
ডয়চে ভেলে

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় ৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২৪ দিন পর্যটকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেশি ও বিদেশি সব ধরনের পর্যটকের ওপর এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এসএমএস বার্তায় উল্লেখ করা হয়, অনিবার্য কারণবশত পর্যটকদের ৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। এর আগে ৩ অক্টোবর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের সাজেকে পর্যটকদের না যেতে পরামর্শ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বার্তায় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছেন। একই নির্দেশনা জারি করা হয় বান্দরবান জেলা প্রশাসন থেকেও।
রবিবার একই দিনে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করে পাহাড়ে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে এ বছর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবরদান উদযাপন না করার ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত ভিক্ষু সংঘ। সংবাদ সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার ১৫টি বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাঙামাটি বৌদ্ধ বিহারে এর মূল অনুষ্ঠান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষের যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে প্রশাসনের আচরণ ছিল রহস্যজনক।পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর এভাবে বিনা বাধায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পবিত্র বিহারে আক্রমণ ও বৌদ্ধমূর্তি ভেঙে ফেলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এ ধরনের ঘটনা বারবার সংঘটিত হলেও প্রশাসনের আচরণ রহস্যজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট।’
তারা বলেন, ‘এরকম চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষু সংঘ আসন্ন পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে কোনো উৎসাহ বোধ না করায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভিক্ষু সংঘের মধ্যে আলোচনাক্রমে চলতি বছরের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমাদের মনে যে বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম হয়েছে, তা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ওই অনুষ্ঠান করতে পারি না। সব জায়গা থেকে অনুষ্ঠানে ভক্তরা আসবেন। তারা যদি নিরাপত্তা না পান, তাদের ওপর যদি কোনোভাবে হামলা হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে? আমরা তো এই পরিস্থিতির মধ্যে উৎসব করতে পারি না। পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা তো এখনো আশ্বস্ত হতে পারছি না। আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।’
তার কথা, পাহাড়ে বাড়ি-ঘর, মন্দিরে হামলা হলো. পুড়িয়ে দেয়া হলো। পবিত্র বিহারে আক্রমণ ও বৌদ্ধমূর্তি ভেঙে ফেলা হলো। ছয় জন মানুষকে হত্যা করা হলো। গুলি করে মারা হলো। তার বিরুদ্ধে তো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না। আমরা এর বিচার চাই। এই পরিস্থিতিতে আমরা কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
চীবর মানে হলো ভিক্ষুদের পরিধেয় কাপড়। আশ্বিনী পূর্ণিমাকে প্রবারণা পূর্ণিমা বলা হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকে এক মাসের জন্য কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। এক মাস ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ২০০ বিহারে ধারাবাহিকভাবে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে চীবর তৈরি করা হয়। এই অনুষ্ঠান ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে এক মাস ধরে উৎসব পালিত হয়। আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলে। এ বছর ১৮ অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
তিন পার্বত্য জেলার বর্তমান পরিস্থিতি
নতুন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফের তৎপরতার কারণে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর বান্দরবানের রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় প্রথম পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে রুমা ও থানচি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও রোয়াংছড়িতে বহাল ছিল। এরপর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে দুই দফা সহিংসতার কারণে রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছিল প্রশাসন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি শহরে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এতে আরো চারজন আদিবাসী নিহত হন। তিন পার্বত্য জেলায় আদিবাসীদের বাড়ি-ঘর ও দোকানপাটে হামলা ও আগুন দেয়া হয়। এরপর খাগড়াছড়িতে এক স্কুলশিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সহিংসতা ঠেকাতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তিন জেলায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্বাভাবিক হয়নি।
লেখক এবং মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান বলেন, ‘আসলে আমাদের এখানে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই আস্থার সংকট দূর না করলে পুলিশ বা সেনাবাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে তেমন কোনো কাজ হবে না।’
তার কথা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রশাসনই তো প্রমাণ করলো যে, তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি কেমন। এখনে যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ তা তো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায়ই প্রমাণ হয়। তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তাহলে আমাদের নিরাপত্তার কী অবস্থা। কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান শুরু হয় গভীর রাতে। এরপর মাসব্যাপী চলে। তাদের নিরাপত্তা কে দেবে?
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান, ‘তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। কিন্তু আমরা বলতে পারি না যে, কোনো ঘটনা ঘটবে না। তাই দেশি-বিদেশি সব ধরনের পর্যটককে এই তিন জেলা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এর মানে হলো, আসলে এই সময়ে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন না। আপনারা পরিস্থিতি তো জানেন। ফলে এর বাইরে আর কিছু এখন করনীয় নেই।’
কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান না করা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ভিক্ষুদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনবাহিনী সবাই ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও ছিলেন। আমরা তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছি। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করি তারা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান করবেন।’
আর বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কাওসার বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। তারাই বলতে পারবেন এর কারণ। তবে আমার জেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন পার্বত্য জেলায় ৮ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২৪ দিন পর্যটকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘তিন পার্বত্য জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করেই দেশি ও বিদেশি সব ধরনের পর্যটকের ওপর এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসন থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এসএমএস বার্তায় উল্লেখ করা হয়, অনিবার্য কারণবশত পর্যটকদের ৮ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। এর আগে ৩ অক্টোবর রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের সাজেকে পর্যটকদের না যেতে পরামর্শ দিয়েছিল জেলা প্রশাসন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. সহিদুজ্জামান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বার্তায় বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কথা বলেছেন। একই নির্দেশনা জারি করা হয় বান্দরবান জেলা প্রশাসন থেকেও।
রবিবার একই দিনে রাঙামাটিতে সংবাদ সম্মেলন করে পাহাড়ে চলমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে এ বছর রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান জেলায় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবরদান উদযাপন না করার ঘোষণা দিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্মিলিত ভিক্ষু সংঘ। সংবাদ সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার ১৫টি বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রাঙামাটি বৌদ্ধ বিহারে এর মূল অনুষ্ঠান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘সম্প্রতি খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষের যে ঘটনা ঘটেছে, সেখানে প্রশাসনের আচরণ ছিল রহস্যজনক।পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়িদের ওপর এভাবে বিনা বাধায় সাম্প্রদায়িক হামলা, লুটপাট, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পবিত্র বিহারে আক্রমণ ও বৌদ্ধমূর্তি ভেঙে ফেলার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এ ধরনের ঘটনা বারবার সংঘটিত হলেও প্রশাসনের আচরণ রহস্যজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট।’
তারা বলেন, ‘এরকম চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীন পরিবেশে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ সমাজ ও ভিক্ষু সংঘ আসন্ন পবিত্র ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে কোনো উৎসাহ বোধ না করায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ভিক্ষু সংঘের মধ্যে আলোচনাক্রমে চলতি বছরের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের সভাপতি শ্রদ্ধালংকার মহাথেরো ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমাদের মনে যে বেদনা ও ক্ষোভের জন্ম হয়েছে, তা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ওই অনুষ্ঠান করতে পারি না। সব জায়গা থেকে অনুষ্ঠানে ভক্তরা আসবেন। তারা যদি নিরাপত্তা না পান, তাদের ওপর যদি কোনোভাবে হামলা হয়, তাহলে তার দায় কে নেবে? আমরা তো এই পরিস্থিতির মধ্যে উৎসব করতে পারি না। পুলিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আমাদের নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু আমরা তো এখনো আশ্বস্ত হতে পারছি না। আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।’
তার কথা, পাহাড়ে বাড়ি-ঘর, মন্দিরে হামলা হলো. পুড়িয়ে দেয়া হলো। পবিত্র বিহারে আক্রমণ ও বৌদ্ধমূর্তি ভেঙে ফেলা হলো। ছয় জন মানুষকে হত্যা করা হলো। গুলি করে মারা হলো। তার বিরুদ্ধে তো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হলো না। আমরা এর বিচার চাই। এই পরিস্থিতিতে আমরা কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
চীবর মানে হলো ভিক্ষুদের পরিধেয় কাপড়। আশ্বিনী পূর্ণিমাকে প্রবারণা পূর্ণিমা বলা হয়। প্রবারণা পূর্ণিমার পর থেকে এক মাসের জন্য কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। এক মাস ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় ২০০ বিহারে ধারাবাহিকভাবে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে চীবর তৈরি করা হয়। এই অনুষ্ঠান ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামে এক মাস ধরে উৎসব পালিত হয়। আশ্বিনী পূর্ণিমা থেকে কার্তিকী পূর্ণিমা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলে। এ বছর ১৮ অক্টোবর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।
তিন পার্বত্য জেলার বর্তমান পরিস্থিতি
নতুন সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট বা কেএনএফের তৎপরতার কারণে ২০২২ সালের ২০ অক্টোবর বান্দরবানের রুমা, থানচি ও রোয়াংছড়ির দুর্গম এলাকায় প্রথম পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে রুমা ও থানচি থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেও রোয়াংছড়িতে বহাল ছিল। এরপর খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটিতে দুই দফা সহিংসতার কারণে রাঙামাটির সাজেক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করেছিল প্রশাসন।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি শহরে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। এতে আরো চারজন আদিবাসী নিহত হন। তিন পার্বত্য জেলায় আদিবাসীদের বাড়ি-ঘর ও দোকানপাটে হামলা ও আগুন দেয়া হয়। এরপর খাগড়াছড়িতে এক স্কুলশিক্ষককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সহিংসতা ঠেকাতে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। তিন জেলায় পরিস্থিতি শান্ত হলেও স্বাভাবিক হয়নি।
লেখক এবং মানবাধিকার কর্মী ইলিরা দেওয়ান বলেন, ‘আসলে আমাদের এখানে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এই আস্থার সংকট দূর না করলে পুলিশ বা সেনাবাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা দিয়ে তেমন কোনো কাজ হবে না।’
তার কথা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্রশাসনই তো প্রমাণ করলো যে, তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি কেমন। এখনে যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ তা তো ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায়ই প্রমাণ হয়। তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তাহলে আমাদের নিরাপত্তার কী অবস্থা। কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান শুরু হয় গভীর রাতে। এরপর মাসব্যাপী চলে। তাদের নিরাপত্তা কে দেবে?
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন খান, ‘তিন পার্বত্য জেলার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। কিন্তু আমরা বলতে পারি না যে, কোনো ঘটনা ঘটবে না। তাই দেশি-বিদেশি সব ধরনের পর্যটককে এই তিন জেলা ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এর মানে হলো, আসলে এই সময়ে পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারবেন না। আপনারা পরিস্থিতি তো জানেন। ফলে এর বাইরে আর কিছু এখন করনীয় নেই।’
কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান না করা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমরা ভিক্ষুদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনবাহিনী সবাই ছিল। গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও ছিলেন। আমরা তাদের নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়েছি। নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়েছি। আশা করি তারা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠান করবেন।’
আর বান্দরবানের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কাওসার বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা। তারাই বলতে পারবেন এর কারণ। তবে আমার জেলাসহ তিন পার্বত্য জেলায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সরকার ৫ লাখ কর্মসংস্থান, ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি, ৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, জ্ঞানভিত্তিক সৃজনশীল অর্থনীতির পথে এগিয়ে যেতে চায়। দুর্নীতি ও অপচয় পরিহার, শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও এনবিআরের সম্পদ সংগ্রহে গতি সঞ্চারের মাধ্য
৭ দিন আগে
কিছুসংখ্যক মানুষ গত কয়েকদিন ধরে এই কথা বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছেন যে, মায়েরা তাদের শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না, তাই হামের সংক্রমণ বাড়ছে! শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। আর ‘কান নিয়েছে চিলে’— সেই কানের খোঁজ না করেই কিছু মূলধারার সংবাদমাধ্যম লিখেছে, মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন না বলেই হামের
৮ দিন আগে
তৃণমূল নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট ব্যাংক ছিল মূলত সংখ্যালঘু ও নারী ভোট। ফলাফলে দেখা গেছে, যে তৃণমূলের ৮০ জন জয়ী প্রার্থীর মধ্যে ৩২ জন মুসলিম, যা ঠিক ঠিক ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া অন্যান্য দলের আরও ছয়টি আসনে মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তাহলে কংগ্রেস, সিপিএম ও বিশেষত নওসাদ সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট
৯ দিন আগে
চলমান এই স্নায়ুযুদ্ধ যদি সত্যি সত্যি আগামী সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তার মাশুল শুধু মধ্যপ্রাচ্যকে নয়, বরং পুরো বিশ্বকে দিতে হবে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আর পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত কূটনৈতিক টেবিলে সমাধান হবে, নাকি বিশ্বকে এক নতুন অর্থনৈতিক মন্দা ও তৃতীয়
১১ দিন আগে