পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ৭ পাকিস্তানি সেনা নিহত

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন। সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে পাকিস্তানি বাহিনী ও আফগান তালেবান বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় গোলাগুলি হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা আবারও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আল-জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়েছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) আফগানিস্তানের সঙ্গে বিতর্কিত ডুরান্ড লাইনের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। বিশেষ করে খারলাচি সীমান্তগেটের কাছে তীব্র লড়াইয়ের খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তের কয়েকটি পাকিস্তানি নিরাপত্তা টাওয়ারও সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দাবি, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে ঢোকার চেষ্টা করা পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) সদস্যদের ঠেকাতে গেলে সংঘর্ষ শুরু হয়। পাকিস্তানি বাহিনী পালটা গোলাবর্ষণ করে আফগান তালেবানের কয়েকটি অবস্থানে হামলা চালায়। পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলায় কয়েকজন তালেবান যোদ্ধা নিহত এবং একটি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়েছে। তবে এসব দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনার বিষয়ে আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্ত ও নিরাপত্তা নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে, টিটিপিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদ কাবুলকে এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানালেও তালেবান সরকার পাকিস্তানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সীমান্তের পরিস্থিতি চলতি বছরও বারবার উত্তপ্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান দাবি করেছিল, আফগানিস্তান থেকে টিটিপি সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। এরপর সীমান্ত এলাকায় গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আফগান পক্ষ অবশ্য পাকিস্তানের এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সর্বশেষ সংঘর্ষ এমন একসময়ে হলো, যখন পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে সীমান্তে নতুন করে গোলাগুলি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



















