দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের নীরব উত্থান ও বাংলাদেশের সূক্ষ্ম ভারসাম্য

সাইমন মোহসিন

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেসব আলোচনা প্রচেষ্টা, সেগুলো থেকে খুব বেশি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি, যা এসেছে ভাসা ভাসা। এ প্রয়াস যেসব বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে, সেগুলো মূলত সুযোগ হাতছাড়া হওয়া, গভীর অবিশ্বাস আর ভূরাজনৈতিক অচলাবস্থা ঘিরেই আবর্তিত হয়েছে।

এই আপাত ব্যর্থতার অন্তরালে একটি সূক্ষ্ম, বরং আরও অর্থপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে— কূটনৈতিক সক্ষমতাসম্পন্ন, মধ্যস্থতাকারী ও আঞ্চলিক স্বার্থধারী হিসেবে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান নীরবে মূল্যবান হয়ে উঠেছে। এমনকি কোনো বাস্তব কূটনৈতিক অগ্রগতি ছাড়াই ইসলামাবাদ মনে হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা প্রক্রিয়াকে নিজের সুবিধায় রূপান্তরিত করতে পেরেছে।

পাকিস্তানের এ কূটনৈতিক প্রয়াস দক্ষিণ এশিয়ার সামনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ সামনে এনেছে। কেবল আঞ্চলিক জোটবদ্ধতা নয়, বরং ক্রমশ অনিশ্চিত ভূরাজনৈতিক পরিবেশে বাংলাদেশের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলো কীভাবে তাদের বৈদেশিক নীতি পুনর্নির্ধারণ করবে, সেটিও যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ভৌগোলিক নৈকট্য, ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়ের সঙ্গেই এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জটিল নিরাপত্তা পরিবেশ ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা পাকিস্তানকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে একটি স্বতন্ত্র অবস্থানে রেখেছে। শেষ পর্যন্ত তাদের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থও হয়, তবু আলোচনা আয়োজন, সহায়তা বা ‘গোপন’ সংলাপের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পাকিস্তানের ইচ্ছা ও সক্ষমতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এ বার্তাই পৌঁছে দেয়— কূটনৈতিক অঙ্গনে তারা এখনো প্রাসঙ্গিক।

পাকিস্তানের এ অর্জন মোটেও তুচ্ছ নয়। ইসলামাবাদ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের যে অবস্থান তৈরি করেছে, তা এখন আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক যেকোনো বহুপাক্ষিক ফোরামে অর্থনৈতিক সহায়তা, নিরাপত্তা চুক্তি বা অন্য যেকোনো ইস্যুতে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে। যেকোনো ইস্যুতে তাদের দরকষাকষির সক্ষমতাও আগের চেয়ে বেশি হবে।

ফলে আলোচনার ফলাফল যাই হোক না কেন, পাকিস্তানের অবস্থান আরও সুউচ্চ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান খণ্ডিত ও বহুমেরুবিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় যেসব রাষ্ট্র কূটনৈতিক, ভৌগোলিক বা কৌশলগত সংযোগ স্থাপনে সক্ষম, তারা অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রভাব অর্জন করে। পাকিস্তানের ভূমিকা এই যুক্তির সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ।

একটি উচ্চমূল্যের কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে এটি সেই ধারণাকেই শক্তিশালী করে, সহজে পাকিস্তানকে উপেক্ষা করা যায় না। এর প্রভাব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং চীন ও উপসাগরীয় রাষ্ট্র, এবং এমনকি রাশিয়াকে যুক্ত করে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বিন্যাসে পাকিস্তানের অবস্থানেও তা প্রতিফলিত হয়।

তাছাড়া এমন এক সময়ে পাকিস্তানের এই অবস্থানগত উৎকর্ষ ঘটছে, যখন বৈশ্বিক শক্তিগুলো এশিয়ায় তাদের সম্পৃক্ততার কৌশল পুনর্বিবেচনা করছে। এ অঞ্চলগুলোর সংযোগস্থলে কাজ করার সক্ষমতা পাকিস্তানের কৌশলগত প্রাসঙ্গিকতাকে বাড়িয়ে দেবে। তাই আলোচনা ব্যর্থ হলেও সেটি পাকিস্তানের জন্য কূটনৈতিক চাতুর্য প্রদর্শনের একটি প্ল্যাটফর্ম, যা ইঙ্গিত দেয়— বৈশ্বিক রাজনীতির বিবর্তনশীল কাঠামোতে এখনো পাকিস্তান একটি অপরিহার্য কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়ে গেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এসক ঘটনাবহুল অগ্রগতি বহুমাত্রিক তাৎপর্য বহন করে। এ অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংজ্ঞায়িত, যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রায়শই বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতায় বাধা তৈরি করে। পাকিস্তানের বর্ধিত বৈশ্বিক প্রোফাইল এই গতিশীলতাকে সূক্ষ্মভাবে পুনর্বিন্যস্ত করতে পারে।

একদিকে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি ইসলামাবাদকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস ও সম্পদ জোগাতে পারে, যা ভারতের বিরুদ্ধে এর অবস্থানকে আরও কঠোর করতে পারে। অন্যদিকে বৃহত্তর কূটনৈতিক দৃশ্যমানতার সঙ্গে যে দায়বদ্ধতাগুলো আসে, তা আরও পরিমিত মনোভাবকে উৎসাহিত করতে পারে, বিশেষ করে যদি পাকিস্তান একটি গঠনমূলক বৈশ্বিক অভিনেতা হিসেবে তার ভাবমূর্তি টিকিয়ে রাখতে চায়।

ভারত তার নিজস্ব অবস্থান থেকে পাকিস্তানের নতুন এ অবস্থানকে নিঃশঙ্কচিত্তে দেখবে— এমন সম্ভাবনা কম। নয়াদিল্লি জি-২০-এর মতো ফোরামে তার ভূমিকা ও পাশ্চাত্য শক্তিগুলোর সঙ্গে তার কৌশলগত অংশীদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উভয় প্রেক্ষাপটেই নিজেকে একটি শীর্ষ শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে যথেষ্ট বিনিয়োগ করেছে। এ অবস্থায়, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্ত করে পাকিস্তান যে কূটনৈতিক গতি ফিরে পাচ্ছে, তা ভারতের কাছে আঞ্চলিক আধিপত্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর ফলে ভারতের নীতি-নির্ধারণ প্রভাবিত হতে পারে, সম্ভাব্যভাবে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক গতিশীলতাকে আরও সুসংহত করতে পারে।

এই পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেই বাংলাদেশকে নিজের কৌশলগত পছন্দগুলো নির্ধারণ করতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা একটি সতর্ক ভারসাম্য রক্ষার নীতি অনুসরণ করেছে। ভারতের সঙ্গে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে একইসঙ্গে বৈদেশিক সম্পৃক্ততা বৈচিত্র্যময় করার সুযোগও খুঁজছে।

অন্তর্বর্তী সরকার সামরিক খাত থেকে থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণের যে প্রচেষ্টা চালিয়েছে, তাকে কূটনৈতিক বিকল্প প্রসারের বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যেতে পারে। এ ধরনের সম্পৃক্ততা, যদিও পরিধিতে সীমিত, তা ইঙ্গিত দেয় যে ঐতিহাসিক বাধা অতিক্রম করে সহযোগিতার বাস্তবসম্মত পথ অনুসন্ধানে ঢাকা আগ্রহী।

একই সঙ্গে এ উদ্যোগগুলোর ধরন ও সময় নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে হয়েছে— পাকিস্তানের প্রতি এ পদক্ষেপ পরিকল্পিতভাবেই ভারতের বিপরীতে একটি পাল্লা হিসেবে সাজানো হয়েছে, যা গত দেড় দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক গতিপথের ওপর নয়াদিল্লির অনুভূত প্রভাবকে পরোক্ষভাবে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

এটি কেবল বৈচিত্র্যের বিষয় ছিল না, বরং ছিল কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনকে পুনর্নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া, যা ভারতের প্রতি অতি নির্ভরশীলতার থেকে সৃষ্ট অসন্তোষকে গুরুত্ব দিয়েই গ্রহণ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। তবে তা করতে গিয়ে ঢাকা কার্যত দুইয়ের মধ্যে রেখা অস্পষ্ট করার ঝুঁকি নিয়েছে। একদিকে বাস্তবসম্মত বহুমুখী কূটনীতি, অন্যদিকে খোলামেলা ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য— দক্ষিণ এশিয়ার মতো সংবেদনশীল ও মেরুকৃত অঞ্চলে এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি বহন করে।

তবে এসব পদক্ষেপ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক মৌলিক ও অপরিহার্য; যা বাণিজ্য, সংযোগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা ও পারস্পরিক ভূরাজনৈতিক স্বার্থকে ধারণ করে। ফলে পাকিস্তানের প্রতি বাংলাদেশের ঝুঁকে পড়ার যেকোনো প্রবণতা নয়াদিল্লিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে যদি তা সামরিক খাতে হয়। এটি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক, কারণ ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের স্থায়ী বৈশিষ্ট্যই হলো পারস্পরিক অবিশ্বাস। এমন প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সামান্য পদক্ষেপকেও কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার চোখে দেখার প্রবণতা থাকে।

বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সরকারের সূচনালগ্নে ইঙ্গিত মিলেছে, আগের সরকারের সঙ্গে তাদের কিছু পার্থক্য রয়েছে। তারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে বাস্তবসম্মত পথ গ্রহণ করতে চায়। ক্ষমতার অসাম্য ও দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার গভীরতা বিবেচনায় নয়াদিল্লির সঙ্গে স্থিতিশীল ও সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়া শুধু বিচক্ষণই নয়, বরং অনিবার্যও। একইসঙ্গে কোনো একদিকে ঝুঁকে না থেকে বহু অংশীদারের সঙ্গে সম্পৃত্ত থাকার মতো কূটনৈতিক নমনীয়তা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে।

পাকিস্তানের বর্ধিত বৈশ্বিক ভূমিকা আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করে, কিন্তু একইসঙ্গে কৌশলগত হিসাবে আরও নতুন স্তর যুক্ত করে। বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এ পরিবেশে এমনভাবে এগিয়ে যাওয়া, যেন তার মৌলিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন না হয়। এ জন্য সূক্ষ্ম একটি পদ্ধতি প্রয়োজন— যা বৈচিত্র্যকরণ ও স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করবে এবং সম্পৃক্ততার সঙ্গে সতর্কতার সমন্বয় ঘটাবে।

বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিকোণ থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের ব্যর্থতা ও পাকিস্তানের সমসাময়িক কৌশলগত লাভ আন্তর্জাতিক রাজনীতির একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে নির্দেশ করে— ফলাফল সবসময় আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত হয় না; বরং প্রক্রিয়া, অবস্থান ও উপলব্ধিও এ ক্ষেত্রে লাভ এনে দিতে পারে।

এ প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে এক টেবিলে নিয়ে আসার যে প্রয়াস, তা তাৎক্ষণিক কোনো ফল না দিলেও পাকিস্তানের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবেই তুলে ধরে। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এটি ইঙ্গিত দেয়, এই অঞ্চলের গতিশীলতা ক্রমবর্ধমানভাবে শুধু ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমেই নয়, বরং রাষ্ট্রগুলো কীভাবে নিজেদের বৈশ্বিক প্রক্রিয়াগুলোর মধ্যে সম্পৃক্ত করে তার মাধ্যমেও গঠিত হচ্ছে।

একই সঙ্গে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্থায়ী উত্তেজনা এ অঞ্চলের ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলে চলেছে। এ দুই রাষ্ট্রের আপেক্ষিক অবস্থানের যেকোনো পরিবর্তনের প্রভাব তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে সুদূরপ্রসারী হয়ে থাকে। বাংলাদেশের মতো ছোট রাষ্ট্রগুলোর জন্য এর অর্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে— এমন অনেক উপাদানের ওপর যা প্রায়ই তাদের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ বাস্তবতা মোকাবিলায় কৌশলগত দূরদর্শিতা ও কূটনৈতিক চাতুর্য— উভয়ই প্রয়োজন।

চূড়ান্ত বিশ্লেষণে নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতা বাংলাদেশের সামনে এক বিপরীতমুখী পরিস্থিতি উপস্থাপন করেছে। একদিকে ভূরাজনৈতিক জোটবদ্ধতার বৈচিত্র্যে সম্পৃক্ততা ও সম্ভাব্য কৌশলগত সুবিধা অর্জনের নতুন পথ খুলে দিয়েছে; অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় এটি নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে।

যতক্ষণ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা চলমান থাকবে এবং বহির্বিশ্বের শক্তিগুলো এ অঞ্চলে নির্বাচনি প্রক্রিয়া ও কৌশলগতভাবে সম্পৃক্ত হতে থাকবে, ততক্ষণ বাংলাদেশকে সতর্ক পদক্ষেপ নিতে হবে। সামনের কাজটি হলো পরিবর্তনশীল গতিশীলতার প্রতি কেবল প্রতিক্রিয়া জানানো নয়, বরং সেগুলোকে আগাম প্রত্যাশা করা— এমন একটি বৈদেশিক নীতি গঠন করা, যা ক্রমবর্ধমান জটিল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মুখে উভয় সক্ষমতায় শক্তিশালী ও অভিযোজিত হয়।

লেখক: রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশ্লেষক

ad
ad

মতামত থেকে আরও পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: জ্বালানি শক্তি পুনর্বিন্যাসের তীব্র লড়াই

জ্বালানি তেল সংকট কেবল অর্থনৈতিক সমস্যা নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত। বর্তমান পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে— একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এখনই বাস্তবমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান এবং অবৈধ মজুতদারি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

১৩ দিন আগে

জ্বালানি সংকটে প্রাথমিক শিক্ষায় অনলাইন ক্লাসের ভাবনা কতটা যুক্তিযুক্ত?

প্রাথমিক স্তরে অনলাইন ক্লাস চালুর চিন্তা একটি সতর্কবার্তা— জ্বালানি সংকট যে কেবল অর্থনীতির নয়, সামাজিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক সমাধানের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাই হতে পারে এ সমস্যার টেকসই উত্তর।

১৪ দিন আগে

অবরুদ্ধ হরমুজ: বিপন্ন বিশ্বায়ন ও মানবতার নীরব সংকট

যে জলপথ দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ চলাচল করত, সেখানে আজ অনিশ্চয়তা, ভয় ও কার্যত অচলাবস্থা। এ পরিবর্তন কেবল জাহাজের সংখ্যায় হ্রাস নয়; এটি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার গভীর স্তরে এক কাঠামোগত ব্যাঘাত।

১৪ দিন আগে

জয় নয়, ক্ষয়— ইরান যুদ্ধের একমাত্র ফল

যুদ্ধকালীন অবস্থার চেয়ে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সবসময়ই ভয়াবহ হয়ে ওঠে। কেবল যুদ্ধে জড়ানো দেশের জন্যই নয়, সারা বিশ্বের জন্যই এ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। সভ্যতার সংকট সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখে যুদ্ধ, হয়ে ওঠে নীরব আততায়ী। ইরান যুদ্ধও এর থেকে আলাদা কোনো বিষয় নয়।

১৭ দিন আগে