প্রতিবাদের মুখে বিলবোর্ড থেকে যুদ্ধাপরাধে দণ্ডিতদের ছবি সরাল রাবি প্রশাসন

রাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৫: ৩২
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে দেওয়ার পর নতুন বিলবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে দেওয়ার পর নতুন বিলবোর্ড। ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে টাঙানো একটি বিলবোর্ড থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সরিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ সোমবার সকালে বিলবোর্ডটি অক্ষত রেখে সেখান থেকে আপত্তিকর হিসেবে চিহ্নিত ছবিগুলো মুছে ফেলা হয়।

এর আগে গত শুক্রবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে সালাউদ্দিন আম্মারের সংগঠন ‘নভো কালচারে’র উদ্যোগে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়েছিল। এতে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবি ব্যবহার করা হলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবি তোলে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির পর রাকসুর জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে বিলবোর্ডটি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। তবে তিনি এতে রাজি হননি। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে বিলবোর্ডে থাকা আপত্তিকর ছবিগুলো মুছে দেওয়া হয়েছে।”

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সম্বলিত এই বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়েছিল শুক্রবার। ছবি: সংগৃহীত
একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি সম্বলিত এই বিলবোর্ডটি টাঙানো হয়েছিল শুক্রবার। ছবি: সংগৃহীত

বিলবোর্ডটিতে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ছবি ছিল। এ ছাড়া বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবিও সেখানে রাখা হয়েছিল। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবিও বিলবোর্ডে স্থান পায়।

এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলাকালে সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের ছবিও বিলবোর্ডে যুক্ত করা হয়েছিল।

পরে বিলবোর্ডটি পরিবর্তন করে সেখানে শুধু সুখরঞ্জন বালী, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক এবং মেজর (অব.) বজলুল হুদার ছবি রাখা হয়। আগে থাকা অন্যদের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়।

বিলবোর্ডের অন্য অংশে শাপলা চত্বর, জুলাই আন্দোলন, লগি-বৈঠা তাণ্ডব, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, কোটা আন্দোলন এবং আয়নাঘরসহ আরও কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল।

এ ঘটনায় রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে দেখা করে কয়েকটি ছাত্রসংগঠন ও শিক্ষার্থীরা বিলবোর্ডটি অপসারণের দাবি জানান। দাবি পূরণ না হওয়ায় বিকেলে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন।

রাত পৌনে ১১টা পর্যন্ত কর্মসূচি চলার পর প্রক্টর বিলবোর্ড থেকে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি মুছে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানালে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement