লাওসের শ্রমবাজার বন্ধ: কর্মীদের না যাওয়ার পরামর্শ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) ও প্রবেশ ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। এ অবস্থায় লাওসে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি কর্মীদের আপাতত দেশটিতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাওসে কাজের সুযোগ নিয়ে প্রচারিত তথ্যের বিষয়ে দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। বিষয়টি যাচাই করতে দূতাবাস লাওসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ‘লাওস সরকার সে দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রমবাজার বন্ধসহ কাজের অনুমতিপত্র এবং প্রবেশ ভিসা (এলএ-বি২) ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে।’ এ অবস্থায় দেশের জনগণকে কোনো ধরনের প্রলোভন, ভুয়া ভিসা বা অননুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির চক্রান্তে না পড়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞা ১ সেপ্টেম্বর থেকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লাওসে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, যেকোনো ভিসা বা চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত তথ্যসূত্রের মাধ্যমে তা যাচাই-বাছাই করতে হবে।
৭১৫ জন কীভাবে বিএমইটির ছাড়পত্র পেলেন?
তবে মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে শ্রমবাজার ও ভিসা কার্যক্রম স্থগিত থাকার কথা বলা হলেও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্যে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভিসা কার্যক্রম বন্ধ থাকার সময়েও গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে লাওসে যাওয়ার জন্য ৭১৫ জন কর্মী ছাড়পত্র পেয়েছেন।
এ বিষয়ে বিএমইটির বহির্গমন শাখার উপপরিচালক মিজানুর রহমান সোমবার দুপুরে বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, যাদের আগেই ভিসা ছিল, তাদের এটা অ্যাটাস্টেড ছিল। অর্থাৎ যারা বাজার বন্ধ হওয়ার আগেই ভিসা পেয়েছিলেন, তাদেরকেই এই সময়ে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। নতুন করে কাউকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।’














