প্রধানমন্ত্রী দিল্লি গেলে আমিই ব্রিফ করব: প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর চূড়ান্ত হলে নিজেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। এই খবরের জন্য ভারতের গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর না করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখন দিল্লি থেকে যদি বাংলাদেশের খবর নেন, তাহলে হবে? বাংলাদেশ থেকে তো বাংলাদেশের খবর নিতে হবে। বাংলাদেশ থেকে যখন প্রধানমন্ত্রী যাবেন, আমি আপনাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিফ করব, আপনারাই প্রথম শুনবেন।’
সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে’র সমাপনী দিনে বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওপর আস্থা রাখতে বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা অবশ্য দীর্ঘদিনের। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই ভারত সরকারের তরফে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। পরে গত মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সামনে রেখেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে না না, মূলত আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানায় ভারত।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আশ্বস্ত করেছিলেন, ব্রিকসের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের সংযোগ ঘটিয়ে দেবেন। ফলে ব্রিকস সম্মেলনের সময় তারেক রহমানের ভারত সফরের গুঞ্জনের পালে হাওয়া লাগে। এ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ও ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকেও বহু প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ, তারেক রহমানের ভারত সফরে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া না দেওয়ার পাশাপাশি ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে সরাসরি বক্তব্য দেওয়া ও সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেওয়ার ইস্যু। এ নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা ঝুলে থাকলেও এ নিয়ে নিশ্চিত খবর কখনোই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মেলেনি। তবে নানা সূত্রের বরাতে ভারতের একাধিক গণমাধ্যমে এর মধ্যে দফায় দফায় এই সফরের সম্ভাব্য দিনক্ষণ নিয়ে প্রতিবেদন এসেছে। এ ইস্যুতে এসব সূত্রের ওপর ভরসা না করে এবার তার ওপরই ভরসা করতে বললেন হুমায়ুন কবির।
এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরে ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তার সর্বোত্তম সুরক্ষা নিশ্চিত করেই বাংলাদেশ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। বাংলাদেশের স্বার্থের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, সেটিই করা হবে।
গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তিতে ভবিষ্যৎ ব্যবস্থায় কোনো গ্যারান্টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না— এমন প্রশ্নেরও নির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি আবারও বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান নির্ধারণে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তাই প্রাধান্য পাবে।’
বাংলাদেশ-ভারত সংলাপের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। উচ্চপর্যায়ের সংলাপ সাধারণত সফরের ওপর নির্ভর করবে। এর আগে সরকারি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। উচ্চপর্যায়ের সফর হলে উচ্চপর্যায়ের সংলাপ হবে। অন্যথায় সরকারি পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে আগে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপাক্ষিক সংলাপ এগিয়ে চলছে। তবে এ ধরনের প্রক্রিয়া রাতারাতি সম্পন্ন করা যায় না কিংবা হঠাৎ একটি তারিখ নির্ধারণ করেও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।














-463252-256x144.webp)


-f7dee2-256x144.webp)


