

শাহরিয়ার শরীফ

প্রকাশক ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান অমিকন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবং বাংলাপ্রকাশ ও লেকচার পাবলিকেশন্স পিএলসির প্রকাশক। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প ও অমর একুশে বইমেলা নিয়ে রাজনীতি ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন জ্ঞান-অর্থনীতির স্বপ্নদ্রষ্টা মেহেদী হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহরিয়ার শরিফ।
রাজনীতি ডটকম: বাংলাপ্রকাশ-এর সম্পাদকীয় মানদণ্ড হিসেবে আপনি ‘নির্ভুলতা’ শব্দটিকে গুরুত্ব দেন। আপনার দৃষ্টিতে এর গভীরতা কতটুকু?
মেহেদী হাসান: আমাদের কাছে নির্ভুলতা মানে পাঠকের প্রতি একটি পবিত্র অঙ্গীকার। এটি কেবল বানান শুদ্ধি নয়; এটি একটি বইকে যথাযথ, সুন্দর ও পাঠকের সময়ের উপযুক্ত করে তোলার প্রতিশ্রুতি। এর জন্য আমাদের সম্পাদনা ও টাইপসেটিংয়ে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করতে হয় এবং মানসম্মত পাণ্ডুলিপি তৈরিতে আমরা দীর্ঘ সময় ব্যয় করি। নির্মলেন্দু গুণের ‘আটকথা ১৯৭১’ গ্রন্থের জন্য জেমকন সাহিত্য পুরস্কারসহ বাংলা একাডেমি থেকে একাধিকবার পুরস্কার পাওয়া আমাদের এই নিষ্ঠারই একটি স্বীকৃতি।
রাজনীতি ডটকম: নতুন লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বাংলাপ্রকাশ’ কী ধরনের ভূমিকা রাখছে এবং তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
মেহেদী হাসান: আমরা সবসময়ই নতুন লেখকদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ‘স্বর’ বা পৃথিবী দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজি। নতুন লেখকদের প্রতি আমার পরামর্শ— তাড়াহুড়া না করে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়া। আরও বেশি পড়া ও পাণ্ডুলিপি বারবার পরিমার্জন করার মাধ্যমে তারা তাদের লেখকজীবনকে অনেক বেশি দীর্ঘ ও উজ্জ্বল করতে পারেন।
রাজনীতি ডটকম: বাংলাদেশের সৃজনশীল সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে দৃশ্যমান করার জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?
মেহেদী হাসান: আমাদের সাহিত্যের মান নিয়ে কোনো সংশয় নেই, এটি নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। অভাব কেবল সঠিক অবকাঠামোর। অমিকন রাইটস এজেন্সির মাধ্যমে আমরা সেই অভাব পূরণের কাজ করছি। জাতীয় পর্যায়ে আমাদের তিনটি লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন— নরওয়ের NORLA মডেলের মতো ‘বাংলাদেশ বুকস অ্যাব্রড’ কর্মসূচি চালু করা, আন্তর্জাতিক বইমেলাগুলোতে স্থায়ী প্যাভিলিয়ন স্থাপন এবং একটি ‘ডিজিটাল রাইটস ক্যাটালগ’ তৈরি করা, যেন বিশ্বব্যাপী প্রকাশকরা সহজেই আমাদের কনটেন্ট খুঁজে পান।
রাজনীতি ডটকম: লেকচার পাবলিকেশন্স বাংলাদেশের একমাত্র ISO 9001:2008 সনদপ্রাপ্ত একাডেমিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৪,৫০০ প্রকাশকের বাজারে এই স্বীকৃতির গুরুত্ব কী?
মেহেদী হাসান: এই ISO সনদটি কেবল একটি বিপণন সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী প্রকৌশলভিত্তিক সিদ্ধান্ত। আমি বিশ্বাস করি, রাজশাহীর একজন শিক্ষার্থী আমাদের পাঠ্যবই ব্যবহার করে ঠিক একই মানের শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন, যা ঢাকার একজন শিক্ষার্থী পান। এই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই আমরা আমাদের সম্পাদনা কার্যপ্রবাহ এবং মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে শুরু থেকে পুনর্গঠন করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ‘যথেষ্ট ভালো’ মানসিকতাকে ছাড়িয়ে ‘সর্বোত্তম’ মান অর্জন করা। আজ ১৩ বছর পর পাঠকদের এই অটুট বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
রাজনীতি ডটকম: আপনি দীর্ঘদিন ধরে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবই প্রকাশনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের পক্ষে কথা বলছেন। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির পথ কী হতে পারে?
মেহেদী হাসান: এ ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি চমৎকার অংশীদারিত্বের সুযোগ রয়েছে। আমরা মালয়েশিয়ার সফল মডেলটি অনুসরণ করতে পারি, যেখানে সরকার পাঠ্যক্রমের মানদণ্ড ও মূল্যসীমা নির্ধারণ করে এবং বেসরকারি প্রকাশকরা সেই কাঠামোর মধ্যে সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানোন্নয়ন ঘটায়। এটি বাস্তবায়িত হলে বাজারভিত্তিক প্রণোদনায় শিক্ষার উপকরণ আরও আধুনিক হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনটি বিষয়ে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা সম্ভব।
রাজনীতি ডটকম: ২০৩০ সালের পাঠ্যবই প্রকাশনা কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?
মেহেদী হাসান: ২০৩০ সালের পাঠ্যবই প্রকাশকরা আর কেবল বই প্রস্তুতকারী হবে না, তারা হবে শিক্ষার ফলাফলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতের প্রকাশনা হবে প্ল্যাটফর্মনির্ভর, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত শিক্ষণ পদ্ধতি ও মাল্টি-ফরম্যাট কনটেন্ট একই সঙ্গে বিস্তৃত।
রাজনীতি ডটকম: প্রকাশনা খাতকে এখনো আনুষ্ঠানিক শিল্প হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। এটি অর্জনের জন্য আপনার সুনির্দিষ্ট দাবি কী?
মেহেদী হাসান: এটি মূলত একটি প্রশাসনিক বিষয় এবং এটি কার্যকর হলে আমাদের জ্ঞান-অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আমার সুনির্দিষ্ট দাবি মাত্র তিনটি— গেজেট নোটিফিকেশন, বিডা (বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) নিবন্ধন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঋণ সুবিধা। এই শিল্প স্বীকৃতি পেলে রপ্তানি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়তা বাড়বে, যা নতুন প্রজন্মের প্রকাশকদের জন্য একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি করবে।
রাজনীতি ডটকম: অমর একুশে বইমেলাকে বাণিজ্যিকভাবে আরও সফল করতে ২০২৭ সালের জন্য আপনার প্রস্তাবনা কী?
মেহেদী হাসান : বইমেলাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের উৎসবে রূপান্তরের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, মেলার তারিখ অন্তত ১২ মাস আগে নির্ধারণ করা জরুরি, যেন প্রকাশকরা পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন; দ্বিতীয়ত, ফ্র্যাংকফুর্টের আদলে একটি ‘কপিরাইট প্যাভিলিয়ন’ বা রাইটস ট্রেডিং অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যা বছরজুড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিশ্চিত করবে; তৃতীয়ত, সরকারের উচিত প্রকাশকদের কাছ থেকে মানসম্মত বই কেনার মাধ্যমে এই সাংস্কৃতিক অবকাঠামোকে শক্তিশালী করা।
রাজনীতি ডটকম: আপনি বাংলাদেশকে একটি ‘জ্ঞান-নেটওয়ার্ক জাতি’ হিসেবে দেখেন। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সম্প্রদায়ের কাছে আপনার বার্তা কী?
মেহেদী হাসান: আমি বলব, বাংলাদেশ সৃজনশীল মেধার এক বিশাল আধার। আমাদের ২৩ কোটি মানুষের এই ভাষা ও সাহিত্যের বাজারটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আমরা বিশ্ব প্রকাশনা সম্প্রদায়ের কাছে কোনো দান বা সাহায্য চাইছি না, আমরা চাই সমমর্যাদার সংযোগ। আমরা একই রাইটস ফ্রেমওয়ার্ক এবং অনুবাদ অনুদান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। বাংলাদেশ এখন শুধু বই প্রকাশ করবে না, বরং বিশ্বদরবারে মৌলিক ধারণা ও মেধা রপ্তানি করতে প্রস্তুত।
আমাদের প্রেস প্রস্তুত, লেখক প্রস্তুত, পাঠক প্রস্তুত। এখন সময় প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রস্তুত হওয়ার।
রাজনীতি ডটকম: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মেহেদী হাসান: পাঠক ও রাজনীতি ডটকম সংশ্লিষ্টদেরও ধন্যবাদ।

প্রকাশক ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান অমিকন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবং বাংলাপ্রকাশ ও লেকচার পাবলিকেশন্স পিএলসির প্রকাশক। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প ও অমর একুশে বইমেলা নিয়ে রাজনীতি ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন জ্ঞান-অর্থনীতির স্বপ্নদ্রষ্টা মেহেদী হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহরিয়ার শরিফ।
রাজনীতি ডটকম: বাংলাপ্রকাশ-এর সম্পাদকীয় মানদণ্ড হিসেবে আপনি ‘নির্ভুলতা’ শব্দটিকে গুরুত্ব দেন। আপনার দৃষ্টিতে এর গভীরতা কতটুকু?
মেহেদী হাসান: আমাদের কাছে নির্ভুলতা মানে পাঠকের প্রতি একটি পবিত্র অঙ্গীকার। এটি কেবল বানান শুদ্ধি নয়; এটি একটি বইকে যথাযথ, সুন্দর ও পাঠকের সময়ের উপযুক্ত করে তোলার প্রতিশ্রুতি। এর জন্য আমাদের সম্পাদনা ও টাইপসেটিংয়ে সর্বোচ্চ বিনিয়োগ করতে হয় এবং মানসম্মত পাণ্ডুলিপি তৈরিতে আমরা দীর্ঘ সময় ব্যয় করি। নির্মলেন্দু গুণের ‘আটকথা ১৯৭১’ গ্রন্থের জন্য জেমকন সাহিত্য পুরস্কারসহ বাংলা একাডেমি থেকে একাধিকবার পুরস্কার পাওয়া আমাদের এই নিষ্ঠারই একটি স্বীকৃতি।
রাজনীতি ডটকম: নতুন লেখকদের পৃষ্ঠপোষকতায় ‘বাংলাপ্রকাশ’ কী ধরনের ভূমিকা রাখছে এবং তাদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
মেহেদী হাসান: আমরা সবসময়ই নতুন লেখকদের মধ্যে একটি স্বতন্ত্র ‘স্বর’ বা পৃথিবী দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি খুঁজি। নতুন লেখকদের প্রতি আমার পরামর্শ— তাড়াহুড়া না করে প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় নেওয়া। আরও বেশি পড়া ও পাণ্ডুলিপি বারবার পরিমার্জন করার মাধ্যমে তারা তাদের লেখকজীবনকে অনেক বেশি দীর্ঘ ও উজ্জ্বল করতে পারেন।
রাজনীতি ডটকম: বাংলাদেশের সৃজনশীল সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক বাজারে দৃশ্যমান করার জন্য আপনার পরিকল্পনা কী?
মেহেদী হাসান: আমাদের সাহিত্যের মান নিয়ে কোনো সংশয় নেই, এটি নিঃসন্দেহে বিশ্বমানের। অভাব কেবল সঠিক অবকাঠামোর। অমিকন রাইটস এজেন্সির মাধ্যমে আমরা সেই অভাব পূরণের কাজ করছি। জাতীয় পর্যায়ে আমাদের তিনটি লক্ষ্য থাকা প্রয়োজন— নরওয়ের NORLA মডেলের মতো ‘বাংলাদেশ বুকস অ্যাব্রড’ কর্মসূচি চালু করা, আন্তর্জাতিক বইমেলাগুলোতে স্থায়ী প্যাভিলিয়ন স্থাপন এবং একটি ‘ডিজিটাল রাইটস ক্যাটালগ’ তৈরি করা, যেন বিশ্বব্যাপী প্রকাশকরা সহজেই আমাদের কনটেন্ট খুঁজে পান।
রাজনীতি ডটকম: লেকচার পাবলিকেশন্স বাংলাদেশের একমাত্র ISO 9001:2008 সনদপ্রাপ্ত একাডেমিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। প্রায় ৪,৫০০ প্রকাশকের বাজারে এই স্বীকৃতির গুরুত্ব কী?
মেহেদী হাসান: এই ISO সনদটি কেবল একটি বিপণন সিদ্ধান্ত ছিল না, এটি ছিল একটি সুদূরপ্রসারী প্রকৌশলভিত্তিক সিদ্ধান্ত। আমি বিশ্বাস করি, রাজশাহীর একজন শিক্ষার্থী আমাদের পাঠ্যবই ব্যবহার করে ঠিক একই মানের শিক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন, যা ঢাকার একজন শিক্ষার্থী পান। এই ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতেই আমরা আমাদের সম্পাদনা কার্যপ্রবাহ এবং মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াকে শুরু থেকে পুনর্গঠন করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল ‘যথেষ্ট ভালো’ মানসিকতাকে ছাড়িয়ে ‘সর্বোত্তম’ মান অর্জন করা। আজ ১৩ বছর পর পাঠকদের এই অটুট বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
রাজনীতি ডটকম: আপনি দীর্ঘদিন ধরে প্রথম থেকে দশম শ্রেণির পাঠ্যবই প্রকাশনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের পক্ষে কথা বলছেন। এ ক্ষেত্রে অগ্রগতির পথ কী হতে পারে?
মেহেদী হাসান: এ ক্ষেত্রে সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে একটি চমৎকার অংশীদারিত্বের সুযোগ রয়েছে। আমরা মালয়েশিয়ার সফল মডেলটি অনুসরণ করতে পারি, যেখানে সরকার পাঠ্যক্রমের মানদণ্ড ও মূল্যসীমা নির্ধারণ করে এবং বেসরকারি প্রকাশকরা সেই কাঠামোর মধ্যে সৃজনশীল প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানোন্নয়ন ঘটায়। এটি বাস্তবায়িত হলে বাজারভিত্তিক প্রণোদনায় শিক্ষার উপকরণ আরও আধুনিক হবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে আগামী দুই বছরের মধ্যে তিনটি বিষয়ে এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা সম্ভব।
রাজনীতি ডটকম: ২০৩০ সালের পাঠ্যবই প্রকাশনা কেমন হবে বলে আপনি মনে করেন?
মেহেদী হাসান: ২০৩০ সালের পাঠ্যবই প্রকাশকরা আর কেবল বই প্রস্তুতকারী হবে না, তারা হবে শিক্ষার ফলাফলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতের প্রকাশনা হবে প্ল্যাটফর্মনির্ভর, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত শিক্ষণ পদ্ধতি ও মাল্টি-ফরম্যাট কনটেন্ট একই সঙ্গে বিস্তৃত।
রাজনীতি ডটকম: প্রকাশনা খাতকে এখনো আনুষ্ঠানিক শিল্প হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়নি। এটি অর্জনের জন্য আপনার সুনির্দিষ্ট দাবি কী?
মেহেদী হাসান: এটি মূলত একটি প্রশাসনিক বিষয় এবং এটি কার্যকর হলে আমাদের জ্ঞান-অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আমার সুনির্দিষ্ট দাবি মাত্র তিনটি— গেজেট নোটিফিকেশন, বিডা (বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) নিবন্ধন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অগ্রাধিকার খাত হিসেবে ঋণ সুবিধা। এই শিল্প স্বীকৃতি পেলে রপ্তানি প্রণোদনা ও বিনিয়োগ সহায়তা বাড়বে, যা নতুন প্রজন্মের প্রকাশকদের জন্য একটি টেকসই ভিত্তি তৈরি করবে।
রাজনীতি ডটকম: অমর একুশে বইমেলাকে বাণিজ্যিকভাবে আরও সফল করতে ২০২৭ সালের জন্য আপনার প্রস্তাবনা কী?
মেহেদী হাসান : বইমেলাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের উৎসবে রূপান্তরের চমৎকার সুযোগ রয়েছে। প্রথমত, মেলার তারিখ অন্তত ১২ মাস আগে নির্ধারণ করা জরুরি, যেন প্রকাশকরা পরিকল্পিতভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেন; দ্বিতীয়ত, ফ্র্যাংকফুর্টের আদলে একটি ‘কপিরাইট প্যাভিলিয়ন’ বা রাইটস ট্রেডিং অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যা বছরজুড়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রম নিশ্চিত করবে; তৃতীয়ত, সরকারের উচিত প্রকাশকদের কাছ থেকে মানসম্মত বই কেনার মাধ্যমে এই সাংস্কৃতিক অবকাঠামোকে শক্তিশালী করা।
রাজনীতি ডটকম: আপনি বাংলাদেশকে একটি ‘জ্ঞান-নেটওয়ার্ক জাতি’ হিসেবে দেখেন। আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সম্প্রদায়ের কাছে আপনার বার্তা কী?
মেহেদী হাসান: আমি বলব, বাংলাদেশ সৃজনশীল মেধার এক বিশাল আধার। আমাদের ২৩ কোটি মানুষের এই ভাষা ও সাহিত্যের বাজারটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। আমরা বিশ্ব প্রকাশনা সম্প্রদায়ের কাছে কোনো দান বা সাহায্য চাইছি না, আমরা চাই সমমর্যাদার সংযোগ। আমরা একই রাইটস ফ্রেমওয়ার্ক এবং অনুবাদ অনুদান ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। বাংলাদেশ এখন শুধু বই প্রকাশ করবে না, বরং বিশ্বদরবারে মৌলিক ধারণা ও মেধা রপ্তানি করতে প্রস্তুত।
আমাদের প্রেস প্রস্তুত, লেখক প্রস্তুত, পাঠক প্রস্তুত। এখন সময় প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রস্তুত হওয়ার।
রাজনীতি ডটকম: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
মেহেদী হাসান: পাঠক ও রাজনীতি ডটকম সংশ্লিষ্টদেরও ধন্যবাদ।

ইসলাম মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। অর্থ উপার্জন বৈধ, সম্পদ অর্জনও বৈধ। কিন্তু সেই সম্পদের ভেতরে সমাজের দুর্বল মানুষের অধিকার আছে। এই বোধ তৈরি করাই জাকাত ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য। ফলে জাকাত শুধু আধ্যাত্মিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্বও।
৩ দিন আগে
হুটহাট করে প্রথম শ্রেণিতেই শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি পরীক্ষা চালুর বদলে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি নীতি-কৌশল প্রণয়ন করা গেলে সেটিই বরং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
৩ দিন আগে
যেখানে শিক্ষকের নৈতিকতার এমন অবক্ষয় বিদ্যমান, সেখানে এই ভর্তি পরীক্ষা মূলত নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষের সুযোগ কেড়ে নেয়। কারণ একজন রিকশাচালক বা সামান্য কর্মচারীর মেধাবী সন্তান এই টাকার লড়াইয়ে টিকে থাকতে পারে না। এমনকি কারও কারও পক্ষে তো অনেক স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহের
৩ দিন আগে
এই ৪৬ বছর বয়সের মধ্যে তিনি পাকিস্তান আন্দোলন করেছেন, কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা সামলাতে আসন্ন সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে ফরিদপুরে রেখে নেতার নির্দেশ মাথা পেতে নিয়েছিলেন। তিনি আবার সিলেট পাকিস্তানে থাকবে না ভারতে যাবে— সে বিষয়টি নির্ধারণের গণভোটে পাকিস্তানের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। আমাদের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি
৪ দিন আগে