শিশুকে কখন, কোন টিকা দেবেন?

ডা. নিশাত তাসনিম
আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৪৪
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় সরকারিভাবে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় সরকারিভাবে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। ছবি: সংগৃহীত

একটি সুস্থ ও সক্ষম প্রজন্ম গড়ে তুলতে শিশুর সময়মতো টিকাদান অপরিহার্য। জন্মের নির্ধারিত বয়সে টিকা নেওয়া শিশুকে ভয়াবহ সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

টিকাদানের সময়সূচি

বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী, জন্ম থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে মোট ১০টি রোগ প্রতিরোধের জন্য টিকা দেওয়া হয়।

জন্মের পর

  • যক্ষ্মা প্রতিরোধে বিসিজি (Bacille Calmette–Guérin)

৬, ১০ ও ১৪ সপ্তাহ

  • পেন্টাভ্যালেন্ট টিকা (DPT-HepaB-Hib: Diphtheria, Pertussis, Tetanus, Hepatitis B, Haemophilus influenzae type b)
  • ওরাল পোলিও টিকা (OPV – Oral Polio Vaccine)
  • পিসিভি (PCV – Pneumococcal Conjugate Vaccine)

৬ ও ১৪ সপ্তাহ

  • ইনজেকটেবল পোলিও (IPV – Inactivated Polio Vaccine)

৯ ও ১৫ মাস

  • হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে এমআর টিকা (MR – Measles-Rubella)

৯ মাস

  • টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV – Typhoid Conjugate Vaccine)

১০ থেকে ১৪ বছর বয়সের কন্যাশিশুদের জন্য

  • জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে এইচপিভি টিকা (HPV – Human Papillomavirus Vaccine)

১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী নারীদের জন্য

  • ধনুষ্টঙ্কার প্রতিরোধে ৫ ডোজ টিটেনাস টিকা  (Tetanus Vaccine)

এ ছাড়া বেসরকারিভাবেও কিছু টিকা দেওয়া যায়। যেমন— রোটা ভাইরাসজনিত ডায়রিয়া প্রতিরোধে রোটা ভ্যাকসিন (RotaTeq/Rotarix), চিকেন পক্স প্রতিরোধে ভেরিসেলা ভ্যাকসিন, হেপাটাইটিস ‘এ’ প্রতিরোধে হেপাটাইটিস ‘এ’ ভ্যাকসিন ইত্যাদি।

ডোজ মিস হলে করণীয় ও ঝুঁকি

যদি কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে শিশুকে টিকা দেওয়া সম্ভব না হয়, হতাশ হওয়ার প্রয়োজন নেই। দ্রুত নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। ডোজ মিস হলে শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পুরোপুরি গড়ে উঠতে পারে না এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই মনে রাখতে হবে, দেরি হলেও টিকা নেওয়া না নেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি।

টিকাদানের প্রতিবন্ধকতা

টিকা নেওয়া জরুরি হলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাবধানতাও অবলম্বন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো হলো—

  • তীব্র অসুস্থতা
  • পূর্বে টিকা নেওয়ার পর গুরুতর প্রতিক্রিয়া
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি বা ইমিউন ঘাটতিজনিত রোগ
  • প্রগতিশীল বা নিয়ন্ত্রণহীন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের রোগ

বুস্টার ডোজের প্রয়োজনীয়তা

কিছু টিকার কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে কমতে পারে। শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পুনরায় শক্তিশালী করার জন্য বুস্টার ডোজ নেওয়া প্রয়োজন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ধনুষ্টঙ্কার বা ডিপথেরিয়ার ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজ দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা নিশ্চিত করে।

Feature-Writer-Dr-Nishat-Tasnim-03-04-2026

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement