বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুল করেননি— প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন হিন্দু নেতারা

বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন ভুল করেননি, তা সরকার নানা কার্যক্রমে প্রমাণ করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা। তারা বলেছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তারা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেসউইংয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মূলত শারদীয় দুর্গাপূর্জা উপলক্ষ্যে ঢাকা-১৭ আসনের আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা এ দিন দেখা করেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। তাকে পূজার আমন্ত্রণও জানান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা বলেন, তাদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে না। বিএনপিকে ভোট দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন যে ভুল করেনি, তা এই সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরপর বারবার প্রমাণিত হচ্ছে। সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে আমার দায়িত্ব। ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
মতবিনিময়ে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর হিন্দুদের কল্যাণে সরকারের নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন নেতারা। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়িয়ে দেওয়ায় তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
এ সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’
একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন ও ২০২৪ সালের অভ্যুত্থানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’
ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারেক রহমান। বলেন, তার মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তেমনি হিন্দু কর্মীরাও একইভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহ তায়ালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘একজন দেশের নাগরিক হিসেবে, একজন মানুষ হিসেবে আপনার যে অধিকার, আপনার যা প্রাপ্য, সরকারপ্রধান হিসেবে আমার যে কর্তব্য, আমি সেটাই পালন করার চেষ্টা করছি।’ প্রত্যেক নাগরিকের ন্যায্য প্রাপ্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূর্জা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস, রাজিব কুমার আচার্য উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ৎঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি ও বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতনও উপস্থিত ছিলেন।
















-af5c8f-256x144.webp)
