
সাইমন মোহসিন

একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি এমন একটি নিয়োগ যা প্রতীকী ও কৌশলগত উভয় অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। একজন সাবেক রেলমন্ত্রী, যিনি কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) উভয়ের মতাদর্শগত পরিসর অতিক্রম করেছেন, তাকে বাংলাদেশে নিয়োগ দেওয়া একটি সাধারণ কূটনৈতিক রদবদলের চেয়েও বেশি কিছু ইঙ্গিত করে।
এটি নয়াদিল্লির সেই স্বীকৃতিকে তুলে ধরে— ঢাকার সঙ্গে তার সম্পর্কটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তা দূরত্ব বজায় রেখে পরিচালনার বিষয় নয়। যখন কোনো সরকার পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন কৌশলী রাজনীতিককে নিয়োগ দেয় তখন তা প্রায়শই স্বীকার করে নেওয়া হয়, প্রশ্নাধীন সম্পর্কটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংযোগস্থলে অবস্থিত।
ভারতের কাছে বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিবেশী নয়, এটি তার পূর্ব দিকের কৌশলের মূল চাবিকাঠি (লিঞ্চপিন)। বাংলাদেশের জন্য ভারত একটি অনিবার্য ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তাদের মাঝে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান, যা ইতিহাসে স্তরিত, বৈষম্য দ্বারা গঠিত এবং প্রয়োজনীয়তার টানে টিকিয়ে রাখা।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মে ভারতের ভূমিকা এক সদিচ্ছার ভাণ্ডার তৈরি করেছিল, যা সময়ের ব্যবধানে জটিল আকার ধারণ করলেও কখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। ভূগোল এই আন্তঃনির্ভরতাকে আরও শক্তিশালী করে।
বাংলাদেশ প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভারত দ্বারা বেষ্টিত এবং আঞ্চলিক সংযোগ, শক্তি করিডোর ও বাণিজ্য পথে তার প্রবেশাধিকার ভারতীয় ভূখণ্ড দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। ভারতের জন্য বাংলাদেশ তার উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে এবং ট্রানজিট রুট সরবরাহ করে, যা এ অঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত পরিধি থেকে একটি সংযুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরিত করতে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এ সম্পর্ক সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং গত দশকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। রেল, সড়ক সংযোগ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নৌ পথ— এমন সংযোগ উদ্যোগগুলো বিভাগ-পূর্ব অর্থনৈতিক ভূগোল পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে, যা পারস্পরিক লাভের প্রতিশ্রুতি দেয়।
সীমান্ত অতিক্রমকারী বিদ্যুৎ-বাণিজ্যসহ জ্বালানি সহযোগিতা এ অংশীদারিত্বের ভিত্তিস্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ তার শিল্প খাতের উন্নতি টিকিয়ে রাখতে আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের মাধ্যমে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা আরও ইঙ্গিত দেয়, কীভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা সেই সব সুযোগ উন্মোচিত করতে পারে, যা কোনো একক দেশ বিচ্ছিন্নভাবে অর্জন করতে সক্ষম নয়।
নিরাপত্তার বিবেচনাও দুই দেশকে ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ করে। সন্ত্রাসবাদ দমন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল উভয়ের স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রেখেছে। নয়াদিল্লির জন্য একটি স্থিতিশীল ও সহযোগিতাপরায়ণ বাংলাদেশ বিদ্রোহী কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে ঢাকার জন্য ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা সীমান্ত পেরিয়ে আসা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করে।
তবে সহযোগিতার এই স্তরগুলোর নিচে কিছু স্থায়ী ও কখনো কখনো গভীরভাবে অনুভূত অভিযোগ লুকিয়ে আছে। বাংলাদেশের অনেকের কাছে এ সম্পর্ক প্রায়ই অসম বলে মনে হয়েছে, যেখানে ক্ষমতা ও প্রভাবের বৈষম্য সবসময় সচেতনতার সঙ্গে পরিচালিত হয়নি। পানি বণ্টনের মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিতর্কিত রয়ে গেছে। আন্তঃসীমান্ত নদী, বিশেষ করে তিস্তা নিয়ে একটি ব্যাপক চুক্তির অনুপস্থিতি হতাশা এবং অপ্রতুল প্রতিশ্রুতির অনুভূতি তৈরি করে চলেছে।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ডও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) জড়িত ঘটনাগুলো বাংলাদেশে জনরোষের তৈরি করেছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মানবিক মূল্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতাও বৈষম্যের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যেখানে বাংলাদেশি রপ্তানি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়, অন্যদিকে ভারতীয় পণ্য সহজেই বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করে।
সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ধারণাটি। আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের কথিত সমর্থন, যে সময়কালটি ব্যাপকভাবে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার জন্য সমালোচিত হয়েছিল, বাংলাদেশের জনমনে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। অনেকের কাছে এটি গণতান্ত্রিক নীতির ওপর কৌশলগত সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবে দেখা গেছে। এটি এমন একটি পন্থা যা স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা এনেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সদিচ্ছার মূল্যে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অভিযোগগুলো বাংলাদেশের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাবের তীব্র উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্থানের পর এ মনোভাব একটি উল্লেখযোগ্য শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছেছিল, যখন জনগণের একাংশ ভারতের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। এ প্রতিক্রিয়ার কিছু অংশ নিঃসন্দেহে আবেগপ্রবণ ছিল, তবে একে পুরোপুরি আবেগপ্রবণ বলে উড়িয়ে দেওয়া ভুল হবে। এর বেশির ভাগই সার্বভৌমত্ব, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্পর্কে প্রকৃত উদ্বেগের মধ্যে নিহিত ছিল।
একই সঙ্গে এমন ইঙ্গিতও রয়েছে, উভয় দেশই তাদের পদ্ধতির পুনর্মূল্যায়ন করছে। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে আরও সূক্ষ্মভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টতই উপলব্ধি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এবং এখন নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা একটি বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন স্বীকৃতি যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নমনীয়তা ও পরিবর্তনের প্রতি সাড়াদানের ক্ষমতা প্রয়োজন।
এই পরিবর্তন জটিলতাবিহীন নয়। ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কিছু ডানপন্থি উপাদান সম্পর্কে ভারতের আপত্তি বোধগম্য। তবে এ উদ্বেগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি একটি গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপ বজায় রাখা সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশের দিক থেকে ক্রান্তিকালে কূটনীতির পরিচালনা মাঝে মাঝে অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নিয়ামকের বক্তব্য ও অবস্থানে মাঝে মাঝে বিচক্ষণতা ও কৌশলগত স্পষ্টতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে, যা এত বড় মাপের একটি সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতার অসমতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক কৌশল কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয়তা।
ভারতকেও তার নিজস্ব পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের বাংলাদেশ নীতি মূলত তার কূটনীতিক বাহিনী দ্বারা গঠিত হতো, যেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ সম্পর্ক পরিচালনায় আরও সরাসরি ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। এতে অধিকতর মনোযোগ ও জরুরি অনুভূতি মনে হতে পারে। তবে এতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনা দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বৃহত্তর প্রয়োজনীয়তাগুলোর ওপর ছাপ ফেলার ঝুঁকিও থেকে যায়।
এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ একজন হাইকমিশনার নিয়োগ নতুন গতিশীলতার সূচনা করতে পারেন। জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা আরও সমন্বিত একটি পদ্ধতি গ্রহণে সক্ষম করতে পারে, এটি হতে পারে এমন একটি পদ্ধতি যা রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও কূটনৈতিক প্রয়োজনীয়তার মধ্যকার ব্যবধান পূরণ করে। এটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী সম্পর্কের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেটি দেখার বিষয়। তবে এটি নিশ্চিতভাবে পুনর্মূল্যায়নের দরজা খুলে দেয়।
