১০ বিষয়ে ফেল করেও পাস, পরীক্ষার্থীসহ বোর্ডের ৩ কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা

এসএসসি পরীক্ষায় ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও প্রকাশিত ফলাফলে পাস করেছেন এক শিক্ষার্থী। এমনকি তিনি দুটি বিষয়ের উত্তরপত্রে শূন্য পেলেও ফলাফলে একটিতে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছে। খাতা পুনর্নিরীক্ষার সময় নম্বরের এই অসংগতি ধরা পড়ার পর ওই শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।
মামলার আসামিরা হলেন— শিক্ষার্থী হাসিবুল আলী শোভন এবং শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও নূর হোসেন রায়হান। ফলাফলে নম্বর বাড়িয়ে শোভনকে পাস করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে ওই তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মোজাম্মেল হক বলেন, “শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি আমরা তদন্ত করছি।”
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, হাসিবুল আলী শোভন এ বছর আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, তিনি সব বিষয়ে পাস করেছেন।
ফল প্রকাশের পরদিন ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ ছিল। ওই সময় শোভনের পক্ষ থেকেও আবেদন করা হয়। পুনর্নিরীক্ষণের সময় উত্তরপত্রে পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের অমিল দেখতে পান পরীক্ষক। বিষয়টি তিনি শিক্ষা বোর্ডকে জানান। পরে অভ্যন্তরীণ তদন্তে শোভনের আরও কয়েকটি বিষয়ে একই ধরনের অসংগতি ধরা পড়ে।
মামলার বাদী ও শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন বলেন, “ওই শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের সময় খাতার নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরের মিল না থাকায় পরীক্ষক বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করেন। এরপর আমরা বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে ওই শিক্ষার্থীর আরও কয়েকটি বিষয়ে একই ধরনের ঘটনা দেখতে পেয়েছি।
তিনি বলেন, “এ প্রেক্ষিতে পাবলিক পরীক্ষা আইন অনুযায়ী কলেজ ভর্তির আগেই তার ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলা করার জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সে প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়।”
মামলায় বলা হয়েছে, শোভনের প্রকাশিত ফলাফলে ১১টি পত্রের সৃজনশীল অংশে নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা প্রথম পত্রে উত্তরপত্রে পাওয়া ২৩ নম্বরের জায়গায় ফলাফলে দেখানো হয়েছে ৩৩। দ্বিতীয় পত্রে ২৪-এর পরিবর্তে ৬২ নম্বর দেওয়া হয়েছে। ইংরেজি প্রথম পত্রে ৩৩-এর জায়গায় ৮৩ এবং দ্বিতীয় পত্রে ২০-এর পরিবর্তে ৮২ নম্বর দেখানো হয়েছে।
এ ছাড়া গণিতে ৯-এর পরিবর্তে ৬৬, ইসলাম শিক্ষায় ৭-এর পরিবর্তে ৬৪, উচ্চতর গণিতে শূন্যের পরিবর্তে ৪৬ এবং পদার্থবিজ্ঞানে শূন্যের পরিবর্তে ৪৫ নম্বর দেখানো হয়েছে। জীববিজ্ঞানে ১-এর জায়গায় ৪৬ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৪-এর পরিবর্তে ৬৫ নম্বর বসানোর অভিযোগও করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এর আগে ২০২৩ সালেও পরীক্ষার খাতায় নম্বর বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র দেবনাথের ছেলের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় নগরের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে অংশ নিয়েছিলেন নারায়ণ চন্দ্রের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ। তার জিপিএ-৫ পাওয়া নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তুললে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নক্ষত্র দেবের ফলাফল বাতিল করে শিক্ষা বোর্ড। তদন্ত কমিটি নারায়ণ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সুপারিশও করেছিল। পরে মামলার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।














