তেলের দাম বাড়লেও পণ্যের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না: বাণিজ্যমন্ত্রী

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে তেমন প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পণ্যের সরবরাহে বিঘ্ন এড়াতে সরকার সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে সিলেটের লাক্কাতুরা চা-বাগান ফ্যাক্টরি মাঠে চা-শ্রমিকদের মধ্যে রেইনকোট বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব যাতে অন্যান্য পণ্যের দামে না পড়ে, সে জন্য সরবরাহব্যবস্থার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। দুই দিন আগেও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আমদানিকারক ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। যোগাযোগ ও সরবরাহব্যবস্থায় কোথায় কোথায় অসংগতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সম্ভাব্য যে অভিঘাত তৈরি হতে পারে, তা কীভাবে কমানো যায়, সে জন্য আমরা কাজ করছি। মূল্য স্থিতিশীল থাকবে এবং মূল্যের ওপর তেমন লক্ষণীয় কোনো অভিঘাত আসবে না বলে আমরা আশা করছি।’
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা হয়নি— এমন অভিযোগের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। প্রায় ২০ দিন আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৮০ থেকে ৮৫ ডলারের মধ্যে থাকলেও বর্তমানে তা বেড়ে ১০৬ ডলারে উঠেছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে তাঁদের বেতন বাড়ানো হয়েছিল। এরপর ১১ বছরে মূল্যস্ফীতি ও পণ্যের দাম বেড়েছে। এ কারণে বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। তবে মূল্যস্ফীতির ওপর বড় ধরনের প্রভাব যাতে না পড়ে, সে জন্য একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বেতন-ভাতা বাড়ানো হচ্ছে।
বেসরকারি খাতের শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের বিষয়ে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত বাজারের প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সমন্বয় করে। কারণ, বাজারদরের তুলনায় কম বেতন দিলে শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব বাগানে স্কুল নেই, সেখানে প্রাথমিক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থা করা হবে। বাগানের রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সিলেট সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।