দুটি বিস্তৃত বিষয় দ্বিপাক্ষিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তোলে। প্রথমত, ভারতে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিরোধী পরিবেশের উপলব্ধি। মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ এ বিষয়ে সংবেদনশীল। বাংলাদেশের কাছে এটি কোনো দূরবর্তী উদ্বেগের বিষয় নয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ বক্তব্য সীমান্ত পেরিয়ে ঢেউ তুলতে পারে, জনমত প্রভাবিত করতে পারে ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারণা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। এর জন্য শুধু নীতি-সংক্রান্ত সমন্বয় নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধা বাড়ানোর একটি সচেতন প্রয়াসও প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক সংযোগের প্রয়োজনীয়তা। দক্ষিণ এশিয়া তার বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম স্বল্প-সংযুক্ত অঞ্চল রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ও ভারত তাদের ভূগোল ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার গুণে এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য অনন্য অবস্থানে রয়েছে। পরিবহন করিডোর, জ্বালানি গ্রিড বা ডিজিটাল অবকাঠামো— যে মাধ্যমেই হোক, দুই দেশের মধ্যে বর্ধিত সংযোগ আঞ্চলিক একীভূতকরণের জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারতীয় ভূখণ্ডের মাধ্যমে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা একটি চমকপ্রদ উদাহরণ, যা দেখায় কীভাবে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তব সুফল বয়ে আনতে পারে।
পরিশেষে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে উভয় দেশের সক্ষমতার ওপর, যেন তারা অতীতের বাধা অতিক্রম করতে পারে এবং তাদের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে ও জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ— ব্যবহারিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থে সুদৃঢ়ভাবে নিহিত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ। অন্যদিকে ভারতের জন্য এর অর্থ— বাংলাদেশের সঙ্গে একজন অধীনস্থের চেয়ে বরং একজন অংশীদার হিসেবে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং এটি স্বীকার করা যে প্রভাব টিকিয়ে রাখার জন্য সম্মান ও পারস্পরিকতা অপরিহার্য।
সম্পর্কটি বর্তমানে অসম এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। কিন্তু অসমতা মানেই অবিচার— এটি জরুরি নয়। চিন্তাশীল নেতৃত্ব, কৌশলগত ধৈর্য ও পারস্পরিক সুবিধার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে, যা শুধু তাদের নিজস্ব স্বার্থই সাধন করবে না, বরং বৃহত্তর অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।
ঢাকায় একজন হাইপ্রোফাইল রাষ্ট্রদূতের আগমন স্মরণ করিয়ে দেয়, উভয় পক্ষই কী ঝুঁকিতে রয়েছে তা বোঝে। এখন তাদের ওপরই দায়িত্ব, এই বোঝাপড়া যেন কাজে রূপ নেয়। তারা এতে সফল হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়টি অভিযোগ ও সন্দেহ দ্বারা নয়, বরং সহযোগিতা ও ভাগাভাগি করা উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা সংজ্ঞায়িত হতে পারে।
লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক

একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে নিযুক্ত করা হয়েছে। এটি এমন একটি নিয়োগ যা প্রতীকী ও কৌশলগত উভয় অর্থেই গুরুত্বপূর্ণ। একজন সাবেক রেলমন্ত্রী, যিনি কংগ্রেস ও ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) উভয়ের মতাদর্শগত পরিসর অতিক্রম করেছেন, তাকে বাংলাদেশে নিয়োগ দেওয়া একটি সাধারণ কূটনৈতিক রদবদলের চেয়েও বেশি কিছু ইঙ্গিত করে।
এটি নয়াদিল্লির সেই স্বীকৃতিকে তুলে ধরে— ঢাকার সঙ্গে তার সম্পর্কটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে তা দূরত্ব বজায় রেখে পরিচালনার বিষয় নয়। যখন কোনো সরকার পেশাদার কূটনীতিকের পরিবর্তে একজন কৌশলী রাজনীতিককে নিয়োগ দেয় তখন তা প্রায়শই স্বীকার করে নেওয়া হয়, প্রশ্নাধীন সম্পর্কটি অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আঞ্চলিক কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংযোগস্থলে অবস্থিত।
