
জাকির আহমদ খান কামাল

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন আজ এক ‘হ-য-ব-র-ল’ পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। দশম গ্রেডে বেতনসহ অন্যান্য দাবি পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষকদের এই আন্দোলন নিঃসন্দেহে সমর্থনযোগ্য, কারণ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে তাদের পেশাগত মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে আন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অনৈক্য, কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতা এবং বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরীক্ষা বর্জন এই পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন, যেমন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’, ‘সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ ইত্যাদির ব্যানারে আন্দোলন চলছে। কিন্তু তাদের কর্মসূচি ঘোষণার তারিখ, ধরন এবং মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় আন্দোলনের তেজ ও আবেদন একমুখী হতে পারছে না। এক পক্ষ যখন কর্মবিরতির ডাক দিচ্ছে, অন্য পক্ষ তখন ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে। এই বিভাজন কেবল শিক্ষকদের দাবিকেই দুর্বল করছে না, বরং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার পথটিকেও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় সাধারণ জনগণ ও অভিভাবকদের মধ্যে আন্দোলন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হচ্ছে না, যার ফলে জনসমর্থনেও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
আন্দোলনের সবচেয়ে নেতিবাচক দিকটি হলো চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি, পিয়ন এমনকি অভিভাবকদের দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশ ও পরীক্ষার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, পরীক্ষা দেরিতে শুরু হয়েছে, এমনকি অনেক অভিভাবক ক্ষোভে শিক্ষককে লাঞ্ছিতও করেছেন। শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করছেন—এমন অভিযোগ সমাজের সব মহল থেকে উঠছে। একটি আদর্শিক আন্দোলন কখনোই কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না।
আন্দোলনের সফলতার জন্য যা জরুরি
শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন হওয়া উচিত, তবে আন্দোলনের পথ হওয়া চাই সুচিন্তিত ও সুসংগঠিত।
সব শিক্ষক সংগঠনকে দ্রুত একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। একটি একক মঞ্চ থেকে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মসূচি দিলে তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বেশি কার্যকর হবে।
দাবি আদায়ের জন্য পরীক্ষা বর্জনের মতো বিতর্কিত কর্মসূচি পরিহার করা উচিত। এর পরিবর্তে কালো ব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন বা প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো যেতে পারে, যা একই সঙ্গে দাবি তুলে ধরবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
এই ‘হ-য-ব-র-ল’ দশা কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন তখনই সফল হবে, যখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যৌক্তিক পথে হাঁটবেন। নয়তো এই অনৈক্য কেবল শিক্ষকদের দাবিকেই ভেস্তে দেবে না, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকেও এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কলাম লেখক

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন আজ এক ‘হ-য-ব-র-ল’ পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছে। দশম গ্রেডে বেতনসহ অন্যান্য দাবি পূরণের লক্ষ্যে শিক্ষকদের এই আন্দোলন নিঃসন্দেহে সমর্থনযোগ্য, কারণ প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে তাদের পেশাগত মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি অপরিহার্য। তবে আন্দোলনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে অনৈক্য, কর্মসূচিতে সমন্বয়হীনতা এবং বার্ষিক পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পরীক্ষা বর্জন এই পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন, যেমন ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’, ‘সহকারী শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’ ইত্যাদির ব্যানারে আন্দোলন চলছে। কিন্তু তাদের কর্মসূচি ঘোষণার তারিখ, ধরন এবং মেয়াদ ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় আন্দোলনের তেজ ও আবেদন একমুখী হতে পারছে না। এক পক্ষ যখন কর্মবিরতির ডাক দিচ্ছে, অন্য পক্ষ তখন ভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে। এই বিভাজন কেবল শিক্ষকদের দাবিকেই দুর্বল করছে না, বরং সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার পথটিকেও জটিল করে তুলছে। এমন অবস্থায় সাধারণ জনগণ ও অভিভাবকদের মধ্যে আন্দোলন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হচ্ছে না, যার ফলে জনসমর্থনেও ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
আন্দোলনের সবচেয়ে নেতিবাচক দিকটি হলো চলমান বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদের অনুপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক, দপ্তরি, পিয়ন এমনকি অভিভাবকদের দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে, যা শিক্ষার পরিবেশ ও পরীক্ষার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে অনেক কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, পরীক্ষা দেরিতে শুরু হয়েছে, এমনকি অনেক অভিভাবক ক্ষোভে শিক্ষককে লাঞ্ছিতও করেছেন। শিক্ষকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে জিম্মি করছেন—এমন অভিযোগ সমাজের সব মহল থেকে উঠছে। একটি আদর্শিক আন্দোলন কখনোই কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাজীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না।
আন্দোলনের সফলতার জন্য যা জরুরি
শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়ন হওয়া উচিত, তবে আন্দোলনের পথ হওয়া চাই সুচিন্তিত ও সুসংগঠিত।
সব শিক্ষক সংগঠনকে দ্রুত একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। একটি একক মঞ্চ থেকে সুনির্দিষ্ট ও সমন্বিত কর্মসূচি দিলে তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টিতে বেশি কার্যকর হবে।
দাবি আদায়ের জন্য পরীক্ষা বর্জনের মতো বিতর্কিত কর্মসূচি পরিহার করা উচিত। এর পরিবর্তে কালো ব্যাজ ধারণ, মানববন্ধন বা প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো যেতে পারে, যা একই সঙ্গে দাবি তুলে ধরবে এবং শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
এই ‘হ-য-ব-র-ল’ দশা কাটিয়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন তখনই সফল হবে, যখন তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে যৌক্তিক পথে হাঁটবেন। নয়তো এই অনৈক্য কেবল শিক্ষকদের দাবিকেই ভেস্তে দেবে না, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকেও এক গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।
লেখক: অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কলাম লেখক

প্রশ্ন জাগে— তাদের দাবি কী? সব দাবিই কি কেবল এই ব্যবসায়ীদের? ভোক্তা বা দেশের নাগরিকদের কি কোনো দাবি থাকতে পারে না? জনগণকে জিম্মি করে এভাবে দাবি আদায়ের নামে যারা আন্দোলন করে, তারা কি আসলেই ব্যবসায়ী, নাকি লুটেরা?
৭ দিন আগে
‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ দীর্ঘ আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রণীত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যাতে দেশে বিদ্যমান সক্রিয় প্রায় সব দল সই করেছে। যেহেতু সংবিধান হলো ‘উইল অব দ্য পিপল’ বা জনগণের চরম অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তি, তাই জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে জনগণের সম্মতি বা গণভোট আয়ো
৮ দিন আগে
ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে যুক্ত থেকেও নিজেদের রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বাধীনতা রক্ষায় সচেতন অবস্থান নিয়েছে (European Council on Foreign Relations, ২০২৩)। এ অভিজ্ঞতা দেখায়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা কতটা জরুরি।
৮ দিন আগে