বৈশাখী শোভাযাত্রায় মানুষের ঢল, গণতন্ত্র পুনরুত্থানের বার্তা

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ১৬
মঙ্গলবার সকালে ঢাবির চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা, যেখানে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের ডাক দেওয়া হয়েছে। ছবি: রাজনীতি ডটকম
মঙ্গলবার সকালে ঢাবির চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা, যেখানে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানের ডাক দেওয়া হয়েছে। ছবি: রাজনীতি ডটকম

বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-কে বরণ করে নিতে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকা অনুষদ। রাষ্ট্রীয় অতিথি ও ঢাবির শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে এ শোভাযাত্রায়।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার চারুকলা অনুষদ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়। এবারের শোভাযাত্রায় মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়ার মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছে, যার মধ্যে মোরগ প্রতীকের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক উত্তরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

গত শতক থেকেই এ শোভাযাত্রা বাংলা বর্ষবরণের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যশোরে ‘বর্ষবরণ শোভাযাত্রা’ ও ঢাকায় ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে সূচনা এ আয়োজনের। পরে এটি তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামে গণমানুষকে বৈশাখের ডাকে এক করে এসেছে। ২০১৬ সালে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ নামেই ইউনেসকো একে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

বৈশাখী শোভাযাত্রায় সব শ্রেণিপেশা ও ধর্মবর্ণের মানুষের ঢল। ছবি: রাজনীতি ডটকম
বৈশাখী শোভাযাত্রায় সব শ্রেণিপেশা ও ধর্মবর্ণের মানুষের ঢল। ছবি: রাজনীতি ডটকম

গত বছর থেকেই ফের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম নিয়ে টানাটানি শুরু হয়েছে। গত বছর এ আয়োজন হয়েছে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নামে। এবার সে নাম বদলে হয়েছে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। তবে নাম যা-ই হোক, বঙ্গাব্দ বরণে সর্বস্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি এবারও মুখরিত করেছে এ আয়োজনকে।

‘নববর্ষের সুরে ঐক্য, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ’ প্রতিপাদ্যে এবারের ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’য় মোরগকে ব্যবহার করা হয়েছে গণতান্ত্রিক ভোরের প্রতীক হিসেবে। এ ছাড়া হাতি সোনারগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী মোটিফের স্মারক, পায়রা শান্তির প্রতীক, টেপা পুতুল-ঘোড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যের নির্দেশক, আর দোতারা বাউল সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

এই পাঁচ মোটিফের সঙ্গে রয়েছে পাঁচটি পটচিত্রও। টাইগার নাজিরের এসব পটচিত্রে উঠে এসেছে দেবী বনবিবি, বাংলা নববর্ষের প্রবর্তক মুঘল সম্রাট আকবর, বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, লোকচিত্রকলা গাজীর পট এবং মঙ্গলকাব্য মনসামঙ্গলের চরিত্র বেহুলার মতো সব বিষয় ও চরিত্র।

ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। ঢাবির শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের হাজারও মানুষ এতে অংশ নেন। রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলায় গিয়ে শেষ হয় শোভাযাত্রা।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement