল মোকাদ্দাস দখলদার ইহুদিবাদীদের হাত থেকে মুসলমানদের প্রথম কিবলা আল-আকসা মসজিদ মুক্ত করার জন্য মুসলমানদের জাগিয়ে তোলাই আল-কুদস দিবসের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ ছাড়াও মজলুম ফিলিস্তিনি জাতির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ইহুদিবাদী শাসন, শোষণ, নিপীড়ন ও তাদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের অবসান ঘটানো এবং বায়তুল মোকাদ্দাসকে রাজধানী করে ফিলিস্তিনি জাতির নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাও এ দিবসের আরেকটি বড় লক্ষ্য।

মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের পোশাকধারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর নব্য ক্রুসেড মোকাবিলার জন্য মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করা এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম বা প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ইসলামী শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্যও এ দিবস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কুদস অর্থ পবিত্র। ‘আল কুদস’ বলতে বোঝায় ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ, যা মসজিদুল আকসা বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামে পরিচিত। হজরত ইবরাহিম (আ.) কর্তৃক কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর তার ছেলে হজরত ইসহাক (আ.)-এর সন্তান হজরত ইয়াকুব (আ.) ফিলিস্তিনের জেরুজালেম নামক স্থানে ‘আল-আকসা’ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এরপর তার ছেলে হজরত ইউসুফ (আ.)-এর বংশধর হজরত দাউদ (আ.)-এর সন্তান হজরত সুলায়মান (আ.) তা পুনর্নির্মাণ করেন।

আদিতে ‘কাবা’ কিবলা থাকলেও মসজিদুল আকসা বা বায়তুল মুকাদ্দাস স্থাপনের পর এটি কিবলা হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ওহি লাভ ও নবুওয়াত প্রকাশের সময় বায়তুল মুকাদ্দাসই কিবলা ছিল। মদিনায় হিজরতের প্রায় দেড় বছর পর এই কিবলা পরিবর্তন হয়ে পুনরায় কাবা কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়।

ড্রোন থেকে তোলা আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত
ড্রোন থেকে তোলা আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্স। ছবি: সংগৃহীত

মদিনা থেকে মক্কা দক্ষিণ দিকে এবং বায়তুল মুকাদ্দাস উত্তর দিকে। নবিজি (সা.) সাহাবায়ে কিরামসহ জামাতে জোহরের নামাজ আদায়রত অবস্থায় কিবলা পরিবর্তনের নির্দেশ হয়। তখন নামাজ অবস্থায় নবিজি (সা.) ও সাহাবারা উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে ঘুরে গিয়ে কাবামুখী হয়ে কিবলা পরিবর্তন করে নামাজ সম্পন্ন করেন। মদিনা শরিফে মসজিদুল কিবলাতাইন বা দুই কিবলার মসজিদও রয়েছে। ঐতিহাসিক এ ঘটনাকে ‘তাহবিলে কিবলা’ বা কিবলা পরিবর্তন বলা হয়। (সুরা ২ বাকারা, আয়াত: ১৪২–১৫১)

ইসলামের দ্বিতীয় কিবলা বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের প্রথম কিবলা হিসেবে পরিচিত। হাদিসে আছে— ‘কাবা শরিফ তথা মসজিদুল হারামে নামাজে এক লক্ষ গুণ সওয়াব, মদিনা শরিফে মসজিদে নববিতে নামাজে ৫০ হাজার গুণ সওয়াব, বায়তুল মুকাদ্দাসে নামাজে ২৫ হাজার গুণ সওয়াব।’

বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের কাছে সবসময় সম্মানিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিরাজ রজনীতে মসজিদুল হারাম তথা কাবা শরিফ থেকে মসজিদুল আকসা তথা বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রথম সফর করেন, যা ইসরা নামে পরিচিত। (সুরা ১৭ বনী ইসরায়েল, আয়াত: ১)।

প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মাদ (সা.) মিরাজ গমনের সময় এই মসজিদে নামাজ আদায় করেন। এ এলাকা অসংখ্য নবি-রাসুলের স্মৃতিবিজড়িত; এর আশপাশে অনেক নবি-রাসুলের সমাধি রয়েছে। এটি দীর্ঘকালের ওহি অবতরণের স্থল, ইসলামের কেন্দ্র এবং ইসলামী সংস্কৃতির চারণভূমি ও ইসলাম প্রচারের লালনক্ষেত্র। এই পবিত্র ভূমির ভালোবাসা প্রত্যেক মোমিনের হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত।

হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, হজরত আদম (আ.) মক্কায় কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর বায়তুল মুকাদ্দাসে মসজিদুল আকসা নির্মাণ করেন। পরে হজরত সুলায়মান (আ.) বায়তুল মুকাদ্দাসের এ পবিত্র মসজিদের পুনর্নির্মাণ করেন। কিন্তু বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহে ওই মসজিদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।

৬৩৮ খ্রিস্টাব্দে বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের অধিকারে আসে এবং পরবর্তীকালে ওই পবিত্র স্থান আবাদ করে সেখানে মসজিদুল আকসা ও কুব্বাতুস সাখরাহসহ (মসজিদ) বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হয়। ১০৯৬ খ্রিস্টাব্দে ইউরোপের ক্রুসেডার খ্রিষ্টানরা সমগ্র সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করে নেওয়ার পর বায়তুল মুকাদ্দাসের বিভিন্ন ইসলামি স্থাপনায় পরিবর্তন করে, বিশেষ করে মসজিদুল আকসাকে গির্জায় পরিণত করে।

এরপর ১১৮৭ খ্রিষ্টাব্দে সালাহ উদ্দীন আইয়ুবি বায়তুল মুকাদ্দাস শহরকে আবারও মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন। অবশেষে ব্রিটিশ সরকার ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। ফলে ১৯৪৮ সালের ১৫ মে ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী অবৈধ ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর ইহুদিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মুসলমানদের কচুকাটা করতে থাকে। তাদের অত্যাচারে জর্জরিত আরবরা জীবন বাঁচাতে দলে দলে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়।

তা সত্ত্বেও তখনো বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের দখলে ছিল। কিন্তু আরবদের দুর্বলতার মুখে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধে তা মুসলমানদের হাতছাড়া হয়ে যায়। ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের আবাসভূমি ও আল-কুদস (বায়তুল মুকাদ্দাস) উদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকে। তাদের সংগ্রামে দিশেহারা হয়ে ইহুদিবাদী ইসরায়েল ফিলিস্তিনি জনগণের মধ্যে ভাঙন ধরানোর জন্য ফিলিস্তিনের একটি ক্ষুদ্র অংশে সীমিত স্বায়ত্তশাসনের কথা বলে কিছুসংখ্যক নেতাকে আপসকামী ভূমিকায় নিয়ে আসে।

তথাকথিত শান্তি আলোচনার সুযোগে তারা একে একে ফিলিস্তিনের প্রকৃত সংগ্রামী নেতাদের হত্যা করে চলেছে এবং ফিলিস্তিনের নতুন নতুন এলাকা দখল করে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে; এমনকি ফিলিস্তিনে মানবিক ত্রাণসহায়তা পৌঁছাতে পর্যন্ত বাধা দিচ্ছে।

এ ধরনের অমানবিক কার্যক্রম তারা এখনো অব্যাহত রেখেছে। এ ছাড়া তারা ফিলিস্তিনের গাজা ভূখণ্ডে বারবার বিমান হামলা চালিয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ এ পর্যন্ত কয়েক হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে এবং হাজার হাজার বাড়িঘর, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল ধ্বংস করেছে।

ইহুদিদের ষড়যন্ত্র ও ধ্বংসলীলা আজ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নেই। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন, লিবিয়া, বাহরাইনসহ গোটা আরব বিশ্বে মুসলিম দেশগুলোর ওপর জায়নবাদী আগ্রাসন ছড়িয়ে পড়েছে। জায়নবাদী ষড়যন্ত্রের ফাঁদে কোনো কোনো মুসলিম শাসক পতিত হয়েছেন। ফলে লাখ লাখ মুসলিম হত্যার শিকার হয়েছে।

কোটি মুসলিম নিজ বাড়িঘর থেকে বিতাড়িত হয়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এবং সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছে। অনেকে সাগরে ডুবে মরছে। আবার বোমা মেরে বিভিন্ন স্থাপত্যশিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মূলত পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাস তথা আল-কুদসের মুক্তি ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের সংগ্রামকে সমূলে বিনাশ করার জন্যই ইসরায়েলের জন্মদাতা ব্রিটিশ, আমেরিকা এবং ইহুদিদের বন্ধু কতিপয় আরব রাষ্ট্র এক মহাষড়যন্ত্রের খেলায় মাঠে নেমেছে। তাই আজ বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং এ নতুন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সবাইকে জানিয়ে দিতে হবে, ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের কবল থেকে আল-কুদস আল-শরিফের মুক্তি এবং স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাই মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির একমাত্র পথ।

মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে ১৯৭৮ সালে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির ফলে অধিকৃত ফিলিস্তিন এবং এর নিপীড়িত ও বাস্তুচ্যুত জনগণের অবস্থা আগের চেয়ে আরও কঠিন হয়ে পড়ে। মিশর ছাড়াও আরও কয়েকটি আরব ও ইসলামি দেশের মধ্যে ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে মোকাবিলার নীতিতে পরিবর্তন আসে এবং তারা ইসরায়েলের সঙ্গে আপসকামী নীতি গ্রহণ করে।

এ পরিস্থিতি ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইসলামি বিশ্ব ও মুসলিম জাতিগুলোর ঐক্য ও সংহতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসলামি সরকারগুলোর মধ্যে বিভেদ ও বিভক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃতপক্ষে এ পরিস্থিতি ও সময়টুকুতে ইসরায়েলই ময়দানে বেপরোয়াভাবে আবির্ভূত হয় এবং তারা নিজেদের অস্তিত্বকে বৈধতা দেওয়ার নিমিত্তে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক আগ্রাসনের সূচনা করে।

কিন্তু ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের বিজয় ফিলিস্তিন ইস্যুর পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠে এবং ইরানের বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনি দখলদার ইহুদিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পতাকা উড্ডীন করেন এবং কুদস শরিফ ও ফিলিস্তিনের ইসলামি ও পবিত্র ভূমির মুক্তির বিস্মৃত লক্ষ্য ও আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করেন।

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের পর এ বিপ্লবের মহান নেতা ইমাম খোমেনি মসজিদুল আকসাসহ সমগ্র ফিলিস্তিনের মুক্তির লক্ষ্যে মুসলিম উম্মাহকে প্রতিবছর রমজানের শেষ শুক্রবারকে ‘আল-কুদস দিবস’ হিসেবে পালনের আহ্বান জানান। সেই থেকে প্রতিবছর বিশ্বে এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ আহ্বানের আবেদনকে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সমুন্নত রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের জনগণ শুরু থেকেই ফিলিস্তিন মুক্তির পক্ষে ছিল, এখনো আছে। বাংলাদেশ ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি নতুন স্বাধীন বাংলাদেশকে ইসরায়েল প্রথম স্বীকৃতি দিলেও বাংলাদেশ তা গ্রহণ করেনি। কারণ, বাংলাদেশ ইসরায়েলকে বৈধ রাষ্ট্র মনে করে না।

চলতি বছর বিশ্ব জুড়ে এমন একসময় ‘আল-কুদস’ দিবস পালিত হতে যাচ্ছে, যখন ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইহুদিবাদী ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে, যখন ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের শক্তিশালী সমর্থক ইরানের ওপর চলছে ইং-মার্কিন আগ্রাসন, যে আগ্রাসনে শাহাদাত বরণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠায় সংগ্রামরত বীর মুজাহিদদের অনুপ্রেরণার উৎস আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।

মুসলিম বিশ্ব এই ‘আল-কুদস’ দিবসে শপথ গ্রহণ করুক— ইং-মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে গড়ে উঠুক বৃহত্তর লৌহকঠিন ঐক্য। বিশ্বজুড়ে জনগণের ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হোক। আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে ইরানের জয় হোক। আল-কুদস দিবস বিশ্বশান্তির প্রধান অন্তরায় ইসরায়েলের প্রতি বিশ্ব মুসলমানের ঘৃণা প্রকাশের মাধ্যমে পরিণত হোক।

Feature-Writer-M-Golam-Mostafa-Bhuiyan-13-03-2025

ad
ad

সাত-পাঁচ থেকে আরও পড়ুন

৭ মার্চ ১৯৭১— রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংরক্ষণ ইতিহাসের অনন্য দলিল

একটি বিষয় এখানে গুরুত্ব পেতে পারে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের আলোকচিত্র এবং অডিও-ভিডিও ধারণ করে দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠান— চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) ও বাংলাদেশ বেতার। দুটি প্রতিষ্ঠানই এ কাজ করেছে সরকারের কোনো অনুমতি ছাড়াই। সেটি না করলে পরবর্তী কোনো প্রজন্ই আর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভ

৬ দিন আগে

ঈদে আসছে ‘ফ্রেমে বাঁধা বন্ধুত্ব’

গল্পটি নিয়ে পরিচালক নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল বলেন, ‘এই টেলিছবির মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। যে হাসির পেছনে লুকিয়ে থাকে নানা অজানা গল্প। আশা করছি, প্রবাস জীবনের নিঃসঙ্গতা ও মুখোশের নিচে লুকানো বেদনা নিয়ে নির্মিত টেলিছবিটি দর্শকদের পছন্দ হবে।’

৭ দিন আগে

৬ মার্চ— রুদ্ধশ্বাস অপেক্ষায় গোটা দেশ

১ মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ ঘোষণাকে প্রত্যাখ্যান করে প্রতিবাদে ঢাকায় ২ ও ৩ মার্চ দুই দিনের সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেন। তিনি ঘোষণা দেন, ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আন্দোলনের পরবর্

৭ দিন আগে

মধ্যপ্রাচ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ২৫ লাখের ড্রোন ‘শাহেদ-১৩৬’

ক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক যৌথ সামরিক তৎপরতার পর ইরান শুরু করেছে প্রতিশোধমূলক অভিযান ‘ট্রু প্রমিস ৪’। এ অভিযানে কোটি কোটি টাকার ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্র নয়, বরং আতঙ্ক ছড়াচ্ছে স্বল্পমূল্যের কিন্তু দূরপাল্লার শাহেদ-১৩৬ ড্রোন। প্রতিটি ড্রোনের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা হলেও এর কৌশলগত প্রভাব অ

৯ দিন আগে