ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি কাদের, জানতে চেয়েছে সরকার

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে যারা চাকরিসহ বিভিন্ন ধরনের সুবিধা নিয়েছেন, তাদের তথ্য সরকার জানতে চেয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি জানিয়েছেন, বিভিন্ন দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত তথ্য আসতে শুরু করেছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
নেত্রকোনার সংসদ সদস্য হিলালি সংসদে প্রশ্ন রাখেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে অনেকে চাকরি ও ভাতাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অনেকের সন্তান ও নাতি-পুতিরা পর্যন্ত চাকরি নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সরকার কী ধরনের ব্যবস্থা নেবে?
রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, ‘আমার নির্বাচনি এলাকায় একজন সরকারি কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। ওই ভাতা, সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন। অভিযোগ দাখিলের পর প্রমাণিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে যে সব সুযোগ-সুবিধা উনি পেয়েছেন, এগুলা উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?
এমপি হিলালী আরও বলেন, পাশাপাশি অনেকের সন্তান-সন্ততি, নাতি-পুতি যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য কোনো তদন্ত কমিটি হয়েছে কি না এবং হয়ে থাকলে কী অবস্থায় আছে, সেটি একটু জানতে চাচ্ছি।
এ প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান জানান, মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে ফ্যাসিবাদের আমলে চাকরি নেওয়া হতো। এ ধরনের অভিযোগ পেলে তা প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের এই দেশপ্রেমিক নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সব মন্ত্রণালয়, সব অধিদপ্তর ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় আমরা চিঠি দিয়েছি জানার জন্য— কে কে মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি নিয়েছে এবং কাদের কাদের সন্তানেরা মুক্তিযুদ্ধের সার্টিফিকেট নিয়ে চাকরি নিয়েছে।
আহমেদ আযম খান বলেন, এই চিঠির জবাব আসতে শুরু করেছে। জবাব আসার পর যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

















