চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য ভবনের ভেতরে রেখেই বাইরে থেকে ফটকে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
সোমবার দুপুরে এই এ ঘটনা ঘটে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। এ সময় তারা ‘আমাদের দাবি, আমাদের দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান-প্রত্যাখ্যান, নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসছেন, এমন খবর পেয়ে সকাল সাড়ে নয়টা থেকেই উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে কার্যালয় ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় বেঁধে দেন তারা। পরে ভবনের ফটকে তালা লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিরা তাজরীন বলেন, উপাচার্য তাদের দেওয়া তালা ভেঙে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেছিলেন। শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম উপেক্ষা করায় তাঁরা আবারও ফটকে তালা দিয়েছেন।
এদিকে, ভবনের ভেতরে উপাচার্যের সঙ্গে আটকা পড়েছেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদসহ সংগঠনটির কয়েকজন নেতা-কর্মী। তালাবদ্ধ অবস্থায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে ওয়াসিফ বলেন, শিক্ষার্থীরা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন। সকালে ফুল নিয়ে আসার সময় ছাত্রদলের এক নেতাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্য ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর পর শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন ফুল ও খাবার নিয়ে তার কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা তাঁকে ভবনে ঢুকতে বাধা দেন। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে ফুল ও খাবার নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়।
এর আগে আজ সকালে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছে তিনি ‘শিক্ষক’ পরিচয়ে ভেতরে ঢোকেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করেন। সকালে তাকে উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। তাঁর কক্ষে ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইনও ছিলেন। একসঙ্গে ভবনে প্রবেশের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেন আবু সুফিয়ান আল সাবিত।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকেই ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এসব কর্মসূচির কারণে এত দিন ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য।

-af5c8f-480x270.webp)
















