বাজেট ইতিবাচক, বাস্তবায়নের উপায় বলা নেই: সিপিডি

প্রতিবেদক, রাজনীতি ডটকম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিপিডি।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সিপিডি।

দুই দশক পর বিএনপি সরকারের প্রণয়ন করা বাজেটকে ‘ইতিবাচক’ হিসেবেই গ্রহণ করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। তবে এ বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার কোনো রূপরেখা বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। প্রস্তাবিত বাজেটে কিছু কিছু প্রাক্কলন, পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ বাস্তবসম্মত নয় বলেও পর্যবেক্ষণ সিপিডির।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে রাতে ধানমন্ডিতে নিজস্ব কার্যালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এ সময় সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, লক্ষ্যমাত্রা যদি বাস্তবসম্মত না হয়, তখন বাস্তবায়নও সম্ভব হয় না। যখনই বাস্তবায়ন করা যায় না, তখনই বাজেটের শৃঙ্খলা নষ্ট হয়। তখন বাজেটে কোথা থেকে আয় আসবে, কোথায় ব্যয় হবে, এমন অনেক শৃঙ্খলার অভাব দেখা দেয়।

বাজেট বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট নির্দেশনার ঘাটতির কথা তুলে ধরে ড. ফাহমিদা বলেন, বর্তমানে কঠিন বিষয় হলো— একদিকে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা পুনর্প্রতিষ্ঠা করা, অন্যদিকে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগকে পুনরুজ্জীবিত করা। সবচেয়ে আগে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপটা কমাতে হবে।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেটে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে আগামী অর্থবছরের জন্য। এ বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, চলতি অর্থবছরে যে ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত রয়েছে, সেটির সঙ্গে আরও প্রায় দেড় শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এখন প্রবৃদ্ধি যদি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বা ৬ শতাংশ করতে চাই, সেক্ষেত্রেও কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে।

বেসরকারি বিনিয়োগে গতিশীলতা আনা, শিল্পের উৎপাদন বাড়ানো ও রপ্তানি গতিশীল করাকে প্রবৃদ্ধি বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন ড. ফাহমিদা। তিনি বলেন, কেননা বর্তমানে বিনিয়োগ পরিস্থিতি যে অবস্থায় রয়েছে, কিংবা আর্থিক খাতে যে দুর্বলতা রয়েছে, এর পাশাপাশি জ্বালানিসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে আমাদের এই প্রবৃদ্ধি অর্জন করাটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।

মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে সিপিডির এই নির্বাহী পরিচালক বলেন, মূল্যস্ফীতি বর্তমানের প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ। সেখান থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ নামিয়ে আনতেও কিছু পূর্বশর্ত রয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে টাকার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার হার স্থিতিশীল করতে হবে, খাদ্য সরবরাহ ও কৃষি সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করতে হবে, জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং মুদ্রানীতিকে যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে। ব্যয়ের বিপরীতে আয় বাড়াতে পারলে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারলে এবং সঠিক জায়গায় বিনিয়োগ করতে পারলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

রাজস্ব প্রাক্কলন নিয়েও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন ফাহমিদা খাতুন। বলেন, ঐতিহাসিকভাবে আমাদের রাজস্ব আহরণে দুর্বলতা রয়েছে। প্রতিবছরই উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা অর্জন করতে পারে না। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা যদি অর্জন না হয়, সরকারকে ব্যাংক থেকে ধার নিতে হবে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাজেটে অর্থনীতির স্থিতিশীলতা, প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক দিক থেকেই নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে যেই বিষয়গুলো ছিল, সেই বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থনীতির গণতান্ত্রিকরণ, কর্মসংস্থান তৈরি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, বেসরকারি খাত নির্ভর প্রবৃদ্ধি ও সুশাসনে জোর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়ন কীভাবে করা হবে, তার কোনো ঘোষণা নেই বাজেটে।

Ad
ad
Ad 300x250

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

Ad 300x250
ad
Advertisement