ভারতের কাছে বাংলাদেশ কেবল একটি প্রতিবেশী নয়, এটি তার পূর্ব দিকের কৌশলের মূল চাবিকাঠি (লিঞ্চপিন)। বাংলাদেশের জন্য ভারত একটি অনিবার্য ভৌগলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা। তাদের মাঝে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিদ্যমান, যা ইতিহাসে স্তরিত, বৈষম্য দ্বারা গঠিত এবং প্রয়োজনীয়তার টানে টিকিয়ে রাখা।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ঐতিহাসিক ভিত অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও দীর্ঘস্থায়ী। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মে ভারতের ভূমিকা এক সদিচ্ছার ভাণ্ডার তৈরি করেছিল, যা সময়ের ব্যবধানে জটিল আকার ধারণ করলেও কখনো পুরোপুরি মুছে যায়নি। ভূগোল এই আন্তঃনির্ভরতাকে আরও শক্তিশালী করে।
বাংলাদেশ প্রায় সম্পূর্ণরূপে ভারত দ্বারা বেষ্টিত এবং আঞ্চলিক সংযোগ, শক্তি করিডোর ও বাণিজ্য পথে তার প্রবেশাধিকার ভারতীয় ভূখণ্ড দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত। ভারতের জন্য বাংলাদেশ তার উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখে এবং ট্রানজিট রুট সরবরাহ করে, যা এ অঞ্চলকে স্থলবেষ্টিত পরিধি থেকে একটি সংযুক্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরিত করতে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এ সম্পর্ক সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্য অংশীদার এবং গত দশকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত হয়েছে। রেল, সড়ক সংযোগ থেকে শুরু করে অভ্যন্তরীণ নৌ পথ— এমন সংযোগ উদ্যোগগুলো বিভাগ-পূর্ব অর্থনৈতিক ভূগোল পুনরুদ্ধার করতে শুরু করেছে, যা পারস্পরিক লাভের প্রতিশ্রুতি দেয়।
সীমান্ত অতিক্রমকারী বিদ্যুৎ-বাণিজ্যসহ জ্বালানি সহযোগিতা এ অংশীদারিত্বের ভিত্তিস্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ তার শিল্প খাতের উন্নতি টিকিয়ে রাখতে আমদানি করা বিদ্যুতের ওপর ক্রমশ নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ভারতীয় ভূখণ্ডের মাধ্যমে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ পাওয়ার বিষয়ে সাম্প্রতিক আলোচনা আরও ইঙ্গিত দেয়, কীভাবে আঞ্চলিক সহযোগিতা সেই সব সুযোগ উন্মোচিত করতে পারে, যা কোনো একক দেশ বিচ্ছিন্নভাবে অর্জন করতে সক্ষম নয়।
নিরাপত্তার বিবেচনাও দুই দেশকে ঘনিষ্ঠভাবে আবদ্ধ করে। সন্ত্রাসবাদ দমন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল উভয়ের স্থিতিশীলতায় ভূমিকা রেখেছে। নয়াদিল্লির জন্য একটি স্থিতিশীল ও সহযোগিতাপরায়ণ বাংলাদেশ বিদ্রোহী কার্যকলাপ প্রতিরোধ এবং পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে ঢাকার জন্য ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখা সীমান্ত পেরিয়ে আসা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়তা করে।
তবে সহযোগিতার এই স্তরগুলোর নিচে কিছু স্থায়ী ও কখনো কখনো গভীরভাবে অনুভূত অভিযোগ লুকিয়ে আছে। বাংলাদেশের অনেকের কাছে এ সম্পর্ক প্রায়ই অসম বলে মনে হয়েছে, যেখানে ক্ষমতা ও প্রভাবের বৈষম্য সবসময় সচেতনতার সঙ্গে পরিচালিত হয়নি। পানি বণ্টনের মতো বিষয়গুলো বিশেষভাবে বিতর্কিত রয়ে গেছে। আন্তঃসীমান্ত নদী, বিশেষ করে তিস্তা নিয়ে একটি ব্যাপক চুক্তির অনুপস্থিতি হতাশা এবং অপ্রতুল প্রতিশ্রুতির অনুভূতি তৈরি করে চলেছে।
সীমান্ত হত্যাকাণ্ডও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। ভারতের সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ) জড়িত ঘটনাগুলো বাংলাদেশে জনরোষের তৈরি করেছে, যা সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মানবিক মূল্য সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতাও বৈষম্যের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে, যেখানে বাংলাদেশি রপ্তানি বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়, অন্যদিকে ভারতীয় পণ্য সহজেই বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করে।
সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের ধারণাটি। আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের কথিত সমর্থন, যে সময়কালটি ব্যাপকভাবে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার জন্য সমালোচিত হয়েছিল, বাংলাদেশের জনমনে একটি স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। অনেকের কাছে এটি গণতান্ত্রিক নীতির ওপর কৌশলগত সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হিসেবে দেখা গেছে। এটি এমন একটি পন্থা যা স্বল্পমেয়াদি স্থিতিশীলতা এনেছে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সদিচ্ছার মূল্যে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ অভিযোগগুলো বাংলাদেশের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাবের তীব্র উত্থানে ভূমিকা রেখেছে। জুলাইয়ের রাজনৈতিক উত্থানের পর এ মনোভাব একটি উল্লেখযোগ্য শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছেছিল, যখন জনগণের একাংশ ভারতের ভূমিকা ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছিল। এ প্রতিক্রিয়ার কিছু অংশ নিঃসন্দেহে আবেগপ্রবণ ছিল, তবে একে পুরোপুরি আবেগপ্রবণ বলে উড়িয়ে দেওয়া ভুল হবে। এর বেশির ভাগই সার্বভৌমত্ব, ন্যায্যতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা সম্পর্কে প্রকৃত উদ্বেগের মধ্যে নিহিত ছিল।
একই সঙ্গে এমন ইঙ্গিতও রয়েছে, উভয় দেশই তাদের পদ্ধতির পুনর্মূল্যায়ন করছে। বিশেষ করে ভারত, বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের সঙ্গে আরও সূক্ষ্মভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টতই উপলব্ধি করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে এবং এখন নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা একটি বাস্তবসম্মত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। এটি এমন স্বীকৃতি যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নমনীয়তা ও পরিবর্তনের প্রতি সাড়াদানের ক্ষমতা প্রয়োজন।
এই পরিবর্তন জটিলতাবিহীন নয়। ভারতের নিজস্ব নিরাপত্তা উদ্বেগ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের কিছু ডানপন্থি উপাদান সম্পর্কে ভারতের আপত্তি বোধগম্য। তবে এ উদ্বেগগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি একটি গঠনমূলক ও সম্মানজনক সংলাপ বজায় রাখা সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বাংলাদেশের দিক থেকে ক্রান্তিকালে কূটনীতির পরিচালনা মাঝে মাঝে অপেক্ষাকৃত কম কার্যকর হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নিয়ামকের বক্তব্য ও অবস্থানে মাঝে মাঝে বিচক্ষণতা ও কৌশলগত স্পষ্টতার অভাব লক্ষ্য করা গেছে, যা এত বড় মাপের একটি সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ও উল্লেখযোগ্য ক্ষমতার অসমতার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত একটি দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিক কৌশল কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি প্রয়োজনীয়তা।
ভারতকেও তার নিজস্ব পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে হবে। ঐতিহ্যগতভাবে ভারতের বাংলাদেশ নীতি মূলত তার কূটনীতিক বাহিনী দ্বারা গঠিত হতো, যেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এ সম্পর্ক পরিচালনায় আরও সরাসরি ভূমিকা রাখতে দেখা গেছে। এতে অধিকতর মনোযোগ ও জরুরি অনুভূতি মনে হতে পারে। তবে এতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবেচনা দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বৃহত্তর প্রয়োজনীয়তাগুলোর ওপর ছাপ ফেলার ঝুঁকিও থেকে যায়।
এ প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ একজন হাইকমিশনার নিয়োগ নতুন গতিশীলতার সূচনা করতে পারেন। জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিচালনায় তার অভিজ্ঞতা আরও সমন্বিত একটি পদ্ধতি গ্রহণে সক্ষম করতে পারে, এটি হতে পারে এমন একটি পদ্ধতি যা রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও কূটনৈতিক প্রয়োজনীয়তার মধ্যকার ব্যবধান পূরণ করে। এটি আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও দূরদর্শী সম্পর্কের দিকে নিয়ে যায় কি না, সেটি দেখার বিষয়। তবে এটি নিশ্চিতভাবে পুনর্মূল্যায়নের দরজা খুলে দেয়।
দুটি বিস্তৃত বিষয় দ্বিপাক্ষিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তোলে। প্রথমত, ভারতে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিরোধী পরিবেশের উপলব্ধি। মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জনগণ এ বিষয়ে সংবেদনশীল। বাংলাদেশের কাছে এটি কোনো দূরবর্তী উদ্বেগের বিষয় নয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ বক্তব্য সীমান্ত পেরিয়ে ঢেউ তুলতে পারে, জনমত প্রভাবিত করতে পারে ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারণা গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে। এর জন্য শুধু নীতি-সংক্রান্ত সমন্বয় নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও শ্রদ্ধা বাড়ানোর একটি সচেতন প্রয়াসও প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক সংযোগের প্রয়োজনীয়তা। দক্ষিণ এশিয়া তার বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও বিশ্বের অন্যতম স্বল্প-সংযুক্ত অঞ্চল রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ও ভারত তাদের ভূগোল ও অর্থনৈতিক পরিপূরকতার গুণে এ অবস্থা পরিবর্তনের জন্য অনন্য অবস্থানে রয়েছে। পরিবহন করিডোর, জ্বালানি গ্রিড বা ডিজিটাল অবকাঠামো— যে মাধ্যমেই হোক, দুই দেশের মধ্যে বর্ধিত সংযোগ আঞ্চলিক একীভূতকরণের জন্য অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে। ভারতীয় ভূখণ্ডের মাধ্যমে নেপাল থেকে জলবিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা একটি চমকপ্রদ উদাহরণ, যা দেখায় কীভাবে ত্রিপাক্ষিক সহযোগিতা বাস্তব সুফল বয়ে আনতে পারে।
পরিশেষে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে উভয় দেশের সক্ষমতার ওপর, যেন তারা অতীতের বাধা অতিক্রম করতে পারে এবং তাদের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো আন্তরিকতার সঙ্গে ও জরুরি ভিত্তিতে সমাধান করতে পারে। বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ— ব্যবহারিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থে সুদৃঢ়ভাবে নিহিত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ। অন্যদিকে ভারতের জন্য এর অর্থ— বাংলাদেশের সঙ্গে একজন অধীনস্থের চেয়ে বরং একজন অংশীদার হিসেবে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং এটি স্বীকার করা যে প্রভাব টিকিয়ে রাখার জন্য সম্মান ও পারস্পরিকতা অপরিহার্য।
সম্পর্কটি বর্তমানে অসম এবং ভবিষ্যতেও তা থাকবে। কিন্তু অসমতা মানেই অবিচার— এটি জরুরি নয়। চিন্তাশীল নেতৃত্ব, কৌশলগত ধৈর্য ও পারস্পরিক সুবিধার প্রতি অঙ্গীকারের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পারে, যা শুধু তাদের নিজস্ব স্বার্থই সাধন করবে না, বরং বৃহত্তর অঞ্চলের স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতেও অবদান রাখবে।
ঢাকায় একজন হাইপ্রোফাইল রাষ্ট্রদূতের আগমন স্মরণ করিয়ে দেয়, উভয় পক্ষই কী ঝুঁকিতে রয়েছে তা বোঝে। এখন তাদের ওপরই দায়িত্ব, এই বোঝাপড়া যেন কাজে রূপ নেয়। তারা এতে সফল হলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায়টি অভিযোগ ও সন্দেহ দ্বারা নয়, বরং সহযোগিতা ও ভাগাভাগি করা উচ্চাকাঙ্ক্ষা দ্বারা সংজ্ঞায়িত হতে পারে।
লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক

ভবিষ্যতের বিশ্বে টিকে থাকতে হলে শুধুমাত্র ডিগ্রি নয়, বরং বাস্তব দক্ষতা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা অপরিহার্য। মানবসম্পদ উন্নয়নে একাডেমিক শিক্ষা ও কর্পোরেট বাস্তবতার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ই হতে পারে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
৭ দিন আগে
এ বছর ধর্মমন্ত্রীকে সরাসরি মাঠে গিয়ে হজযাত্রীদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া তিনি হজযাত্রা ও এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। এসবের মাধ্যমে যেসব বাস্তব সমস্যা খুঁজে পাচ্ছেন, দ্রুত সেগুলো সমাধানেরও উদ্যোগ নিচ্ছেন। এর মাধ্যমে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার একটি
১০ দিন আগে
স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা খাত, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ— রাষ্ট্রের এই মৌলিক স্তম্ভগুলোও আজ কথিত চেতনার বলি হয়ে পড়েছে। জনগণের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয় প্রচুর, কিন্তু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝে মনে হয়, সবাই শুধু ‘কমিটি গঠন’ পর্যায়েই দক্ষ।
১১ দিন আগে
এই আপাত ব্যর্থতার অন্তরালে একটি সূক্ষ্ম, বরং আরও অর্থপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে— কূটনৈতিক সক্ষমতাসম্পন্ন, মধ্যস্থতাকারী ও আঞ্চলিক স্বার্থধারী হিসেবে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান নীরবে মূল্যবান হয়ে উঠেছে। এমনকি কোনো বাস্তব কূটনৈতিক অগ্রগতি ছাড়াই ইসলামাবাদ মনে হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা প্রক্রিয়াকে নিজের সুবি
১১ দিন আগে