রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির পরিচয় মিলেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় দুজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৪ বাংলাদেশি। এই হতাহতদের পরিচয় জানা গেছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রিয়াদের এই বিমানবন্দরেই ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি।
ওই হামলায় নিহত ও আহত ২৬ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিরা রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের চিকিৎসার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে দূতাবাস।
কিং আব্দুল্লাহ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন তিন বাংলাদেশির সঙ্গে দূতাবাসের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করেছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল। তারা হলেন- হাফেজ হাসান (ঢাকা), কাজী নুরুল্লাহ (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) এবং মো. ওমর ফারুক (সৌদি প্রবাসী কর্মী)।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি হলেন সাফকাত রহমান (নওগাঁ) ও মো. দাউদুল ইসলাম (কুমিল্লা)। সাফকাত রহমান অচেতন অবস্থায় আছেন। রিয়াদ মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মো. সাইমুল ইসলাম সৌরভ ও আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন। দুজনেরই বাড়ি ঢাকা।
প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আব্দুল্লাহ (ঢাকা)। সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের তাখাসসুসি শাখায় চিকিৎসাধীন আরমান হোসেনসহ (ঢাকা) তিন বাংলাদেশি কর্মী।
কিংডম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. রফিক মিয়া। কিং খালেদ মেডিক্যাল সিটিতে চিকিৎসাধীন ইসমাইল হোসাইন, মো. মিসবাহ উদ্দিন হীরক ও মো. রায়হানুল ইসলাম।
প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পাঁচ বাংলাদেশি কর্মী হলেন- সালমা আক্তার, মো. শাহাদাত হোসেন, মোশাহিদ আহমেদ সৈকত, জাহিদ আহমেদ এবং সোহবে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার।
এ ছাড়া, এজতাহ সনদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. আসাদুল ইসলাম ও মো. জামাল; সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার এবং সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আলসাহাফা শাখায় উমায়ের ও আব্দুল্লাহ কামিল চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, আহত সবাই রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার জন্য ট্রানজিটে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছিলেন।
রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবারের এই হামলার পর রোববার (১১ অক্টোবর) আরেক দফা হামলা হয়েছে এখানে। সৌদির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে প্রাণ গেছে এক পাকিস্তানির; আহত হয়েছে আরও ১১ জন।
রিয়াদের এই বিমানবন্দরেই ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথি। ওই হামলায় বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত ও ৩ শতাধিক আহত হয়। এ নিয়ে গত ৫ দিনে ৪ বার হামলা হলো বিমানবন্দরে।
এ বিষয়ে হুথির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারিয়া জানান, সশস্ত্র বাহিনী তিন ধাপে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। যার ফলে বিমানবন্দরটিতে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়। এটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে, নতুন করে চালানো হামলার নিন্দা জানিয়েছে মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের সদস্য তুরস্ক। আর ইয়েমেনে যুদ্ধরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।
অন্যদিকে, আভা শহরকে সতর্কবার্তা জারি করেছে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। এর আগে ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত সানার বিমানবন্দরে বিমান হামলায় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার খবর আসে।
এমন অবস্থায় সৌদি আরবের বিমানবন্দর ব্যবহারে নিজ নিজ নাগরিকদের ‘অত্যন্ত সতর্কতা’ অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য।

















