হাতকড়া-শিকল পরিয়ে ৩১ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
সামরিক বাহিনীর বিশেষ এক চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩১ অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে তাদের নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত
সামরিক বাহিনীর বিশেষ এক চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩১ অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার রাতে তাদের নিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। ছবি: সংগৃহীত

আরও ৩১ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফেরত আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তাদের হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে এ বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ২৫৭ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হলো, যাদের বেশির ভাগকেই ফেরত পাঠানোর সময় হাতকড়া ও শিকল পরানো হয়েছিল।

সোমবার (৮ ডিসেম্বর) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশেষ সামরিক ফ্লাইটে এই ৩১ বাংলাদেশিকে নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। দেশে পৌঁছানোর পর তাদের পরিবহন ও জরুরি সহায়তা দিয়েছে ব্র্যাক।

ফেরত আসা বাংলাদেশিরা জানিয়েছেন, তাদের বেশির ভাগই নোয়াখালীর বাসিন্দা। সিলেট, ফেনী, শরিয়তপুর ও কুমিল্লারও কয়েকজন রয়েছেন। সবাইকে প্রায় ৬০ ঘণ্টা হাতে হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে রাখা হয়েছিল। ঢাকায় বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর তাদের শিকলমুক্ত করা হয়।

ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বে থাকা সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, এই ৩১ জনের মধ্যে অন্তত সাতজন জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিল গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। তারা সেখানে বসবাসের জন্য আবেদন করলে সে আবেদন খারিজ করে দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাতকড়া ও পায়ে শিকল পরিয়ে রাখার ঘটনা অমানবিক উল্লেখ করে ব্র্যাকের এই কর্মকর্তা বলেন, আমরা আগেও বলেছি, ব্রাজিলে যাদের কাজের নামে পাঠানো হচ্ছে, তাদের অধিকাংশ ব্রাজিল থেকে মেক্সিকো হয়ে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। এ জন্য একেকজন ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচ করছেন, কিন্তু ফিরছেন শূন্য হাতে। এর পেছনে যারা আছে তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত।

এর আগে এ বছরের ২৮ নভেম্বর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৩৯ জন, ৮ জুন আরেকটি চার্টার্ড ফ্লাইটে ৪২ জন এবং ৬ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত একাধিক ফ্লাইটে আরও অন্তত ৩৪ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করায় তাদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য দেশের বৈধ অভিবাসী যারা রয়েছেন তাদের অভিবাসনও নতুন করে পর্যালোচনার কথা জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement