মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সমঝোতা চুক্তি সই

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ০৮ মে ২০২৬, ১৮: ১৭
মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। ছবি: সংগৃহীত
মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্বাক্ষর করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি। ছবি: সংগৃহীত

মাদক ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে এক ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান।

আজ শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

১০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির আওতায় মাদক পাচার রোধে উভয় দেশ নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং কারিগরি সহায়তা প্রদানে একমত হয়েছে।

এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ মাদক পাচার এবং মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার রোধে একে অপরকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া মাদক পাচার অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী সংস্থা এবং পাচারের নতুন পদ্ধতি ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দুই দেশ।

চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে বলে উল্লেখ রয়েছে এতে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ।

সমঝোতা চুক্তির আওতায় মাদক পাচারকারী ব্যক্তি, অপরাধী সংগঠন, এবং মাদক লুকানোর নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে। মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং 'কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশনের'-মতো সমন্বিত অভিযান চালাবে। এছাড়াও, মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুন:প্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে এ চুক্তিতে।

আবার, লুকানো মাদক শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে। নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে এএনএফ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। আদান-প্রদানকৃত সকল তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষকে তা জানানো হবে না বলেও চুক্তিতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রাজনীতি/এসআর

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement