
এ কে এম মাহফুজুর রহমান

দেশের রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থা আজ একটি কঠিন নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের সনদ ও তথ্য যাচাই করতে গিয়ে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ছে। বিভিন্ন দৈনিকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৭টি মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, দুদক ও সরকারি কর্ম কমিশন থেকে তথ্য নিয়ে ৯০ হাজার ৫২৭ জন কোটাভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির তথ্য প্রাথমিকভাবে যাচাই করেছে; এর মধ্যে অন্তত ৮ হাজার ক্ষেত্রে সনদ বা তথ্য সন্দেহজনক বলে উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৩৫ বলে জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মেধাবীদের বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন করে কোটার দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রকে যেভাবে মেধাহীন করা হয়েছে, তা আজ ছোট কোনো বিষয় নয়; বরং বৃহৎ পরিসরের। এমনকি ভবিষ্যৎ যাত্রাও যে দুর্বল হয়েছে— এটিও এখন অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এই সংকটকে বুঝতে হলে কোটাব্যবস্থার ইতিহাসটিও জানা জরুরি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের চাকরিতে কোটাব্যবস্থা চালু হয়; পরে ১৯৯৭ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের এবং ২০১০ সালে নাতি-নাতনিদেরও এর আওতায় আনা হয়। ২০১২ সালের পর মোট কোটা ৫৬ শতাংশে পৌঁছায়, ফলে সরাসরি মেধাভিত্তিক নিয়োগের অংশ নেমে আসে ৪৪ শতাংশে। ২০১৮ সালে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে কোটা বাতিল করা হয়; কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে।
পরে আপিল বিভাগের রায়ে ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটার কাঠামো নির্ধারিত হয়, যেখানে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ রাখা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের কথা উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ, রাষ্ট্র নিজেও বুঝেছে যে বংশানুক্রমিক সুবিধার প্রশ্নে পুনর্বিবেচনা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। কারণ স্বাধীনতার পরপরই মুক্তিযোদ্ধা ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প সময়ের জন্য— ধরা যাক ৫–১০ বছর— সীমিত কোটা থাকতে পারে; কিন্তু তার পরে এই সুবিধা কেন থাকবে, সেই প্রশ্নটি এখন প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ খুব স্পষ্ট ভাষায় বলে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশন নিজেকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করে, যার কাজ হলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। কাজেই যখন ভুয়া সনদ, জাল পরিচয় অথবা প্রভাব খাটিয়ে কোটাভিত্তিক সুবিধা নিয়োগের ফলাফল বদলে দেয়, তখন কেবল একটি পরীক্ষার ফল নষ্ট হয় না; সংবিধানের প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়ে, কর্ম কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষয়ে যায়, আর রাষ্ট্রের ন্যায্যতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
এ সমস্যার মানবিক দিকটিও গভীর। ৪৬তম বিসিএসের ৩,১৪০টি পদের জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার আবেদন পড়ে; প্রিলিমিনারিতে অংশ নেয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ জন; আর উত্তীর্ণ হয় ১০ হাজার ৬৩৮ জন। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, সরকারি চাকরির প্রতিটি পদ বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে কতটা মূল্যবান। এমন কঠিন প্রতিযোগিতায় যদি একজনও জাল সনদ বা অনিয়মের মাধ্যমে সুযোগ পায়, তবে সে শুধু আইন ভঙ্গ করে না; সে একজন প্রকৃত মেধাবীর স্থান দখল করে। তাই ভুয়া সনদে চাকরি মানে কেবল প্রশাসনিক দুর্নীতি নয়; এটি শিক্ষিত তরুণদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা ও অন্যায়।
অনেকে এই সমস্যাকে নতুন বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবতে পারেন। কিন্তু তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। ২০১৪ সালেই পাঁচজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে সনদ বাতিল হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আবার দুদক ছয়টি মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে; যার মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি সাবেক পিএসসি সদস্যরাও আছেন। অভিযোগে বলা হয়, ২৯তম বিসিএসে কিছু প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনই না করেও জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর মানে, সমস্যা কেবল ‘কিছু ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি’র নয়; বরং নিয়োগপ্রক্রিয়া, যাচাইব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি— সবখানেই ফাঁক ছিল।
জনপরিসরে ‘এক লাখ ভুয়া নিয়োগ’ বা ‘এক লাখ চাকরি অবৈধ’— এ ধরনের সংখ্যা ঘোরাফেরা করলেও সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। সরকারিভাবে যে সংখ্যা সামনে এসেছে, তা হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৩৫ থেকে ৯০ হাজার ৫২৭-এর মধ্যে; আর প্রশ্নবিদ্ধ বা সন্দেহজনক সনদের সংখ্যা নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে ৩ হাজার ৯২৬টি মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে, এবং জামুকার তথ্য অনুযায়ী প্রশ্নবিদ্ধ ‘মুক্তিযোদ্ধা’ এন্ট্রির মোট সংখ্যা এক লাখ ছাড়াতে পারে। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামুকার ১২টি সভায় ৩৯৬ জনের সনদ বাতিলের তথ্যও এসেছে। অর্থাৎ, সব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত না হলেও রাষ্ট্রীয় উদ্বেগ যে অত্যন্ত বাস্তব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, ভুয়া সনদবিরোধী অবস্থান কোনোভাবেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাবিরোধী অবস্থান নয়। বরং উল্টোটা সত্য— প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মান রক্ষা করতে হলে ভুয়া দাবিদারদের চিহ্নিত করতেই হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অনুসন্ধান’ পোর্টাল আছে, যেখানে সরকার-অনুমোদিত গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার আর্কাইভেও কোটাভিত্তিক নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধার সনদ যাচাই-সংক্রান্ত নির্দেশনার উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের হাতে যাচাইয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো ছিল; ঘাটতি ছিল সমন্বয়, বাধ্যতামূলক ডিজিটাল সংযোগ এবং কঠোর প্রয়োগে। সমস্যা প্রযুক্তির অভাবের চেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক কঠোরতার অভাবে।
এখন সরকারের উচিত— প্রথমত, একটি স্বাধীন, সময়বদ্ধ এবং বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নিয়োগ-শুদ্ধি কমিশন গঠন করা। সেখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পিএসসি, দুদক, আইন মন্ত্রণালয় এবং ডিজিটাল তথ্যবিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ সাম্প্রতিক একটি দৈনিকের প্রতিবেদনই বলছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ভুয়া সনদে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারবে, কিন্তু চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। ফলে তালিকা তৈরি করে বসে থাকলে হবে না; মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ব্যবস্থা, একই মানদণ্ড এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা— সব একসঙ্গে লাগবে। যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমআইএস নম্বর, গেজেট, ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, পারিবারিক সম্পর্ক, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, ভর্তি ও চাকরির আবেদনপত্র— সব এক প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ব্যবস্থা হতে হবে কঠোর, কিন্তু আইনসঙ্গত। যেখানে প্রতারণা প্রমাণিত হবে, সেখানে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত, পরে চাকরি বাতিল, অবৈধ সুবিধা পুনরুদ্ধার, পেনশন-সুবিধা স্থগিত এবং ফৌজদারি মামলা— সবকিছুই বিবেচনায় আনতে হবে। যেখানে নথিগত অসংগতি আছে কিন্তু প্রতারণার অভিপ্রায় এখনো প্রমাণিত হয়নি, সেখানে শোকজ, শুনানি ও আপিলের সুযোগ থাকতে হবে। এটিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাতিল হওয়া কিছু সনদ পরে আদালতের আদেশে ফিরে পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। আবার বর্তমানে চালু কোটা-সংক্রান্ত সার্কুলারেই বলা আছে যে কোটার উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদ মেধাতালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। কাজেই ভুয়া সনদের কারণে শূন্য হওয়া পদ দ্রুত মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা, অথবা বিশেষ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া— এই দুটির একটি পথ সরকারকে বেছে নিতে হবে।
তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে সুবিধাভিত্তিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক ন্যায়সংগত সহায়তার দিকে যেতে হবে। ২০২৪ সালে রয়টার্স, টাইম ও অ্যামনেস্টির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও দেখিয়েছে যে চাকরির কোটার প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক ইস্যু ছিল না; এটি তরুণদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি, সামাজিক উত্তেজনা এবং বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার এক কেন্দ্রীয় উৎসে পরিণত হয়েছিল। তাই টেকসই সমাধান হলো এমন এক নিয়োগব্যবস্থা, যেখানে মূল নীতি হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, অজ্ঞাতনামা মূল্যায়ন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, স্বয়ংক্রিয় নথি যাচাই, পাবলিক ড্যাশবোর্ড, নিয়মিত তৃতীয় পক্ষের অডিট এবং কোটার প্রশ্নে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা। প্রান্তিক বা ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত গোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্র সহায়তা দিতেই পারে; কিন্তু সেটি হওয়া উচিত স্কলারশিপ, কোচিং-সাপোর্ট, পরীক্ষা ফি মওকুফ বা সক্ষমতা উন্নয়ন— অন্ধ বংশানুক্রমিক চাকরির নিশ্চয়তা নয়।
বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে আপসের রাজনীতি আর গোপন তদবিরের জায়গা নেই। রাষ্ট্র যদি সত্যিই মেধাবী, সৎ ও দক্ষ প্রশাসন গড়তে চায়, তবে তাকে এখনই তিনটি কাজ করতে হবে: সব প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ দ্রুত ও প্রকাশ্যভাবে যাচাই, প্রতারণা প্রমাণিত হলে নিরপেক্ষ শাস্তি এবং ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যেখানে সংবিধানের সুযোগের সমতা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে। ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিকে রক্ষা করা মানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা, প্রকৃত পরীক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা এবং রাষ্ট্রকে দুর্বল করা। আর মেধার পক্ষে দাঁড়ানো মানে শুধু পরীক্ষার্থীর পক্ষে দাঁড়ানো নয়; এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নৈতিক মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানো। এখন সাহসী সিদ্ধান্তের সময়— রাষ্ট্রকে মেধার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
লেখক: উপ-পরিচালক (ফ্যাকাল্টি এইচআর), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি; সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডুজা)

দেশের রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থা আজ একটি কঠিন নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের সনদ ও তথ্য যাচাই করতে গিয়ে বড় ধরনের অসংগতি ধরা পড়ছে। বিভিন্ন দৈনিকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৭টি মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, দুদক ও সরকারি কর্ম কমিশন থেকে তথ্য নিয়ে ৯০ হাজার ৫২৭ জন কোটাভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির তথ্য প্রাথমিকভাবে যাচাই করেছে; এর মধ্যে অন্তত ৮ হাজার ক্ষেত্রে সনদ বা তথ্য সন্দেহজনক বলে উঠে এসেছে।
এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৩৫ বলে জানিয়েছিলেন। অর্থাৎ, মেধাবীদের বঞ্চিত ও বিচ্ছিন্ন করে কোটার দোহাই দিয়ে রাষ্ট্রকে যেভাবে মেধাহীন করা হয়েছে, তা আজ ছোট কোনো বিষয় নয়; বরং বৃহৎ পরিসরের। এমনকি ভবিষ্যৎ যাত্রাও যে দুর্বল হয়েছে— এটিও এখন অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
এই সংকটকে বুঝতে হলে কোটাব্যবস্থার ইতিহাসটিও জানা জরুরি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের চাকরিতে কোটাব্যবস্থা চালু হয়; পরে ১৯৯৭ সালে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের এবং ২০১০ সালে নাতি-নাতনিদেরও এর আওতায় আনা হয়। ২০১২ সালের পর মোট কোটা ৫৬ শতাংশে পৌঁছায়, ফলে সরাসরি মেধাভিত্তিক নিয়োগের অংশ নেমে আসে ৪৪ শতাংশে। ২০১৮ সালে নবম থেকে ত্রয়োদশ গ্রেডের সরকারি চাকরিতে একটি সার্কুলারের মাধ্যমে কোটা বাতিল করা হয়; কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্ট সেই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে।
পরে আপিল বিভাগের রায়ে ৯৩ শতাংশ মেধা এবং ৭ শতাংশ কোটার কাঠামো নির্ধারিত হয়, যেখানে মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ রাখা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত রায়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের কথা উল্লেখ ছিল না। অর্থাৎ, রাষ্ট্র নিজেও বুঝেছে যে বংশানুক্রমিক সুবিধার প্রশ্নে পুনর্বিবেচনা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। কারণ স্বাধীনতার পরপরই মুক্তিযোদ্ধা ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্প সময়ের জন্য— ধরা যাক ৫–১০ বছর— সীমিত কোটা থাকতে পারে; কিন্তু তার পরে এই সুবিধা কেন থাকবে, সেই প্রশ্নটি এখন প্রাসঙ্গিক।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদ খুব স্পষ্ট ভাষায় বলে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদলাভের ক্ষেত্রে সকল নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতা থাকবে। একই সঙ্গে সরকারি কর্ম কমিশন নিজেকে একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বর্ণনা করে, যার কাজ হলো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত ও যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা। কাজেই যখন ভুয়া সনদ, জাল পরিচয় অথবা প্রভাব খাটিয়ে কোটাভিত্তিক সুবিধা নিয়োগের ফলাফল বদলে দেয়, তখন কেবল একটি পরীক্ষার ফল নষ্ট হয় না; সংবিধানের প্রতিশ্রুতি ভেঙে পড়ে, কর্ম কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষয়ে যায়, আর রাষ্ট্রের ন্যায্যতার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
এ সমস্যার মানবিক দিকটিও গভীর। ৪৬তম বিসিএসের ৩,১৪০টি পদের জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার আবেদন পড়ে; প্রিলিমিনারিতে অংশ নেয় ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬১ জন; আর উত্তীর্ণ হয় ১০ হাজার ৬৩৮ জন। এই সংখ্যাগুলো দেখায়, সরকারি চাকরির প্রতিটি পদ বাংলাদেশের তরুণ সমাজের কাছে কতটা মূল্যবান। এমন কঠিন প্রতিযোগিতায় যদি একজনও জাল সনদ বা অনিয়মের মাধ্যমে সুযোগ পায়, তবে সে শুধু আইন ভঙ্গ করে না; সে একজন প্রকৃত মেধাবীর স্থান দখল করে। তাই ভুয়া সনদে চাকরি মানে কেবল প্রশাসনিক দুর্নীতি নয়; এটি শিক্ষিত তরুণদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতারণা ও অন্যায়।
অনেকে এই সমস্যাকে নতুন বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভাবতে পারেন। কিন্তু তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। ২০১৪ সালেই পাঁচজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে সনদ বাতিল হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আবার দুদক ছয়টি মামলায় ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে; যার মধ্যে সাবেক ও বর্তমান সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি সাবেক পিএসসি সদস্যরাও আছেন। অভিযোগে বলা হয়, ২৯তম বিসিএসে কিছু প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদনই না করেও জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাডার পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর মানে, সমস্যা কেবল ‘কিছু ভুয়া সনদধারী ব্যক্তি’র নয়; বরং নিয়োগপ্রক্রিয়া, যাচাইব্যবস্থা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি— সবখানেই ফাঁক ছিল।
জনপরিসরে ‘এক লাখ ভুয়া নিয়োগ’ বা ‘এক লাখ চাকরি অবৈধ’— এ ধরনের সংখ্যা ঘোরাফেরা করলেও সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত নয়। সরকারিভাবে যে সংখ্যা সামনে এসেছে, তা হলো মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যা ৮৯ হাজার ২৩৫ থেকে ৯০ হাজার ৫২৭-এর মধ্যে; আর প্রশ্নবিদ্ধ বা সন্দেহজনক সনদের সংখ্যা নিয়ে তদন্ত চলছে। একই সময়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে ৩ হাজার ৯২৬টি মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল হয়েছে, এবং জামুকার তথ্য অনুযায়ী প্রশ্নবিদ্ধ ‘মুক্তিযোদ্ধা’ এন্ট্রির মোট সংখ্যা এক লাখ ছাড়াতে পারে। আবার অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামুকার ১২টি সভায় ৩৯৬ জনের সনদ বাতিলের তথ্যও এসেছে। অর্থাৎ, সব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত না হলেও রাষ্ট্রীয় উদ্বেগ যে অত্যন্ত বাস্তব, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, ভুয়া সনদবিরোধী অবস্থান কোনোভাবেই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাবিরোধী অবস্থান নয়। বরং উল্টোটা সত্য— প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার সম্মান রক্ষা করতে হলে ভুয়া দাবিদারদের চিহ্নিত করতেই হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা অনুসন্ধান’ পোর্টাল আছে, যেখানে সরকার-অনুমোদিত গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার আর্কাইভেও কোটাভিত্তিক নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধার সনদ যাচাই-সংক্রান্ত নির্দেশনার উল্লেখ আছে। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের হাতে যাচাইয়ের প্রাথমিক অবকাঠামো ছিল; ঘাটতি ছিল সমন্বয়, বাধ্যতামূলক ডিজিটাল সংযোগ এবং কঠোর প্রয়োগে। সমস্যা প্রযুক্তির অভাবের চেয়ে বেশি ছিল রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক কঠোরতার অভাবে।
এখন সরকারের উচিত— প্রথমত, একটি স্বাধীন, সময়বদ্ধ এবং বিচার বিভাগীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালিত নিয়োগ-শুদ্ধি কমিশন গঠন করা। সেখানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, পিএসসি, দুদক, আইন মন্ত্রণালয় এবং ডিজিটাল তথ্যবিশেষজ্ঞদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ সাম্প্রতিক একটি দৈনিকের প্রতিবেদনই বলছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ভুয়া সনদে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারবে, কিন্তু চাকরিচ্যুত করার ক্ষমতা তাদের হাতে নেই। ফলে তালিকা তৈরি করে বসে থাকলে হবে না; মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ব্যবস্থা, একই মানদণ্ড এবং নির্দিষ্ট সময়সীমা— সব একসঙ্গে লাগবে। যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এমআইএস নম্বর, গেজেট, ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, পারিবারিক সম্পর্ক, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি, ভর্তি ও চাকরির আবেদনপত্র— সব এক প্ল্যাটফর্মে মিলিয়ে দেখা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ব্যবস্থা হতে হবে কঠোর, কিন্তু আইনসঙ্গত। যেখানে প্রতারণা প্রমাণিত হবে, সেখানে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত, পরে চাকরি বাতিল, অবৈধ সুবিধা পুনরুদ্ধার, পেনশন-সুবিধা স্থগিত এবং ফৌজদারি মামলা— সবকিছুই বিবেচনায় আনতে হবে। যেখানে নথিগত অসংগতি আছে কিন্তু প্রতারণার অভিপ্রায় এখনো প্রমাণিত হয়নি, সেখানে শোকজ, শুনানি ও আপিলের সুযোগ থাকতে হবে। এটিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বাতিল হওয়া কিছু সনদ পরে আদালতের আদেশে ফিরে পাওয়ার ঘটনাও রয়েছে। আবার বর্তমানে চালু কোটা-সংক্রান্ত সার্কুলারেই বলা আছে যে কোটার উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদ মেধাতালিকা থেকে পূরণ করতে হবে। কাজেই ভুয়া সনদের কারণে শূন্য হওয়া পদ দ্রুত মেধাতালিকা থেকে পূরণ করা, অথবা বিশেষ নিয়োগপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নেওয়া— এই দুটির একটি পথ সরকারকে বেছে নিতে হবে।
তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশকে সুবিধাভিত্তিক রাজনীতি থেকে বেরিয়ে প্রয়োজনভিত্তিক ন্যায়সংগত সহায়তার দিকে যেতে হবে। ২০২৪ সালে রয়টার্স, টাইম ও অ্যামনেস্টির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও দেখিয়েছে যে চাকরির কোটার প্রশ্নটি কেবল প্রশাসনিক ইস্যু ছিল না; এটি তরুণদের মধ্যে বঞ্চনার অনুভূতি, সামাজিক উত্তেজনা এবং বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার এক কেন্দ্রীয় উৎসে পরিণত হয়েছিল। তাই টেকসই সমাধান হলো এমন এক নিয়োগব্যবস্থা, যেখানে মূল নীতি হবে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা, অজ্ঞাতনামা মূল্যায়ন, ডিজিটাল ট্র্যাকিং, স্বয়ংক্রিয় নথি যাচাই, পাবলিক ড্যাশবোর্ড, নিয়মিত তৃতীয় পক্ষের অডিট এবং কোটার প্রশ্নে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনা। প্রান্তিক বা ঐতিহাসিকভাবে বঞ্চিত গোষ্ঠীর জন্য রাষ্ট্র সহায়তা দিতেই পারে; কিন্তু সেটি হওয়া উচিত স্কলারশিপ, কোচিং-সাপোর্ট, পরীক্ষা ফি মওকুফ বা সক্ষমতা উন্নয়ন— অন্ধ বংশানুক্রমিক চাকরির নিশ্চয়তা নয়।
বাংলাদেশ আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে, যেখানে আপসের রাজনীতি আর গোপন তদবিরের জায়গা নেই। রাষ্ট্র যদি সত্যিই মেধাবী, সৎ ও দক্ষ প্রশাসন গড়তে চায়, তবে তাকে এখনই তিনটি কাজ করতে হবে: সব প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ দ্রুত ও প্রকাশ্যভাবে যাচাই, প্রতারণা প্রমাণিত হলে নিরপেক্ষ শাস্তি এবং ভবিষ্যতের জন্য এমন একটি নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, যেখানে সংবিধানের সুযোগের সমতা বাস্তবে প্রতিফলিত হবে। ভুয়া সনদে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিকে রক্ষা করা মানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করা, প্রকৃত পরীক্ষার্থীকে বঞ্চিত করা এবং রাষ্ট্রকে দুর্বল করা। আর মেধার পক্ষে দাঁড়ানো মানে শুধু পরীক্ষার্থীর পক্ষে দাঁড়ানো নয়; এটি বাংলাদেশের প্রশাসনিক সক্ষমতা, অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নৈতিক মর্যাদার পক্ষে দাঁড়ানো। এখন সাহসী সিদ্ধান্তের সময়— রাষ্ট্রকে মেধার পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
লেখক: উপ-পরিচালক (ফ্যাকাল্টি এইচআর), নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি; সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (ডুজা)

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুরু হয় পাকিস্তান জন্মের পরপরই। প্রথমে এমন কথা উচ্চারণ বিপজ্জনক ছিল বলেই এ দেশের মানুষকে প্রথমে ভাষা আন্দোলন ও তারপর স্বায়ত্তশাসন আন্দোলন নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। একপর্যায়ে স্বায়ত্তশাসনের ধারণাটি স্বাধীনতার ধারণায় পর্যবসিত হয়।
৫ দিন আগে
গণপরিবহন, শ্রমবাজার, কৃষি— প্রতিটি ক্ষেত্রেই মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত উৎপাদক বা ভোক্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না, শ্রমিক তার পরিশ্রমের সঠিক মূল্য পান না, কিন্তু মধ্যবর্তী একটি শ্রেণি অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লাভবান হয়। এটি একটি অসম অর্থনৈতিক কাঠামোর প্রতিফলন।
৬ দিন আগে
প্রকাশক ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী মেহেদী হাসান অমিকন গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবং বাংলাপ্রকাশ ও লেকচার পাবলিকেশন্স পিএলসির প্রকাশক। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্প ও অমর একুশে বইমেলা নিয়ে রাজনীতি ডটকমের মুখোমুখি হয়েছেন জ্ঞান-অর্থনীতির স্বপ্নদ্রষ্টা মেহেদী হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শাহরিয়ার শরিফ।
৯ দিন আগে
ঈদুল ফিতর কেবল একটি উৎসব নয়; এটি একটি আধ্যাত্মিক উপলব্ধি, একটি নৈতিক শিক্ষা, একটি সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রতিফলন। কোরআন ও হাদিসের আলোকে যদি আমরা ঈদের দিনকে যথাযথভাবে পালন করতে পারি, তাহলে এটি আমাদের জীবনে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
১০ দিন আগে