হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি

হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা ও নদীর পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে কৃষকদের ফসল নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতীয় কৃষক সমিতি। পাশাপাশি ধানের লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনাসহ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তির নামে কৃষি ও কৃষক ধ্বংশের চক্রান্ত রুখে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সমিতির নেতারা।
শনিবার (৯ মে) বিকেলে জাতীয় কৃষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এক মিছিল ও মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
মিছিলটি সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয় ৩০ তোপখানা রোড থেকে শুরু করে পল্টন মোড় হয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
মানববন্ধনে সভাপতির বক্তৃতায় জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, হাওর অঞ্চলে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যায় কৃষকরা ব্যাপক ফসল বিনষ্টের শিকার হয়েছেন। অথচ সরকার এখনো ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রর্যপ্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত কতে পারেনি। ফলে কৃষক পরিবারগুলো চরম সংকটে দিন কাটাচ্ছে। তাই জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রত্যেককে নূন্যতম ২০ হাজার নগদ টাকা অবিলম্বে দিতে হবে।
মাহমুদুল হাসান মানিক আরও বলেন, কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের কারণে কৃষকের উৎপাদিত ধান কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। তাই অবিলম্বে ধানের বাজারে কৃষকের লাভজনক মূল্য দিতে হবে এবং সরকারি উদ্যোগে কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনার ব্যবস্থা করতে হবে।
মানববন্ধনে অন্যান্য বক্তারা বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে করা অসম বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। এ ধরণের চুক্তি দেশের কৃষি ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর এবং তা দেশীয় উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলবে।
মানববন্ধনে উপস্থিত নেতারা অবিলম্বে কৃষকদের স্বার্থে তাদের উত্থাপিত দাবি বাস্তবায়নে জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। তা না হলে জাতীয় কৃষক সমিতি সারা দেশে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধন পরিচালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপংকর সাহা দীপু। মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজু এবং জাতীয় কৃষক সমিতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোস্তফা আলমগীর রতন।
জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় নেতা হবিবর রহমান, তারভির রুসমত, সাইদুর রহমান, রাজিয়া সুলতানা, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহার, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার, সহসাধারণ সম্পাদক সাহানা ফেরদৌসি লাকী, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক তাপস দাস, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি অতুলন দাস আলোসহ অন্যরা মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন।














-463252-256x144.webp)

-c173ff-256x144.webp)
-f7dee2-256x144.webp)

