ভবন বানিয়ে কিছু শিক্ষক নিয়োগ দিলেই বিশ্ববিদ্যালয় হয় না: অধ্যাপক কামরুল

কয়েকটি ভবন নির্মাণ করে সেগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে কিছু মানুষকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলেই একটি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয় না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও সিনেট সদস্য ড. কামরুল হাসান মামুন। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক শর্ত হলো ‘শিক্ষকদের মান’।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক কামরুল লিখেছেন, ‘কতগুলো ভবন বানিয়ে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় নাম দিয়ে কিছু মানুষকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলেই সেটি বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে যায় না। অথচ গত ১৫ বছর, এমনকি তারও আগে থেকে এই বাংলাদেশে এটিই হয়ে আসছে। যেটি আরও ভয়ানক, সেটি হলো এটি হওয়ার হার দিন যতই যাচ্ছে বাড়ছে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে ওঠার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাথমিক শর্ত হলো শিক্ষকদের মান। সক্রেটিস কিংবা প্লেটোর মতো শিক্ষকরা তো গাছতলায়, মাঠে ও বাড়িতে পড়িয়েই একটি সভ্যতা নির্মাণ করে ফেলেছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় মানের সত্যিকারের ভালো শিক্ষক তারাই, যারা স্বাধীনভাবে গবেষণা করার সক্ষমতা রাখে।’
অধ্যাপক কামরুলের ভাষ্য, অযোগ্য মানুষ কেবল শিক্ষক হওয়ার অভিনয় করতে পারে এবং সেই অভিনয় ব্যবহার করে কত দ্রুত শিক্ষকতা ছেড়ে প্রশাসক হওয়া যায়, সেই চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘অযোগ্য শিক্ষকরা শিক্ষক শিক্ষক অভিনয়টাও ঠিকভাবে করতে পারে না, কারণ শিক্ষক হওয়ার জন্য জ্ঞান লাগে। জ্ঞান থাকলে তার আভা মানুষের চলাফেরা ও কথাবার্তায় আপনাআপনি প্রকাশ পায়। আর অযোগ্যদের যত গবেষণা বরাদ্দই দেওয়া হোক না কেন, তারা তা কেবল অপচয়ই করবে।’
এ ছাড়া অযোগ্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিলে গবেষণাপত্র প্রকাশের চাপে তাদের চৌর্যবৃত্তিতে ঝুঁকে পড়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকে বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক কামরুল। তার মতে, তারা যেখানে-সেখানে মানহীন লেখা প্রকাশ করে পদোন্নতি চায়, আর নিজেদের অজ্ঞতা ঢাকতে ক্ষমতাবান হতে চায়।
অধ্যাপক কামরুল বলেন, ‘আমাদের দেশে ক্ষমতাবান হওয়ার সবচেয়ে সহজ পথ রাজনীতি— তাই এই শিক্ষকরা তখন শিক্ষক-রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এভাবে তিনি আর শিক্ষক থাকেন না, হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ। ফলাফল: নষ্ট হয়ে যায় গোটা একটা নতুন প্রজন্ম।’
উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন
সম্প্রতি ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম উচ্চশিক্ষার মান নিয়ে অস্বস্তিকর হলেও জরুরি কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত এক নীতি সংলাপে তিনি বলেন, শুধু বাজেট বাড়িয়ে মানসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ানোর উপযুক্ত মানসিকতা ও দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক, গবেষণার সক্ষমতা এবং নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পরিবেশ— এই তিনটি বিষয়ই নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকসংকট, পর্যাপ্ত গবেষণার অভাব, স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, সনদ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়মের কারণে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। এরপরও একে একে বেড়ে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১৭টিতে।
সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট ‘ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (ইইউএসটি) ঠাকুরগাঁও’ নামের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আরও ১১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
এর আগে গত ১১ মে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, দেশে আরও বেশ কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আসার পথে রয়েছে। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান বিনিময় করিডোর উদ্বোধন ও এডুকেশন এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের ১১৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আছে। আরও বেশ কিছু আসার পথে। এর মধ্যে ৫৭টি বিশ্ববিদ্যালয় ভালো করছে।’ তবে শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিদ্যমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে হাতেগোনা ১৫টির মতো ভালো করছে। বাকিগুলো চলছে খুঁড়িয়ে, খণ্ডকালীন শিক্ষকদের কাঁধে ভর দিয়ে।














-d6864d.jpg)
-535698-256x144.webp)


-c4b23c-256x144.webp)