এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
এলডিসি উত্তরণ। প্রতীকী ছবি
এলডিসি উত্তরণ। প্রতীকী ছবি

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর এলডিসি থেকে উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন। মিশন এই সিদ্ধান্তকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছে। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।

সময়সীমা বাড়ানোর ফলে অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা এবং এলডিসি হিসেবে পাওয়া বাণিজ্যসুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ অতিরিক্ত তিন বছর সময় পাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে এ আবেদন করা হয়েছিল।

আবেদনের পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে সরকার তিন বছরের একটি কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করে। এতে প্রতি বছরের জন্য নির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। বর্ধিত এই সময়ে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের আবেদনের পক্ষে জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) সুপারিশ করার পর গত ২১ জুলাই বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে (ইকোসক) পাঠানো হয়। পরে ইকোসক প্রস্তাবটি সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত সময় কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানো বাংলাদেশের অন্যতম লক্ষ্য।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, বাংলাদেশ শুধু আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে এলডিসি থেকে উত্তরণ করছে না; এটি দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। তাঁর ভাষায়, এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad