যুক্তরাজ্যগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি টাকা, ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর

ডেস্ক, রাজনীতি ডটকম
যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা। প্রতীকী ছবি
যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী ভিসা। প্রতীকী ছবি

যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে ইচ্ছুক বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা প্রমাণে আগের চেয়ে বেশি অর্থ দেখাতে হবে। এ ক্ষেত্রে লন্ডনে পড়তে চাইলে মাসে এক হাজার ৫৭০ পাউন্ড (বর্তমানে এক হাজার ৫২৯ পাউন্ড) এবং লন্ডনের বাইরে পড়তে চাইলে এক হাজার ২০৩ পাউন্ড (বর্তমানে ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড) দেখাতে হবে।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ভিসার আর্থিক শর্তে নতুন এই অঙ্ক কার্যকর হবে। মোট ৫৬টি দেশ ও অঞ্চলের জন্য অবশ্য বাড়তি টাকার এই অঙ্ক দেখানোর বাধ্যবাধকতা শিথিল করা হয়েছে, সে তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অভিবাসন বিধিমালার পরিবর্তনসংক্রান্ত নথি (এইচসি ৫৮৪) অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে নতুন অঙ্ক কার্যকর হবে। শিক্ষার্থীদের কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী অর্থ দেখাতে হবে, তবে সর্বোচ্চ হিসাব করা হবে ৯ মাসের জন্য।

অর্থাৎ, লন্ডনে ৯ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সে ভর্তি হলে জীবনযাত্রার ব্যয় হিসেবে ব্যাংকে দেখাতে হবে সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড। বর্তমানে এই অঙ্ক ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। নতুন নিয়মে বাড়ছে ৩৬৯ পাউন্ড।

লন্ডনের বাইরে ৯ মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থ দেখাতে হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড। বর্তমানে প্রয়োজন ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড। এখানে বাড়ছে ২৮৮ পাউন্ড।

কোথায় কত টাকা দেখাতে হবে

নতুন নিয়মে লন্ডনে পড়ালেখার জন্য প্রতি মাসে এক হাজার ৫৭০ পাউন্ড ও লন্ডনের বাইরে এক হাজার ২০৩ পাউন্ড দেখাতে হবে। কোর্সের মেয়াদ ৯ মাসের কম হলে তা একই অনুপাতে কমবে। যেমন— লন্ডনে ছয় মাসের কোর্স হলে ছয় মাসের হিসাবে ৯ হাজার ৪২০ পাউন্ড ও লন্ডনের বাইরে হলে ৭ হাজার ২১৮ পাউন্ড দেখাতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসনের জন্য আগে থেকেই অর্থ পরিশোধ করা থাকলে সেই পরিমাণ অর্থ জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়া যায়। তবে সর্বোচ্চ বাদ দেওয়ার সীমাও বাড়ছে। আগে এক হাজার ৫২৯ পাউন্ড পর্যন্ত বাদ দেওয়া যেত, নতুন নিয়মে তা হবে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড।

কোন তারিখ থেকে কোন নিয়ম

নতুন অঙ্ক কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর কোর্স শুরুর তারিখ নয়, ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ বিবেচনা করা হবে। ৩০ নভেম্বরের আগে আবেদন করলে পুরোনো অঙ্ক প্রযোজ্য হবে। আর ওই দিন বা তার পরে আবেদন করলে নতুন অঙ্ক অনুযায়ী অর্থ দেখাতে হবে।

তাই ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে কোর্স শুরু করার পরিকল্পনা থাকলেও কেউ যদি ৩০ নভেম্বরের আগে ভিসার আবেদন করেন, তাহলে বর্তমান অঙ্কেই আবেদন করতে পারবেন। তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ (সিএএস) এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।

দেখাতে হবে টিউশন ফিও

শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে জীবনযাত্রার ব্যয়ের অর্থের পাশাপাশি প্রথম শিক্ষাবর্ষের বকেয়া টিউশন ফি পরিশোধের সক্ষমতাও দেখাতে হবে। টিউশন ফির পরিমাণ শিক্ষার্থীর সিএএস নথিতে উল্লেখ থাকে। অর্থাৎ, জীবনযাত্রার ব্যয়ের জন্য নির্ধারিত অর্থ দেখালেই ভিসার আর্থিক শর্ত পূরণ হবে না, বকেয়া কোর্স ফির অর্থও আলাদাভাবে হিসাব করতে হবে।

এ ছাড়া প্রয়োজনীয় অর্থ টানা অন্তত ২৮ দিন ব্যাংক হিসাবে জমা থাকতে হবে। ওই ২৮ দিনের হিসাব শেষ হওয়ার তারিখ ভিসার আবেদন জমা দেওয়ার ৩১ দিনের মধ্যে হতে হবে। ফলে আবেদনের ঠিক আগে হঠাৎ করে ব্যাংকে টাকা জমা করলেই চলবে না। শিক্ষার্থী ঋণ বা বৃত্তির অর্থ দেখালে সংশ্লিষ্ট ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বা পৃষ্ঠপোষকের প্রমাণপত্র দিতে হবে।

কোন দেশের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল

যুক্তরাজ্যের নিয়মে কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ভিসা আবেদনের সময় আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। এই তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ভারত। ইউরোপের অধিকাংশ দেশ, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশসহ মোট ৫৬টি দেশ ও অঞ্চলও রয়েছে এ তালিকায়। রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাম।

তবে এই ছাড়ের অর্থ এই নয় যে এসব দেশের শিক্ষার্থীদের অর্থের প্রয়োজন নেই। যুক্তরাজ্যের ভিসা কর্তৃপক্ষ চাইলে আবেদন জমা দেওয়ার পরও তাদের কাছে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ চাইতে পারে। তখন নির্ধারিত অর্থের প্রমাণ দিতে হবে।

বাংলাদেশ এই ছাড়ের তালিকায় নেই। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও নির্ধারিত জীবনযাত্রার ব্যয়ের অর্থ এবং বকেয়া টিউশন ফির প্রমাণ দিতে হবে।

অন্যদিকে আবেদন করার আগে অন্তত ১২ মাস ধরে বৈধ ভিসায় যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন— এমন শিক্ষার্থীদের আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে না। শিক্ষার্থী ইউনিয়নের সাব্বাটিক্যাল কর্মকর্তা হিসেবেও আবেদন করলে এ শর্ত থেকে ছাড় পাওয়া যায়। একইভাবে আবাসিক স্বতন্ত্র স্কুলে বোর্ডিংসহ পড়ালেখার ক্ষেত্রে আলাদা হিসাব প্রযোজ্য।

নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার আগে আবেদন করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের সিএএস, ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় অর্থ এবং অন্যান্য নথি প্রস্তুত রাখতে হবে। আর ৩০ নভেম্বর বা তার পরে আবেদন করার পরিকল্পনা থাকলে শুরু থেকেই বাড়তি অর্থের ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad