টিএসসিতে তরুণ-তরুণীকে হেনস্তা, ঢাবির তদন্ত কমিটি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০: ৫১
হাতে বাঁশ নিয়ে এক তরুণীকে আঘাত করতে উদ্যত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ছবি: ভিডিও থেকে
হাতে বাঁশ নিয়ে এক তরুণীকে আঘাত করতে উদ্যত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। ছবি: ভিডিও থেকে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকায় গভীর রাতে তরুণ-তরুণীদের হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার ভোররাতে টিএসসি এলাকায় ঘটা এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আমরা আরও সিসিটিভি ফুটেজ কালেক্ট করার চেষ্টা করছি।

“প্রাথমিকভাবে নারীদের লাঠি দিয়ে আঘাত করার কোনো কিছু সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়নি, তবে হেলমেট দিয়ে একজন পুরুষকে আঘাত করতে দেখা গেছে।”

ভিডিওতে দেখা যায়, এক তরুণ হাতে বাঁশ নিয়ে এক তরুণীকে লাথি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

এ সময় এক তরুণীকে বলতে শোনা যায়, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা সেইফ না। ৫ অগাস্টের পর আমরা সেইফ না। ভার্সিটির ছেলেরা আমাদের ধরে মারে। আমাদের ড্রেসে নাকি লেখা আছে যে আমরা প্রস্টিটিউট।”

আরেক তরুণী বলেন, “আমরা নাজিরাবাজার থেকে সেহরি করে এসে টিএসসিতে দাঁড়াইছি। আমার রাইডারকে থাপ্পড় দিছে। আমাদের প্রস্টিটিউট বলতেছে। ওরা পারে মেয়েদের গায়ে হাত তুলতে?”

ভিডিওর একপর্যায়ে আড়াল থেকে কেউ একজন ‘কোনো প্রমাণ নাই’ বলেন। তখন ওই তরুণী বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে।”

অন্য তরুণী বলেন, “আমার গালে কেন থাপ্পড় মারলো? ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছেলে হয়ে কেন মারবে? আমি আসতে পারি না? আমি বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসছি?”

অভিযোগ ওঠা দুই তরুণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তাদের একজন শাহরিয়ার ইসলাম তুষার থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, তিনি বিজয় একাত্তর হলে থাকেন। অপরজন বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ সোহান; তিনি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে শাহরিয়ার ইসলাম তুষারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অস্বীকার করেন।

তার ভাষ্য, দুই তরুণীর সঙ্গে আসা ছেলেদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হলেও কোনো নারীর গায়ে হাত তোলেননি।

“সেহরি খেয়ে আসার পথে টিএসসিতে তাদেরকে বাজে অবস্থায় দেখি এবং কথা বলে বুঝতে পারি তারা মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।”

তুষার বলেন, তাদের এ অবস্থায় দেখে তিনি তাদের পরিচয় জানতে চান। তখন তরুণীদের সঙ্গে থাকা দুই ছেলে রূঢ় আচরণ করেন।

“এ থেকে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ছেলেটার সাথে আমার হাতাহাতি হয়ে যায়। হাতাহাতির পরে মেয়ে যে ছিল, সে বারবার আমার উপর চড়াও হয়ে আসে। আমি তো আর মেয়ের সাথে মারামারি করতে পারি না, আমি জাস্ট হাত দিয়ে যখন সরাতে গেছি তখন সে দাবি করে আমি নাকি তাকে থাপ্পড় দিয়েছি।”

অভিযোগ ওঠা আরেক শিক্ষার্থী রাকিব আহমেদ সোহানকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় নারীদের সঙ্গে থাকা দুই তরুণ প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement