হয়রানিমূলক মামলা-গ্রেপ্তার এড়াতে সিআরপিসিতে সংশোধন: আসিফ নজরুল

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
হয়রানিমূলক মামলা-গ্রেপ্তার এড়াতে সিআরপিসিতে সংশোধন: আসিফ নজরুল

ভুয়া ও হয়রানিমূলক মামলার প্রবণতা রোধে ফৌজদারি কার্যবিধিতে (সিআরপিসি) সংশোধন আনছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রাথমিক তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে না, তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিতে ‘ধারা ১৭৩(এ)’ নামে একটি নতুন বিধান যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

আজ রোববার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই পরিবর্তন চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন আসিফ নজরুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আসিফ নজরুল বলেন, পুলিশ কমিশনার, এসপি বা এসপি পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তা যদি মনে করেন, তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় কোনো মামলার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে একটা প্রাইমারি তদন্ত প্রতিবেদন নিতে পারেন। পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা প্রাথমিক রিপোর্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জমা দেবেন। বিচারক যদি মনে করেন, কোনো মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে, তাঁদের কিছুসংখ্যকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রমাণ নেই, সাক্ষ্য নেই; তাহলে ফ্রি ট্রায়াল স্টেজে আসামির তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দিতে পারবেন।

আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা যদি দেখেন, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে অপরাধে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাঁদের আসামির তালিকাভুক্ত করতে পারবেন।

আসিফ নজরুল বলেন, যেসব মামলায় গ্রেপ্তার-বাণিজ্য হচ্ছে, মামলা-বাণিজ্য হচ্ছে, সেসবের ক্ষেত্রে আশা করছি, পুলিশ প্রশাসন ও আদালত যাঁদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্তে কোনো রকম প্রমাণ পাবে না, তাঁদের বিচার শুরুর আগেই মামলার তালিকা থেকে বাদ দিতে পারবে। পরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার সময় পুলিশ যদি দেখে যে যাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের কারও কারও ক্ষেত্রে ঘটনায় যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাহলে তাঁদের পুনরায় আসামির তালিকাভুক্ত করতে পারবে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অনেক নিরপরাধ মানুষ হয়রানি থেকে বেঁচে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, তখন মামলা-বাণিজ্য থেকে অনেকে রেহাই পাবেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, মামলার তদন্ত থেমে থাকবে। তদন্ত চলতে থাকবে। আবার পুলিশ যদি পরে দেখে, আগে যাঁদের মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে পরে প্রকৃত প্রমাণ পাওয়া গেছে, তখন তাঁদের নাম আবারও যুক্ত করতে পারবে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement