ঢাবির হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্তে কমিটি

ঢাবি প্রতিনিধি
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২০: ৪৪
ফজলুল হক মুসলিম হল। (ইনসেটে) প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত
ফজলুল হক মুসলিম হল। (ইনসেটে) প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন। ছবি: সংগৃহীত

ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে ভয়ভীতি দেখানো ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাবি কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতনকে আহ্বায়ক করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক শান্টু বড়ুয়া, সহকারী প্রক্টর এনামুল হক সজীব এবং সহকারী প্রক্টর মীর মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন আলী। ফজলুল হক মুসলিম হলের সহকারী আবাসিক শিক্ষক আল আমীন সিকদার কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে গতকাল রোববার ফেসবুকে হল প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পোস্ট দেওয়ায় নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তোলেন ফজলুল হক মুসলিম হলের শিক্ষার্থী মো. ইব্রাহিম। তার ভাষ্য, তাকে আটকে রেখে ‘ভয়ভীতি’ দেখানো হয়েছে। এ সময় তার ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে শিক্ষার্থীকে মারধর বা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হলের প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন। তার দাবি, ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছেন। এ বিষয়ে কথা বলার জন্যই তাকে ডাকা হয়েছিল।

মো. ইব্রাহিম বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি তিনি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ-২’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেন। সেখানে তিনি হল প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে ইলিয়াস আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থী তার সম্পর্কে ফেসবুকে এমন কিছু লিখেছেন, যা সঠিক নয়। এ বিষয়ে জানার জন্য হল সংসদের সঙ্গে কথা বলার পর তাকে ডাকা হয়েছিল।’

শিক্ষার্থীর ফোন নেওয়ার বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বলেন, ওই শিক্ষার্থী কথোপকথন রেকর্ড করছিলেন বুঝতে পেরে তাকে ফোনটি বের করতে বলা হয়। পরে শিক্ষার্থী রেকর্ড করা বিষয়টি মুছে দেন। ওই শিক্ষার্থী লিখিত বক্তব্যে হল সংসদের ভিপি, জিএস ও এজিএসের প্ররোচণায় ফেসবুকে পোস্টটি করেছিলেন বলেও দাবি করেন প্রাধ্যক্ষ ইলিয়াস আল মামুন।

এদিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে প্রাধ্যক্ষের অফিসে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন ফজলুল হক মুসলিম হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা। পরে রাত ২টার দিকে প্রক্টর ও দুই উপ-উপাচার্য ঘটনাস্থলে গিয়ে সেখান থেকে প্রাধ্যক্ষকে উদ্ধার করেন। এ সময় হলের ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement